রাজবাড়ীর বাগমারায় রাজ্জাককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা : ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি : মামলার কোন আসামী ধরা পড়েনি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ ,২৯ জুন, ২০১৪ | আপডেট: ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ ,২৯ জুন, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামে দিবালোকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে দয়ালনগর গ্রামের রাজ্জাক মোল্লা (৩৫)কে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গত ২৫ জুন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী নজরুল সরদার ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেফতার বা ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
গুলিবিদ্ধ রাজ্জাকের ভাই মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের দফাদার মোঃ মোসলেম মোল্লার মামলা সুত্রে প্রকাশ, বাগমারা গ্রামের ফজের সরদারের ছেলে নজরুল সরদার(৩৪) রাজবাড়ী থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী। গত ১৯/৭/২০১৩ তারিখে সে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। এ ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে র‌্যাব একটি মামলা দায়ের করে। যার নম্বর-৩১, তাং-২০/৭/২০১৩। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর নজরুল মনে করে এলাকার লোকজনের সহায়তায় আমার ভাই রাজ্জাক তাকে র‌্যাবের হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে। নজরুল জেলখানায় বসেই তাকে ধরিয়ে দেওয়ার আক্রোশে দয়ালনগর গ্রামের সেলিম মোল্লার ছেলে রিমন (২২)কে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে গত ৩১/৭/২০১৩ তারিখে রিমনকে হত্যা করে মৃত দেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় গত ৪/৮/২০১৩ তারিখে রাজবাড়ী থানায় ৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ ধারায় মামলা নং-৮ দায়ের হয়। নজরুল জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসে আমার ভাই রাজ্জাককে হত্যার পরিকল্পনা করে। এছাড়াও সে বিভিন্ন সময়ে আমার ভাই রাজ্জাককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৪ জুন দুপুরের পর আমার ভাই রাজ্জাক ও জৌকুড়া গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে আলম সরদার(৩৫) এক সাথে অটোযোগে রাজবাড়ী শহরে আসছিল। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তারা বাগমারা গ্রামে মিজানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু শিকদারের বাড়ীর কাছে পৌছালে নজরুল ও তার অজ্ঞাত ১০/১২জন সহযোগী রাজ্জাক ও আলমের বহনকৃত অটো রিক্সার গতিরোধ করে। তারা অটো থেকে নামা মাত্রই নজরুল তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রাজ্জাকের ডান পেটে গুলি করে। এ সময় আলম দৌড়ে আত্মরক্ষা করে। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে নজরুল ও তার সহযোগীরা চলে যায়। এ ঘটনার পর জিল্লু নামক এক মোটর সাইকেল আরোহীকে গুরুতর অবস্থায় রাজ্জাককে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্জাকের অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজ্জাকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর এ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকা নেয়ার পথে তার অবস্থা গুরুত্বর দেখে সাভার এনাম মেডিকেলে রাজ্জাককে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় তিনি (রাজ্জাকের ভাই) বাদী হয়ে নজরুল সরদারসহ অজ্ঞাত ১০/১২জনকে আসামী করে রাজবাড়ী থানায় গত ২৫ জুন ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১১৪ দঃবিঃ ধারায় মামলা নং-৩৯ দায়ের করেন। রাজবাড়ী থানার এস.আই কামরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

 

আপডেট : রবিবার ২৯ জুন,২০১৪/ আশিক


এই নিউজটি 1182 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments