দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীতে বন্দী শিশু–কিশোরীরা : জোর করে করানো হচ্ছে যৌন ব্যাবসা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ ,৪ জুন, ২০১৪ | আপডেট: ২:০২ অপরাহ্ণ ,৪ জুন, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ী ডেস্ক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দেশের বৃহত্তম পতিতা পল্লীতে শিশু যৌনকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পল্লীতে শিশু-কিশোরীদের বন্দী রেখে জোর করে যৌন ব্যাবসা করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ পুলিশ গত ১৮ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দুই সপ্তাহে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে৷ এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷
এলাকাবাসী, পুলিশ ও কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে প্রায় চার হাজার যৌনকর্মী রয়েছে৷ এর মধ্যে প্রায় ৫০০ যৌনকর্মী শিশু-কিশোরী৷ প্রভাবশালী বাড়িওয়ালি ও তাঁদের আশ্রয়দাতাদের ছত্রচ্ছায়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অপকর্মটি চালিয়ে আসছে৷ চক্রটি বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত-অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের এখানে এনে বিক্রি করে দেয়৷ অভিযোগ রয়েছে, নিখোঁজ সন্তানের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর পরই শুধু ওই শিশু বা কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়৷
গত সোমবার যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক পোশাকশ্রমিককে (২৩) উদ্ধার করে৷ এ ঘটনায় পারভিন নামের এক বাড়িওয়ালিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ওই তরুণী বলেন, ঢাকার মিরপুরের একটি কারখানায় কাজ করার সুবাদে মোহাম্মদপুর এলাকার আলাউদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়৷ কিছুদিন মুঠোফোনে কথা বলার পর প্রেমের সর্ম্পক হয়৷ একপর্যায়ে আলাউদ্দিন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়৷ পাঁচ মাস আগে কৌশলে এনে তাঁকে যৌনপল্লির পারভিন নামের এক বাড়িওয়ালির কাছে বিক্রি করে দেয়৷
এর আগে ৩১ মে যৌনপল্লি থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক পোশাক শ্রমিককে (২০)৷ তিনি বলেন, ঢাকার কলাবাগান এলাকার একটি কারখানায় কাজ করার সময় আবুল হোসেন নামের পাবনার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়৷ এক বছর আগে বিয়ে করার কথা বলে ওই যুবক তাঁকে যৌনপল্লির হাসনা নামের এক বাড়িওয়ালির কাছে বিক্রি করে পালিয়ে যায়৷ কয়েক মাস পর ওই বাড়িওয়ালি জাহানারা নামের আরেক বাড়িওয়ালির কাছে তাঁকে বিক্রি করেন৷ দীর্ঘদিন পর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে পুলিশকে জানায়৷ পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়৷
২৯ মে যৌনপল্লি থেকে দুই শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করে পুলিশ৷ তাদের একজন টাঙ্গাইলের বোয়ালী এলাকার শিশু (১৪)৷ সে সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত৷ হৃদয় নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সর্ম্পক ছিল৷ হৃদয় বিয়ের কথা বলে ১৭ মে তাকে যৌনপল্লির সুমি নামের এক বাড়িওয়ালির কাছে বিক্রি করে৷ এরপর তাকে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় খাটানো হয়৷ ওই দিন কুড়িগ্রামের ভোমড়ামারি এলাকার আরেক কিশোরীকে (১৫) একই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়৷
১৯ মে পল্লিতে বিক্রির চেষ্টাকালে স্থানীয় লোকজন এক শিশুকে (১২) উদ্ধার করে এবং নাজমা বেগম ওরফে জোছনা (২০) নামের পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে৷ ১৮ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বোতল কারখানার আরেক শিশুশ্রমিককে (১৪) উদ্ধার করা হয়৷ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আবুল বাসার বলেন, ‘পাচারকারী চক্র খুবই শক্তিশালী৷ অধিকাংশ বাড়িওয়ালি ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত৷’

 

আপডেট : বুধবার ৪ জুন,২০১৪/ ০৭:২৮ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 9304 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]