কেরানীগঞ্জে বালু চরের মধ্যে পুঁতে রাখা গার্মেন্টেস শ্রমিক ফারুকের লাশ উদ্ধার : মৃতদেহ আনতে রাজবাড়ী থেকে স্বজনরা ঢাকায়

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ ,৩১ মে, ২০১৪ | আপডেট: ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ ,৩১ মে, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার লালবাগে ভাইয়ের বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনীনগর (মাইছাঘাটা) এলাকার ফারুক (২০)-এর লাশ উদ্ধার করে আঞ্জুমান মফিদুলের সহযোগিতায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। গত ২৭ মে সন্ধ্যায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের একটি চরে বালুর মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
গত ২৯ মে রাতে এ খবর জানতে পেরে ফারুকের মৃতদেহ কেরানীগঞ্জ কবরস্থান থেকে রাজবাড়ীতে নিয়ে আসার জন্য পরিবারের সদস্য ও স্বজন মিলিয়ে ৮/১০জনের একটি দল মাইক্রোবাসযোগে কেরানীগঞ্জে গেছেন।
ওই দলে থাকা মিজানপুর ইউপির মেম্বার জোসন মোল্লা জানান, তারা কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশ কর্তৃক সংরক্ষণ করা নিহত ফারুকের গেঞ্জি, স্যান্ডেল, প্যান্ট ও ছবি দেখে সনাক্ত করেছেন। আইনী জটিলতা থাকায় এখনো কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। আগামী রবিবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফারুকের মৃতদেহ উত্তোলন করে রাজবাড়ীতে নিয়ে আসা হবে। জোসন মোল্লা আরো জানান, এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে গতকাল ৩০ মে বিকেলে পুলিশ রুবেল(২২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। কেরানীগঞ্জের রাজবাড়ীর এক ব্যক্তির গার্মেন্টসে চাকুরী করা রুবেলের বাড়ীও বড় চর বেনীনগরে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রুবেল তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে ঘটনার পর একই গার্মেন্টসে চাকুরী করা বড় চর বেনীনগরের হজো চৌধুরীর ছেলে শাজাহান একটি ব্যাগের মধ্যে নিহত ফারুকের বাম হাতের কেটে ফেলা কবজি নিয়ে তাদের কয়েকজনকে দেখিয়েছে। এ ছাড়াও রুবেল আরো অনেক তথ্য দিলেও ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা পুলিশের কাছে অস্বীকার করেছে।
বড় চর বেনীনগর গ্রামের আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লা(২০) গত ২৪ মে তার বড় ভাই জাফর মোল্লার ঢাকার লালবাগের ভাড়া বাসায় বেড়াতে যায়। পরদিন ২৫ মে দুপুরের পর মোবাইলে ফোন পেয়ে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিঁখোজ ছিল। জাফর মোল্লার দাবী, ঘটনার সাথে ফারুকের ৩ বন্ধু বড় চর বেনীনগরের শাজাহান, সোহেল ও ঠান্ডু জড়িত। ওরাই ফারুককে ফোন করে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৭ মে তিনি লালবাগ থানায় একটি জিডি করেন।
এদিকে ফারুকের লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে ক্ষুদ্ধ স্বজন ও সহযোগীরা গত ২৯ মে রাতে তার বড় চর বেনীনগরের শাজাহান, সোহেল ও ঠান্ডুর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
সুত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। কেউ লাশটি সনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ হিসেবে পুলিশ আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে হস্তান্তর করে। আঞ্জুমান মফিদুল লাশটি জুরাইন কবরস্থানে দাফন করে।
এদিকে লাশ উদ্ধারের খবর শোনার পর থেকে ফারুকের মাইছা ঘাটার বাড়ীতে তার পিতা আব্দুল গফুর, মা কদভানু নেছা ও তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী সুমি বেগম(১৯)সহ অন্যান্যদের কান্নায় ও আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

 

আপডেট : শনিবার ৩১ মে,২০১৪/ আশিক


এই নিউজটি 1175 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments