,

দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তাকে ভৎর্সনা করেছেন আদালত

News

নিউজ ডেস্ক ::  নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যাসহ পুরো ঘটনাপ্রবাহ তদন্ত করতে হাইকোর্ট আদেশ দেন। সময়মতো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ওই আদেশ না পৌঁছানোয় দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তাকে ভৎর্সনা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে এক কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এদিকে গতকাল দুপুরে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে সাত সদস্যের সরকারি কমিটিকে এবং ওই ঘটনায় র‌্যাবের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা বিভাগীয়ভাবে তদন্ত করতে র‌্যাবের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ৫ মে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। ৬ মে এই আদেশ স্বাক্ষর করে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু এ আদেশ সময়মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেনি। এ অবস্থায় আদেশ পাঠানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার শরিফ উদ্দিন আহমদ ও ফৌজদারি বিবিধ শাখার তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ হোসেন মিয়াকে তলব করেন আদালত। এ নির্দেশে ওই দুই কর্মকর্তা বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চে হাজির হন। এরপর আদালত তাঁদের কাছে আদেশ বিতরণে দেরির কারণ জানতে চান। কিন্তু তাঁরা সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারায় আদালত তাঁদের ভৎর্সনা করেন। এরপর মোহাম্মদ মিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। এ ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় মোহাম্মদ মিয়া হোসেনকে শোকজ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার। নোটিশে আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পরও কেন সময়মতো তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়নি তার জবাব দিতে বলা হয়েছে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে ছয় কোটি টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ বিষয়ে  বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন। এসব সংবাদপত্র আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামীম সরদার। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তাঁর গাড়িচালক ও তিন সহযোগী। এ ঘটনার স্বল্প সময়ের মধ্যে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার। এরপর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে ডিবি। এ মামলায় আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে চন্দন কুমার সরকারের হত্যার বিচারের দাবিতে বার কাউন্সিলের ডাকে গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ সারা দেশে সব আইনজীবী সমিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন আইনজীবীরা।/

/স্বপ্ন /

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর