বিষাক্ত সাপ নিয়ে ব্যাতিক্রমি স্বপ্ন দেখছেন রাজবাড়ীর কয়েক জন যুবক

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ ,৩০ মে, ২০১৪ | আপডেট: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ ,৩০ মে, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ী ডেস্ক : রাজবাড়ীর নবগঠিত কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাঁসাদহ গ্রামের কয়েকজন যুবক সসাপের খামার করায় এলাকাবাসীরা কিছুদিন আগেও পাগল বলত। কিন্তু এখন তারাই উৎসাহ দিচ্ছেন। ওই যুবকরা একই সঙ্গে আদর্শ জৈব সার উৎপাদন করেও অর্থ উপার্জন করছেন। বিষাক্ত সাপ নিয়ে কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। সে স্বপ্ন পূরণে পরীক্ষামূলকভাবে ৮৩ শতাংশ জমির উপরে গড়ে তুলেছেন ‘রাজবাড়ী স্নেক ফার্ম এন্ড সরীসৃপ পার্ক’। এ খামারে আছে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫টি সাপ। স¤প্রতি ১টি সাপ দিয়েছে ১৫টি ডিম। এতে খামারে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা।
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি সাপের থাকার জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে প্লাস্টিকের খাঁচা। এখানে ঠাঁই পেয়েছে দাড়াস, খোয়া গোখরা, তেলে কালো গোখরা, কাল গোখরা, পঙ্খীরাজসহ আরও চার প্রজাতির সাপ। সাপগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে। এখন অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, রাজবাড়ী জেলার যে কোন যাগায় কেউ সাপ দেখলেই খামারের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জু মল্লিক কে খবর দেয়। ওই সাপের খামারের দায়িত্বে থাকা রঞ্জুর বন্ধু রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে (স্নাতকোত্তর) অধ্যয়নরত তন্ময় সরকার বলেন, এক কিছু দিন আগে রাত জেগে তাঁরা খামারটির পরিচর্যা করছিলেন। ভোর রাতের দিকে তাঁরা দেখেন, প্লাস্টিকের খাঁচার মধ্যে একটি গোখরা সাপ সাদা কী যেন পেঁচিয়ে বসে আছে। কাছে গিয়ে সবার চোখ ছানাবড়া। সাপটি ১৫টি ডিম পেড়ে তা নিয়েই বসে আছে। এদৃশ্য দেখে তাঁরা রীতিমতো আনন্দে আত্মহারা। ডিমগুলো দেখতে মুরগির সাদা ডিমের চেয়ে একটু ছোট।
তন্ময় সরকার বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাপের ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা অনেকটাই সহজ। তবে এ-সংক্রান্ত সরঞ্জামের দাম অনেক। যে কারণে সনাতন পদ্ধতিতে তারা একটি গামলার মধ্যে দুই ধরনের মাটি ব্যবহার করে ডিমগুলো ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রেখেছেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল থার্মোমিটার। ডিমগুলো নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হতে পারে। তাঁদের খামারের ৩৫টি গোখরার বেশির ভাগই স্থানীয় বাসাবাড়ি থেকে উদ্ধার করা। আরো কয়েকটি সাপ শিগগিরই ডিম দেবে বলে তিনি মনে করেন।
খামারের উদ্যোক্তা মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু বলেন, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে জৈবসার ও সাপের খামারের কিছু তথ্য পাই। পরে যোগাযোগ করি ঝিনাইদহের জৈবসার খামারি হেলাল উদ্দিন ও পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাক ভায়ের সঙ্গে। হেলাল উদ্দিনের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের খ্যাতিমান কৃষিবিজ্ঞানী এম গুল হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে গত বছরের প্রথম দিকে আমার এক একর নিজ জমিতে গড়ে তুলি সাপের খামার।
এলাকাবাসী প্রথমে পাগল বলে আখ্যায়িত করলেও আমায় এখন সেই এলাকাবাসীই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ মারে না। কারও বাড়িতে সাপ দেখলে আমাদের খবর দেয়। আমারা খবর পাওয়ার সাথে সাথে সাপটি ধরে আমাদের খামারে নিয় আসি। সাপের পরিচর্যার বিষয়ে বলেন, খামারের সাপগুলোকে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন বয়লারের বাচ্চা (১ দিন বয়সের) খাওয়ানো হয়, ২ বার গোসল করাতে হয় ও ১ দিন খাঁচা পরিস্কার করা হয়। সাপ ধরা ও লালন-পালনে ব্যবহৃত হয় লাঠি, টং, গ্লাভস ও গাম বুট। এ কাজে বেশ আনন্দ পেলেও জীবন নিয়ে খেলাই মনে করি। এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষধর সাপ নিয়ে খেলা জীবন বাজি রাখা। যখন তখন হতে পারে মৃত্যুর মত দুর্ঘটনা। তাই রাজবাড়ী সদর জেলার সকল উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে দরকার সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টি ভেনাম।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. নূরুজ্জামান বলেন, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের কয়েকজন উদ্যোগী ছাত্র খামারটি গড়ে তুলেছে। প্রকৃতিতে বিলুপ্তপ্রায় বিষাক্ত প্রাণীদের নিয়ে যে খামারটি গড়ে তুলেছে, সেটি ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীরা রক্ষা পাবে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খামার উন্মুক্ত রাখা হয়।

 


এই নিউজটি 1572 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments