,

সর্বশেষ :
রাতের আঁধারে দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ মন্দিরের সামনে গাঁজা খেতে নিষেধ করায় প্রতিমা ভাংচুর বড় ধরণের করোনা ঝুঁকিতে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের ১১০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ বসন্তপুর ইউনিয়নের ৮০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি ঈদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন প্রবাসীরা করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, দুই বাড়ি লকডাউন করলেন এসিল্যান্ড রাজবাড়ীর করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকদের N95 মাস্ক দিলেন সাবেক জেলা জজ ‘আসমা আসাদ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ রাজবাড়ীতে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাজবাড়ী জেলার ইতিহাস

News

বাংলাদেশের বৃহৎ নদী পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল গোয়ালন্দ। বৃটিশ শাসনামলে ‘গেটওয়ে অব বেঙ্গল’ বা বাংলার দ্বারপথ বলে পরিচিত গোয়ালন্দ মহকুমা। ১৯৮৪ সালে ১লা মার্চ রাজবাড়ি জেলা ঘোষনা করা হয়। ১৮৩৩ থেকে ১৮৩৮ সালের মধ্যে ঢাকা-জালালপুর ভেঙ্গে ফরিদপুর জেলা গঠন হলে বর্তমান রাজবাড়ি জেলার চন্দনা নদীর পূর্ব ও দক্ষিণাংশ ফরিদপুর জেলার সাথে সংযুক্ত থাকে। বাকি অংশ যশোর কালেক্টরেট ও নদীয়ার সাথে সংযু্ক্ত হয়। ১৮৭১ সালে চন্দনা নদীর দক্ষিণ পূর্বাংশ এবং দক্ষিণ পশ্চিমাংশ বর্তমান রাজবাড়ি জেলার মোট অংশ নিয়ে গোয়ালন্দ মহকুমা গঠন করা হয়। রাজবাড়ি জেলার আয়তন ১১১৮.৮ বর্গ কিলোমিটার বা ৪৩১.১৭ বর্গ মাইল। লোকসংখ্যা ৮৩৫১৭৩, উপজেলা-৫, ইউনিয়ন-৪২, মৌজা-৮২০, গ্রাম-১০৫৬, মহল্লা-১০৭, পৌরসভা-৩ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৮%। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাক। জেলাটি বাংলাদেশের মোট আয়তনের ০.৭৬ অংশ

অধিকার করে আছে। ঢাকা বিভাগে অবস্থিত জেলাটি আয়তনের দিক থেকে বিভাগের জেলাসমূহের ১৫ তম এবং দেশের সকল জেলার মধ্যে ৫৬ তম। ২২০৪০ এবং ২৩০৫০ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৯০১৯ এবং ৯০০৪০ দ্রাঘিমাংশে জেলাটি অবস্থিত। উত্তরে বহমান প্রমত্তা পদ্মা। পদ্মার ওপাড়ে পাবনা ও মানিকগঞ্জ জেলা। দক্ষিণে গড়াই নদী। গড়াই পাড়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা। পশ্চিমে কুষ্টিয়া ও পূর্বে ফরিদপুর জেলা। জাতীয় মাছ রুপালি ইলিশ, চমচম ও নানা জাতের মিষ্টান্ন সারাদেশে বিখ্যাত। পাল, সেন, সুলতান, পাঠান, মোগল, ইংরেজ শাসন স্মৃতি ও ঐতিহ্যের ভূমি রাজবাড়ি। রাজা সীতারাম, মোরাদ খাঁ, মুকুন্দ রাম, সংগ্রাম সাহ, প্রতাপাদিত্য, রাজা রামজীবন, রানীভবাণী, রাজা সূর্যকুমার, নবাব মীর মোহাম্মদ আলী, আলীমুজ্জামান চৌধুরী, সিআইই, গিরীজাশংকর মজুমদার প্রমুখ ভূপতিদের শাসন ও স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে আছে জেলাটি। উত্তাল পদ্মার ঢেউয়ের মতো উথাল পাথাল এদের জীবন। ফলে শোষণ বঞ্চনায় মুক্তিকামী মানুষের রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। নীলবিদ্রোহ থেকে শুরু করে ফকীর সন্ন্যাস আন্দোলন, অনুশীলন, যুগান্তর, স্বদেশী, স্বরাজ, খেলাফত-অসহযোগ, ফরায়েজী, প্রজামুক্তি, আজাদ হিন্দ, কমিউনিষ্ট, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, ভাষা-আন্দোলন, রেলশ্রমিক আন্দোলন, ৬দফা আন্দোলন, ‘৬৯ সালে গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা দেখা যায় এ জেলার মানুষের। পদ্মা আর গড়াইয়ের তল সমতলে শ্রীখন্ডরুপ উর্বর ভূমিতল সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের পীঠস্থান এই সমতল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণভূমি। বাংলা সাহিত্যে প্রথম আত্মজীবনীকার রাসসুন্দরী দেবী ভররামদিয়ার মানুষ। বাংলা সাহিত্যের অমর ট্রাজেডি ‘বিষাদ-সিন্ধুর লেখক মীর মশাররফ হোসেন চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন পদমাদিতে। কল্লোল যুগের শক্তিশালী লেখক জগদীশ গুপ্তের জন্মস্থান মেঘচামী। শ্বশুরালয় রাজবাড়ি। জাতীয় জীবনে নব জাগরণের শিক্ষাগুরু, গণিতজ্ঞ, জাতীয় অধ্যাপক, উপমাহদেশের একসময়ের শ্রেষ্ঠ দাবারু, কাজী নজরুল ইসলামের অকৃত্রিম বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের পৈতিক বাড়ি পাংশার বাগমারা গ্রামে। সাহিত্যসেবী ও নজরুল সাহায্য সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা কাজী আব্দুল ওদুদ এবং সব্যসাচী লেখক এয়াকুব আলী চৌধুরী রাজবাড়ির সন্তান। বিশ্ববিখ্যাত এবং উপমহাদেশের একমাত্র ট্রাপিষ্ট্রী শিল্পী রশিদ চৌধুরী এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন। পথিকৃৎ চিত্রশিল্পী আবুল কাশেম পারকুলার আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী মনসুর-উল-করিম, অস্কার বিজয়ী নাফিজ বিন জাফর রাজবাড়ির মানুষ। উপমহাদেশখ্যাত জলতরঙ্গ বাদক বামনদাস গুহরায় রাজবাড়িতে জন্ম নিয়ে কালযাপন করেন। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাসের ভূমিপট গোয়ালন্দ। অলিম্পিক কন্যা ডলি আক্তার (সাতারু), পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন (দৌড়) শহীদুন্নবী আলম রাজবাড়ির গৌরব।

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর