বাগমায়ার গুলির ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা চেষ্টা মামলার কচ্ছপ গতি : ৮দিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকার পর অবশেষে গুলিবিদ্ধ রাজ্জাকের মৃত্যু

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ ,২ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ ,২ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ ৮দিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকার পর অবশেষে গতকাল ১লা জুলাই ভোর ৫টার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারায় গুলিবিদ্ধ আওয়ামীলীগ কর্মী আব্দুল রাজ্জাক(৪০) ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গত ২৪ জুন বেলা সোয়া ৩টার দিকে বাগমারা-ধাওয়াপাড়া সড়কের প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন সিকদার বাবলুর বাড়ীর পাশে একদল চিহিৃত সন্ত্রাসী তার পেটে গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজবাড়ী ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬দিন চিকিৎসারত থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সে মারা যায়। নিহত রাজ্জাক দয়ালনগর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আওয়ামীলীগ কর্মী আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী থানায় একই এলাকার সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম এবং তার ১০/১২ সহযোগীকে আসামী করা হয়। তবে মামলা পরও পুলিশ ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়ান্ত্র উদ্ধার ও মামলার আসামীদের গ্রেফতারে কোন তৎপরতা চালায়নি বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।
স্থানীয় সুত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে রাজ্জাকের মরদেহ রাজবাড়ী থানায় এসে পৌছে। তবে আইনী জটিলতা থাকায় লাশ দাফনের পূর্বে পোস্ট মর্টেম করা হতে পারে। এ ছাড়াও রাজ্জাক মারা যাওয়ায় রাজবাড়ী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
নিহতের ঘনিষ্ঠ সুত্র জানায়, মিজানপুর ইউপির দয়ালনগর গ্রামের ৩কন্যা সন্তানের জনক আব্দুর রাজ্জাক দীঘ ৮বছর সৌদী আরবে প্রবাসী জীবন অতিবাহিত করে দেশে ফেরার পর নিজ এলাকার জৌকুড়া ঘাটে বালুর চাতালের ব্যবসা করত। তার ১কন্যাকে বিয়ে দিয়েছে। অপর ২জনের মধ্যে একজন ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে। আরেক কন্যার বয়স ৪বছর। পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই কাছ রাজ্জাককে গুলি করেছিল। নজরুল ইতিপূর্বে র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিল।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামে দিবালোকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে দয়ালনগর গ্রামের রাজ্জাক মোল¬া (৩৫)কে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গত ২৫ জুন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী নজরুল সরদার ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেফতার বা ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
ঘটনার পর থানায় মামলা ঃ গুলিবিদ্ধ রাজ্জাকের বড় ভাই মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের দফাদার মোঃ মোসলেম মোল্লার মামলা সুত্রে প্রকাশ, বাগমারা গ্রামের ফজের সরদারের ছেলে নজরুল সরদার(৩৪) রাজবাড়ী থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী। গত ১৯/৭/২০১৩ তারিখে সে অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। এ ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে র্যাব একটি মামলা দায়ের করে। যার নম্বর-৩১, তাং-২০/৭/২০১৩। র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর সন্ত্রাসী নজরুল মনে করে এলাকার লোকজনের সহায়তায় আমার ভাই রাজ্জাক তাকে র্যাবের হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে। নজরুল জেলখানায় বসেই তাকে ধরিয়ে দেওয়ার আক্রোশে দয়ালনগর গ্রামের সেলিম মোলার ছেলে রিমন (২২)কে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে গত ৩১/৭/২০১৩ তারিখে রিমনকে হত্যা করে মৃত দেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় গত ৪/৮/২০১৩ তারিখে রাজবাড়ী থানায় ৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ ধারায় মামলা নং-৮ দায়ের হয়। নজরুল জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসে আমার ভাই রাজ্জাককে হত্যার পরিকল্পনা করে। এছাড়াও সে বিভিন্ন সময়ে আমার ভাই রাজ্জাককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৪ জুন দুপুরের পর আমার ভাই রাজ্জাক ও জৌকুড়া গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে আলম সরদার(৩৫) এক সাথে অটোযোগে রাজবাড়ী শহরে আসছিল। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তারা বাগমারা-ধাওয়াপাড়া সড়কের বাগমারা গ্রামে মিজানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু শিকদারের বাড়ীর কাছে পৌছালে নজরুল ও তার অজ্ঞাত ১০/১২জন সহযোগী রাজ্জাক ও আলমের বহনকৃত অটো রিক্সার গতিরোধ করে। তারা অটো থেকে নামা মাত্রই নজরুল তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রাজ্জাকের ডান পেটে গুলি করে। এ সময় আলম দৌড়ে আত্মরক্ষা করে। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে নজরুল ও তার সহযোগীরা চলে যায়। এ ঘটনার পর জিলু নামক এক মোটর সাইকেল আরোহীকে গুরুতর অবস্থায় রাজ্জাককে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্জাকের অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজ্জাকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর এ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকা নেয়ার পথে তার অবস্থা গুরুতর দেখে সাভার এনাম মেডিকেলে রাজ্জাককে ভর্তি করা হয়।
মামলার বাদী মোসলেম মোল্লা জানান, সাভার এনাম মেডিকেলে তার ভাই রাজ্জাকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে আইসিইউ’তে রাখেন চিকিৎসকেরা। ৬দিন সেখানে চিকিৎসার পর রাজ্জাক মারা যায়।
এ ঘটনায় মোসলেম মোল্লা বাদী হয়ে নজরুল সরদারসহ অজ্ঞাত ১০/১২জনকে আসামী করে রাজবাড়ী থানায় গত ২৫ জুন ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১১৪ দঃ বিঃ ধারায় মামলা নং-৩৯ দায়ের করেন। রাজবাড়ী থানার এস.আই কামরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

 

 

আপডেট : বুধবার ২ জুলাই,২০১৪/ আশিক


এই নিউজটি 1084 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments