এবার বিদ্যুৎ যাবে ঘরে ঘরে : প্রধানমন্ত্রী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ ,২ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ ,২ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

ডেস্ক রিপোর্ট : এবার দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য- প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে লোডশেডিং মুক্ত করতে তার সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণাবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে চলেছে। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারেও দেশবাসীকে আরও সচেতন ও যতœবান হতে হবে। অযথা লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে না রাখতে দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়ে তিনি প্রত্যেককে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর নিজ হাতে সুইচটি অফ করারও অনুরোধ জানান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ ক্ষেত্রে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংসদ সদস্যসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিজ হাতে বিদ্যুতের সুইচ অফ করলে এতে সম্মান যায় না। বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং বিলও কম আসে। ঢাকাবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়, সরকার সে পরিমাণে মূল্য নেয় না। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১১ কোটি মোবাইল সিম ও ৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জেও প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের নিজ ব্যবহারের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে না। মসজিদসহ উপসনালয়ে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে সোলার প্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, লাইট-ফ্যান ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুতের লাইন ব্যবহার করা যেতে পারে।
সরকারি দলের সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে বিদ্যুতের লোডশেডিং মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদ্যুতের অগ্রগতিতে তাঁর সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন ৮২ মেগাওয়াট ক্ষমতার টুঙ্গী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া আর কোন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সক্ষম হয়নি। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে খাম্বা তৈরির কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। সংসদ নেতা বলেন, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে গৃহীত কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্প তাদের সময় কমিশন্ড হয়। তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াটে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে ৫৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০৮ মেগাওয়াট এবং ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিসহ মোট ৫ হাজার ৮ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া ৫ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তিভিত্তিক ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোট ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হবে। রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানিকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও পটুয়াখালীতে আরও দু’টি ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোলার এনার্জি থেকে বর্তমানে ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সোলার এনার্জি থেকে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বায়োগ্যাস থেকে বর্তমানে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ২০১৫ সালের মধ্যে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মহাজোট নেতা বলেন, ময়মনসিংহে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গাজীপুরের কড্ডায় ৫২ মেগাওয়াট ডুয়েট ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের রাউজানে ২৫ মেগাওয়াট ডুয়েট ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় ভারত থেকে ভেড়ামারা-বহরমপুর গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বর্তমানে আমদানিকৃত ৫০০ মেগাওয়াটের অতিরিক্ত আরও ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বর্তমান সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

 

 

আপডেট : বুধবার ২ জুলাই,২০১৪/ আশিক


এই নিউজটি 1062 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from জাতীয়