ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির ডকুমেন্টারী ‘নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতায় জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ ,৩০ মার্চ, ২০১৪ | আপডেট: ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ ,৩০ মার্চ, ২০১৪
পিকচার

নিউজ ডেস্ক : ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংক্ষুব্ধ স্বাধীনচেতা মানুষের মুক্তির কামনা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তহীনতা, আর ২৫শে মার্চের রক্তাক্ত কালো রাত্রির সন্ধিক্ষনেই ২৬শে মার্চ চট্রগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া শান্ত ও দৃঢ় কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির রেজিষ্টার্ড সংগঠন ‘বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যামব্রিজ’ কর্তৃক বাংলা ও ইংরেজীতে প্রকাশিত ডকুমেন্টারীতে এই দাবী করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ছাড়াও ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার বেগম জিয়ার উপস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের অনুষ্ঠানে ডকুমেন্টারী দুটি প্রদর্শিত হয়।

১৩ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ডকুমেন্টারীকে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান প্রথম বিদ্রোহী বাঙালি অফিসার হিসেবে অস্ত্র তুলে পশ্চিমা অফিসারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েন। বজ্রকন্ঠে দেশ এবং দেশের মা, মাটি ও মানুষের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বোত ভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেই লড়াইয়ের কথা – যে লড়াই আবশ্যক ছিল পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য – যে লড়াইয়ের আহবান শুনতে উম্মুখ হয়ে ছিল এ দেশের মুক্তিকামী প্রতিটি মানুষ।

ডকুমেন্টারীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক আখ্যায়িত করে বলা হয়, অবিভক্ত পাকিস্থানে পশ্চিমাদের শোষণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানিরা যখন আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে বিপর্যস্ত, তখন হাতে গোনা যে কজন কৃতি সন্তাান দেশমাতৃকাকে তাদের কর্মগুণে গৌরবান্বিত করেছিলেন, তাদের মাঝে জিয়াউর রহমান অন্যতম। ১৯৬৫ সালের পাকিস্থান-ভারত যুদ্ধে অসম বীরত্বের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব অর্জন করে তরুণ জিয়া হয়ে উঠেন মেজর জিয়া। হয়ে উঠেন তৎকালীন পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে বাঙালি অফিসারদের উৎকর্ষ ও সফলতার প্রতীক ও অনুপ্রেরণা।

ডকুমেন্টারীতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে যখন ঢাকার অদুরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব পশ্চিম পাকিস্থানী সৈন্যদের ব্যাপক ও অস্বাভাবিক সমাবেশ দেখেও এর ভয়াল রাজনৈতিক নেপথ্য অনুধাবন করে না। সর্বাত্মক সংগ্রামের আহবান করে জনতাকে সেই সংগ্রামের কোন কর্ম-কৌশল ও দিক-নির্দেশনা দেয়না। এ এমন এক সময় যখন দেশ জুড়ে মানুষ শোষণকারীদের পরাধীনতা থেকে মুক্তি চায়। স্বাধীনতা চায়। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সাহসী ডাক কেউ দেয় না। রাজনৈতিক এ চরম সিদ্ধান্তহীনতা আর অদূরদর্শীতার সুযোগ নিয়ে ঘটে যায় ২৫শে মার্চ কালোরাত্রির ভয়াল হত্যাযজ্ঞ। সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে যায় সম্পূর্ণ অক্ষত। কিন্তু ক্ষত-বিক্ষত করা হয় সাধারণ মানুষকে। শহরে-শহরে, পথে-পথে, ঘরে-ঘরে। রাজারবাগের পুলিশ থেকে পিলখানার ইপিআর, ঘুমন্ত নাগরিক থেকে শান্ত পথচারী, সৌম্য ছাত্র থেকে বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষক, কেউ বাদ যায় না সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে। কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব না নিয়ে, পশ্চিমাদের সাথে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না হয়ে, রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনের সঙ্গে আপোষ না করে, কিংবা গণমাধ্যম দ্বারা পরিবেষ্টিত না থেকেও অসীম সাহসিকতার মাধ্যমে কেবলমাত্র একটি রেডিও স্টেশনের সহায়তা নিয়ে অকুন্ঠ চিত্তে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়া। তার কোনো পদ-পদবী বা নেতা-কর্মীর প্রয়োজন হয়নি। তার দফায়-দফায় ইয়াহিয়া-ভুট্টোদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনায় বসতে হয়নি। তার মানুষের আশ্বাস-বিশ্বাসের স্বার্থে উপর্যুপুরি বক্তব্য দিতে হয়নি।

ডকুমেন্টারীতে বলা হয়, মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার চূড়ান্ত যে লড়াই শুরু হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। সরকার পরিচালনা কিংবা সমর প্রস্তুতির নামে অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি নিরাপত্তার খাতিরে ভারতে অবস্থান নিলেও জিয়াউর রহমান থেকে যান যুদ্ধের ময়দানে। তার নেতৃত্বে ও নামে তৈরী হয় বাংলাদেশ ফোর্সেও প্রথম সনাতনী বিগ্রেড “জেড ফোর্স” । যা পরবর্তিতে পরিচিত হয়ে উঠে সব চাইতে আগ্রাসী, চৌকস ও সফল ফোর্স হিসেবে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত যুদ্ধের রণক্ষেত্রে অভূতপূর্ব বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতি স্বরূপ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের জীবিত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান “বীর উত্তম” উপাধিতে ভুষিত করা হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে ডকুমেন্টারীতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের নজিরবিহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার পরেও গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ভিন্ন মত ও পথের পরিবর্তে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হলে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন। জিয়ার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সাবেক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান হয়ে উঠেন রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান। তিনি অব্যবহৃত জনগোষ্ঠীকে রূপান্তর করেন আকাঙ্খিত মানব সম্পদে। নিশ্চিত করেন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে অচিরেই বাংলাদেশ পরিণত হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের রোল মডেলে। বিশ্বের দিকে-দিকে সাড়া পড়ে যায় রাষ্ট্রপতি জিয়ার রূপ-রেখার, কর্ম-কৌশলের ও ভাবনা-পরিকল্পনার। আর আলোড়ন-আলোচনার সৃষ্টি করে জিয়ার বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার গতি-প্রবাহ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে কোনো প্রকার আপোষ না করায় ১৯৮১ সালের ২৯শে মে বাংলাদেশ বিরোধী অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অপশক্তির প্রয়াসে গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা জিয়াউর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।

স্বাধীনতার মাসে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতেই ডকুমেন্টারী প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যামব্রিজের চেয়ারম্যান, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির গবেষক মাহদি আমিন বলেন, ১৯৭১ সালে যখন জাতি ছিল নির্দেশনাহীন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন সিদ্ধান্তহীন, কালো রাত্রির সন্ধিক্ষণে যখন বাংলার মানুষ ছিল দিশেহারা তখন শহীদ জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে বাংলার মানুষকে উজ্জীবিত করেন, মুক্তির পথ দেখান। তিনি বলেন, মাত্র চার বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে চার দশক এগিয়ে দেন। তার দেখানো পথে হেঁটেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। তার তৈরী করা কাঠামোতেই আজ আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। তার দেওয়া রূপকল্পেই আজ আমরা বিশ্বায়ন ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার নেওয়া নীতিমালাতেই আজ আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির নিরবিচ্ছিন্ন দিশারী।


এই নিউজটি 1603 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]

More News from বিশ্বজুড়ে