,

সর্বশেষ :
বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে করোনায় প্রাণ হারানো শিক্ষকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এডঃ এম.এ খালেকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল রাজবাড়ী সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এডঃ এম এ খালেকের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ রাজবাড়ীতে কাজ শেষ না হতেই ৩৭৬ কোটি টাকার বাঁধে ভাঙন ফেসবুক গ্রুপ ‘বসন্তপুর লাইভ’-এর পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীর বসন্তপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ রাজবাড়ীর বসন্তপুর ও আলীপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ রাজবাড়ীর বসন্তপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাজবাড়ী জেলা বারের আইনজীবী সুদীপ্ত গুহের স্থগিত হওয়া ‌’সদস্যপদ পুনর্বহাল’ রাজবাড়ী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক হলেন রিয়ান

বসন্তপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বিতাড়িত

News

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের ধুলদী লক্ষীপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে মোছা. মুন্নী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে নাবালিকা দুই মেয়েসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে যৌতুকলোভী স্বামী ও শ্বাশুরবাড়ির লোকজন।

গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ দিন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন নির্যাতনের শিকার মুন্নী বেগম। এ ঘটনায় যৌতুকলোভী স্বামী মোঃ ফরিদুল ইসলাম মৃধা (৪৫), ভাসুর নজরুল ইসলাম মৃধা (৪৭) ও জা ফরিদা বেগমের (৪৫) নামে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুন্যালে একটি মামলা দায়ের করেছেন মুন্নী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বসন্তপুর ইউনিয়নের ধুলদী লক্ষীপুর গ্রামে মৃত বাবর আলী মৃধার ছেলে মো. ফরিদুল ইসলাম মৃধার সাথে একই গ্রামের এম,এম, এ মাসুদুন নবীর মেয়ে মুন্নী বেগমের ২০০১ সালের ২৯শে জুন ইসলামী শরীয়া অনুসারে এবং রেজিষ্ট্রিকৃত কাবিননামা মূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে দু’টি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। মেয়ে দু’টির বর্তমান বয়স ৯ ও ৪ বছর। বিয়ের পর থেকেই ফরিদুল তার বড়ভাই নজরুল ও ভাবী ফরিদার কু পরামর্শে মুন্নীর কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক না দেওয়ায় ফরিদুল ও তার ভাই-ভাবী মিলে প্রায়ই মুন্নীকে অমানুষিক শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফরিদুল ও তার ভাই-ভাবী মুন্নীকে আবারও শারীরীক নির্যাতন করে নাবালিকা দুই মেয়েসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। নিরুপায় মুন্নী মেয়েদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এক পর্যায়ে মুন্নীর মা মোছা. মঞ্জুয়ারা বেগম মুন্নীকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ফরিদুলকে অনুরোধ করলে গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি ফরিদুল এবং তার ভাই নজরুল ও ভাবী ফরিদা মুন্নীদের বাড়িতে যায়। সেময় ফরিদুল ও তার ভাই-ভাবীকে মুন্নী খাবার আপ্যায়ন করতে গেলে তারা জানায় তিন লাখ টাকা যৌতুক পেলেই তারা খাবার খাবে এবং মুন্নীকে ঘরে ফিরিয়ে নিবে। মুন্নী ও তার মা যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে ফরিদুল ও তার ভাই-ভাবী মুন্নী ও তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। মুন্নী ও তার মা গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করলে ফরিদুল কাঠের বাটাম দিয়ে মুন্নীর মাথায়, পিঠে, বুকে ও পেটে বেধরক মারপিট করে। মুন্নীর মা ঠেকাতে গেলে ফরিদুলের ভাই-ভাবী তাকেও ধরে মারপিট করে। এক পর্যায়ে মুন্নী ও তার মায়ের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ফরিদুল ও তার ভাই-ভাবী চলে যায়। যাবার সময় বলে যায়, তিন লাখ টাকা যৌতুক পেলেই তারা মুন্নীকে সন্তানসহ ঘরে ফিরিয়ে নিবে। নাহলে ফরিদুল প্রচুর পরিমাণ যৌতুক নিয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করবে।

এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা মুন্নীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে মুন্নী পাঁচ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকেন। পরে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় গত ২রা মার্চ রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুন্যালে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নারী সহায়তা কেন্দ্রকে ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ২০শে এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাবার বাড়িতে অবস্থানরত মুন্নী বেগম বলেন, মামলা করার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ফরিদুল ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। গত ২৩শে মার্চ সন্ধ্যায় ফরিদুল ও তার ভাই নজরুলসহ ৪-৫জন লাঠিশোটা নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে হামলা চালায়। সেসময় আমরা ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে আত্মরক্ষা করি। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যায়। যাবার সময় হুমকি দিয়ে যায়, আমি মামলা তুলে না নিলে তারা আমাকে মেরে ফেলবে। ঘটনাটি আমি তাৎক্ষণিক সদর থানার ওসি সাহেবকে জানাই। বর্তমানে আমি ঘুব আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছি। 

২৩শে ফেব্রুয়ারি স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে মুন্নী বেগম ৫ দিন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। কিছুটা সুস্থ্য হলে ২৭শে ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর