যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ ,৬ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৫:১১ অপরাহ্ণ ,৬ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য প্রতি বছরেই বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে। এবারও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যখন যা প্রয়োজন তা দেয়া হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে টেকসই ও মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে ১৪৬টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ১০০টি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি, বাকি গুলোর কাজ চলছে। আজ রবিবার সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিয়ে সভাকক্ষে যান।
এদিকে প্রতি সেকেন্ডে কত গাড়ি চলবে তার হিসেব মাথায় রেখে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু রাস্তা তৈরি করাই নয়, তার মেইনটেনেন্সের (রক্ষণাবেক্ষণ) জন্যও খরচ হয়। কোন রাস্তা কতটুকু ব্যবহার হবে, প্রতি সেকেন্ডে কত গাড়ি চলবে, কতটুকু যানবাহন ধারণ করবে সে হিসেবে প্ল্যান-প্রোগ্রাম তৈরি করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ণ করতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। ঢাকা-কুনমিং পর্যন্ত বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোর চীন, মিয়ানমারের সঙ্গে হচ্ছে। এতে বাণিজ্যের প্রসার হবে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের মধ্যে ত্রিদেশীয় যোগাযোগের কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪১টি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, ইতোমধ্যে সারাদেশে ১ হাজার ২৬৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার সকড় প্রশস্ত ও মজবুত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, হাতের কাজ শেষ করে আগামীতে আমরা এ কাজ করব। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণ শুরু হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা জানান, যমুনার পাশ দিয়ে আরেকটা রেল সেতু করার জন্য জাপান প্রস্তাব দিয়েছে। কক্সবাজার-মহেশখালী রাস্তা, পাওয়ার প্ল্যান্ট, এলএনজি ট্রিটমেন্ট নির্মাণ করা হবে। হরতালের নামে বাস পোড়াওয়ে ৫৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত বিআরটিসি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। বর্তামানে বিআরটিসিকে লাভজনক করা হয়েছে। বিআরটিসি বাসে ওয়াইফাই আরো প্রসার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ বাসেও ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে। এসময় স্কুলে স্কুলে ট্রাফিক নিয়ম শেখানোর নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। ঈদ-রোজাকে সামনে রেখে উন্নয়ন কাজ একেবারে বন্ধ না করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের যেন চলাফেরার সমস্যা না হয় সে দিকে নজর দিতে হবে। পাতাল রেলের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব দেশে পাতাল যোগাযোগে যাচ্ছে। বাংলাদেশে থাকবে না কেন? আমাদের পাতাল রেল করা যায় কি না, তা দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরে মেট্রোরেল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণসহ ১২১টি প্রকল্প বাস্তবায়ণ করা হচ্ছে। এ অর্থবছরে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকাবাসী মেট্রো রেলের সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি।

 

 

আপডেট : রবিবার ৬ জুলাই,২০১৪/ ১১:১১ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1194 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]

More News from জাতীয়