রাজবাড়ি শহরের সজ্জনকান্দায় বিভিন্ন নারী-পুরুষ ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হিন্দু দম্পতি উধাও

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ ,৩০ মে, ২০১৪ | আপডেট: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ ,৩০ মে, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ি শহরের বিভিন্ন নারী-পুরুষ ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঢাকা দিয়েছে স্বপন কুমার ধর (৪০) ও শিপ্রা রানী (৩৫) নামের এক দম্পতি। স্বপন কুমার পেশায় মোটর ম্যাকানিজ ও শিপ্রা গৃহিনী। তারা শহরের সজ্জনকান্দা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতো। স্বপন কুমার ফরিদপুর জেলার ধূলদি রেলগেট এলাকার মৃত মাখন মিস্ত্রির ছেলে ও শিপ্রা রাজবাড়ি শহরের ভবানীপুর (থানার পিছনে) গ্রামের রবি মালাকারের মেয়ে। তারা কারো সাথে মা, কারো সাথে বোন এবং কারো ভাই বানিয়ে সু-কৌশলে এ কাজটি করে। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই এখন পথের ভিক্ষারী হয়েছেন এমনকি দু’একজনের সংসারও ভাঙ্গতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূক্তভোগীদের মধ্যে সজ্জনকান্দা গ্রামের রিক্সা চালক শাহিন ব্যাপারীর স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৪৫) জানান, স্বপন-শিপ্রা দম্পতি প্রায় ১২ বছর ধরে এ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। স্বপনের রাজবাড়ি শহরের শ্রীপুর কাদেরীয়া বেকারীর পাশে একটি মোটর গ্যারেজ আছে। তারা এলাকায় সবার সাথে ভাল আচরন ও মিষ্টি সুলভ কথাবার্তা বলে অনেকের মন জয় করে নেয়। এছাড়াও তারা কারো সাথে মা, কারো সাথে বোন ও কারো সাথে ভাই সর্ম্পক গড়ে তোলে। এরপর তারা ব্যবসায় টাকা লাগবে বলে তার (জাকিয়া) কাছে টাকা ধার চায়। তাদের প্রতি তিনি এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে সমিতি থেকে টাকা উত্তোলন করে তাদের দেন। তারা টাকা পরিশোধও করে। এভাবে চলতে থাকে কয়েক বছর। সর্বশেষ সম্প্রতি বিভিন্ন সমিতির কাছ থেকে ১লক্ষ ও সুদের কারবারীদের কাছ থেকে ১০% লাভে ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তাদের দিয়েছিলেন।
একই গ্রামের মৃত আঃ গফুর খানের ছেলে অটো মালিক ও চালক বকুল খান (৪০) জানান, ঠিক একই কায়দায় তিনি ব্যুরো বাংলা, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, সিএসএস, ভিপিকেএ, শক্তি ফাউন্ডেশন, নীড় সমবায় সমিতি ২লক্ষ ২০ হাজার ও ধান এবং সুদের উপরে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মোট সাড়ে ৩লক্ষ টাকা তাদেরকে দিয়েছেন।
রহমত মোল্লার স্ত্রী মেহেরুন বেগম জানান, স্বপন-শিপ্রার জালে আটকেছেন তিনিও। তার স্বামী চট্রগাম প্রগতি বেকারীতে চাকুরী করেন। তাদের সাথে আমার এতোটাই ভাল সর্ম্পক ছিল যে স্বামীর অজান্তেই নীড় সমবায় সমিতি থেকে ২৫ হাজার ও সুদের উপর ৫ হাজার মোট ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে স্বপন-শিপ্রাকে দিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন একই গ্রামের মৃত তাহের মোল্লার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫)। তিনি জানান, ছেলেদের আয়ের টাকাতেই তিনি খেয়ে পড়ে বাঁচতেন। ছেলেদের জমানো ৯০ হাজার টাকা তাদের না জানিয়ে ও সিএসএস নামক একটি সমিতি থেকে আরো ৭ হাজার টাকা মোট ৯৭ হাজার টাকা দিয়েছেন স্বপন-শিপ্রা দম্পতিকে। এখন তারা পালিয়ে যাওয়ায় ছেলেরা তাদের স্ত্রীকে তালাক এমনি নিজেদেরও আত্মহত্যারও হুমকি দিচ্ছে। ফলে তিনি এখন মহাবিপদের মধ্যে পড়েছেন।
একই অবস্থা কাঠ বেপারী রহম আলীর স্ত্রী আয়শা বেগমের (৫৫)। ভিপিকেএ, সিএসএস, গ্রামীণ ব্যাংক, এসডিসি, ব্যুরো বাংলা সমিতি থেকে উত্তোলন করেছেন ৮০ হাজার টাকা এবং নিজের জমানো থেকে ২০ হাজার মোট ১লক্ষ টাকা দিয়েছেন স্বপন-শিপ্রাকে।
এছাড়াও সজ্জনকান্দা গ্রামের নুর মোহাম্মদ (৭০) এর কাছ থেকে ২লক্ষ টাকাসহ একই এলাকায় আরো প্রায় ৪০/৫০ এবং বিভিন্ন সমিতি থেকে প্রায় ৫০লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বপন-শিপ্রা দম্পতি।
ভূক্তভোগীরা আরো জানায়, স্বপন-শিপ্রা এতোজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তারা আগে কেউ জানতো না। এমনকি সবাই একই এলাকার হলেও কেউ আগে কারো কাছে কিছু বলেনি। গত ২৫মে তারা গ্রামের বাড়ীতে টাকা আনার কথা বলে বাসায় তালা মেরে চলে যায়। এছাড়াও স্বপনের শ্রীপুরের গ্যারেজে গিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তাদের ৩টি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তারা ফিরে না আসায় তাদের প্রতি সবার সন্দেহ হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ঘটনার পর পুরো সজ্জনকান্দা এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়।
ভূক্তভোগীরা আরো জানান, বিভিন্ন সমিতি এবং সুদের উপরে নিজেদের নাম দিয়ে তাদেরকে টাকা দিয়েছি। এখন আমরা কিভাবে কিস্তির টাকা পরিশোধ করবো এবং সুদের লাভ দিবো কিভাবে ভেবে পাচ্ছিনা।

 

আপডেট : শুক্রবার ৩০ মে,২০১৪/ আশিক

 


এই নিউজটি 1349 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments