রাজবাড়ীতে সাপের খামারে গোখরার ডিম

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ ,২৩ মে, ২০১৪ | আপডেট: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ ,২৩ মে, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ী ডেস্ক : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাঁসাদহ গ্রামের কয়েক যুবকের গড়ে তোলা পরীক্ষামূলক সাপের খামারের ৩৫টি গোখরা সাপের একটি সম্প্রতি ডিম দিয়েছে। খামার শুরুর প্রাথমিক পর্যায়েই সাপ ডিম দেওয়ায় উদ্যোক্তারা বেজায় খুশি। ওই যুবকরা একই সঙ্গে আদর্শ জৈব সার উৎপাদন করেও অর্থ উপার্জন করছেন।

ওই সাপের খামারের দায়িত্বে থাকা রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে(স্নাতকোত্তর) অধ্যয়নরত তন্ময় সরকার বলেন, এক সপ্তাহ আগে রাত জেগে তাঁরা খামারটির পরিচর্যা করছিলেন। ভোর রাতের দিকে তাঁরা দেখেন, প্লাস্টিকের খাঁচার মধ্যে একটি গোখরা সাপ সাদা কী যেন পেঁচিয়ে বসে আছে। কাছে গিয়ে সবার চোখ ছানাবড়া। সাপটি ১৫টি ডিম পেড়ে তা নিয়েই বসে আছে। এ দৃশ্য দেখে তাঁরা রীতিমতো আনন্দে আত্মহারা। ডিমগুলো দেখতে মুরগির সাদা ডিমের চেয়ে খানিকটা ছোট। তন্ময় সরকার বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাপের ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা অনেকটাই সহজ। তবে এ-সংক্রান্ত সরঞ্জামের দাম অনেক। যে কারণে সনাতন পদ্ধতিতে তাঁরা একটি গামলার মধ্যে দুই ধরনের মাটি ব্যবহার করে ডিমগুলো ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রেখেছেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল থার্মোমিটার। ডিমগুলো নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই ডিমগুলো থেকে বাচ্চাবের হতে পারে। তাঁদের খামারের ৩৫টি গোখরার বেশির ভাগই স্থানীয় বাসাবাড়ি থেকে উদ্ধার করা। আরো কয়েকটি সাপ শিগগিরই ডিম দেবে বলে তিনি মনে করেন।

তন্ময় বলেন, ‘রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. নুরুজ্জামান আমাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাদিচ্ছেন। পটুয়াখালীর এক সাপের খামারের মালিক আবদুর রাজ্জাকও আমাদের সহায়তা করছেন। তাঁদের পরামর্শ মতো আমরা কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে আমরা দেশীয় প্রজাতির ২০টি গোখরা সাপ স্থানীয় সাপুড়ে ও বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করি।

‘ খামারের অন্যতম উদ্যোক্তা কাঁসাদহ গ্রামের রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিক বলেন, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে জৈব সার ও সাপের খামারের কিছু তথ্য পাই। পরে যোগাযোগ করি ঝিনাইদহের জৈব সার খামারি হেলাল উদ্দিন এবং পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। হেলাল উদ্দিনের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের খ্যাতিমান কৃষিবিজ্ঞানী এম গুল হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে গত বছরের প্রথম দিকে গড়ে তুলি কেঁচো জৈব সার ও সাপের খামার। এক একর জমিতে আটজন শিক্ষিত বেকার যুবক ওই কাজ শুরু করি। খামারের স্থাপনা নির্মাণসহ ইতিমধ্যে এখানে আমরা প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। আমরা আশাবাদী, আগামী বছর থেকে শুধু জৈব সার উৎপাদন করে বছরে দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করা যাবে। এ ছাড়া হাঁস, কবুতর, মাছসহ অন্যান্য উপার্জনের ক্ষেত্র তো রয়েছেই।

‘ রঞ্জু মল্লিক আরো বলেন, ‘প্রথমে ঝিনাইদহ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে পাঁচ কেজি কেঁচো কিনে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করি। বর্তমানে এখানে কেঁচোর পরিমাণ ৩০ কেজি হবে। প্রতি মাসে সার পাচ্ছি ১২ থেকে ১৫ মণ, যা দিয়ে অর্থ উপার্জন হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ মাসে ১২০ মণ জৈব সার উৎপাদন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’


এই নিউজটি 1807 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments