রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ১২জন মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ ,১০ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ ,১০ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে গতকাল ৯ জুলাই শ্রীপুরস্থ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালস্থ শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৃত ১২জন পরিবহন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক,পিপিএম(সেবা)। এরআগে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে বাস টার্মিনালস্থ শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস উদ্বোধন করেন।
জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাহা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আক্তার হোসেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক,পিপিএম(সেবা) বলেন, আমার সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত না, এমন প্রোগ্রামে সাধারণত আমি যাই না। এখানে হৃদয়ের টানেই এসেছি। আমি জুওলজীর ছাত্র না, মাদ্রাসায়ও পড়ি নাই-তবে এটুকু বুঝি রমজান এমন একটা মাস, যা মহান আল্লাহ্তালা তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করার জন্যই দিয়েছেন। শ্রমিক-পুলিশের চাকুরীর এক জায়গায় মিল আছে, তা হলো মানুষের সাথে আমাদের কাজের সম্পর্ক। শ্রমিক যখন গাড়ী নিয়ে বের হয়, তখন জীবনটা আল্লাহ্র হাতে সঁপে দিয়েই বের হয়। পুলিশও তেমনি যখন চাকুরীতে ঢোকে তখন জীবন সঁপে দিয়েই ঢোকে। পথচারী বা রাস্তার পাশে যারা থাকে তারা আপনাদেরই ভাই, স্বজন-এই বিবেচনা নিয়ে গাড়ী চালালে নিশ্চয়ই দুর্ঘটনা কমে যাবে। একজন ড্রাইভার যখন গাড়ীর স্টিয়ারিং-এ বসে, তখন তিনি চান না একটা শেয়ালও তার গাড়ীর নীচে পড়–ক। গত কয়েকদিন পূর্বে রাজবাড়ীর একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দৌলতদিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। রাস্তায় যতগুলো স্পিডব্রেকার আছে, তার প্রতিটির সাথেই কারো না কারো রক্তের দাগ লেগে আছে। অনেক সতর্কতা সত্ত্বেও অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে-তবে তুলনামূলকভাবে কম। আজকে যারা অনুদান নিতে এসেছেন তাদের পরিবারের প্রধান মানুষটিই এখন আর নেই। আমরা সমস্ত মানুষের একটা স্বাভাবিক মৃত্যু চাই, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। শ্রমিকের মজুরী সম্পর্কে আল্লাহ্ তালার নির্দেশ ঘাম শুকানোর আগেই মজুরী পরিশোধ করা। আমি বিশ্বাস করি, এখনও সমাজে ভাল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি সড়ক দূর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও যখন তার পূর্ণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি, তখন আমি নিজে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মহোদয়কে তার চিকিৎসার ব্যাপারে বলেছিলাম।
পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক আরো বলেন, ঈদের মাত্র ৩দিনের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের রাজধানী ছাড়ার সময় কাউকে যেন পথেই ঈদ করতে না হয় সেদিকে পরিবহন শ্রমিক ভাইদেরকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি মানুষকে যার যার বাড়ীতে পৌঁছে দিতে যার যেটুকু দায়িত্ব আছে-পালন করতে হবে। ঐ সময় অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র হবে, বলা হবে পথে পথে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের কল্যাণে ২০টি করে টাকা তোলা হয়। যারা খারাপ লোক, তারা সত্যটা জানতে, বুঝতে চান না। ঢালাওভাবে বলতে-লিখতে চান। আমি নিহত সকল শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি যা মনে করি সঠিক, তাই করি। কে কি বলল তা নিয়ে ভাবি না। শ্রমিক ভাইদের কারো কোন ল’ফুল সহযোগিতা প্রয়োজন হলে অবশ্যই করব। রাজবাড়ী পুলিশ লাইনস মসজিদটা একতলা ছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে সেটিকে দোতলা করেছি। এখন মসজিদটিতে টাইলস লাগানো হয়েছে, অনেক সুদৃশ্য হয়েছে, সুন্দর মিনার হয়েছে। এখন সেটি পুরো জেলার মধ্যেই অন্যতম একটা মসজিদ। এই টার্মিনালে অনেক খারাপ কাজ হয়। একটা মসজিদ হলে তাতে ৫ ওয়াক্ত আজান হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যখন আজান হয় তখন একজন মুসলমান কোন খারাপ কাজ করতে পারে না। আসুন সকলে মিলে প্রস্তাবিত মসজিদটি গড়ে তুলি। মানুষের কল্যাণে কাজ করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী পৌরসভার প্যানেল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, আমাদের এই জেলায় থেকেই পুলিশ সুপার রাষ্ট্রপতি পদক পেয়েছেন-এ জন্য আমরাও গর্বিত। আপনারা (নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা) আপনাদের সন্তানদের মানুষ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন। আপনারা বাস টার্মিনালে মসজিদের দাবী করেছেন, আমিও এখানে এসে সভাপতির সাথে আলাপের পর পুরো টার্মিনালটি ঘুরে ঘুরে দেখেছি। আপনাদের দাবী যাতে পূরণ হয়, সে ব্যাপারে অবশ্যই সচেষ্ট থাকব।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের গাড়ীগুলো যখন অন্য জেলাগুলোতে চলে তখন সেই জেলাগুলোর শ্রমিকদের কল্যাণে ২০টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। একইভাবে আমাদের জেলার উপর দিয়ে যে গাড়ীগুলো চলে সেগুলোর কাছ থেকে ২০টাকা করে নেওয়াটা আমাদেরও হক। সেই টাকাগুলো আর শ্রমিক ভাইদের নিজেদের চাঁদা থেকেই আজকের এই অনুদানগুলো দেয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন। আশা করি, তিনি যতদিন আছেন-এভাবেই সহযোগিতা করে যাবেন। আমাদের ৩৩জন পঙ্গু/প্যারালাইজড শ্রমিক আছে, যাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করা খুবই প্রয়োজন। এছাড়া এই টার্মিনালে একটা মসজিদের খুবই প্রয়োজন। এ ব্যাপারে রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়রের প্রতিনিধি প্যানেল মেয়রের কাছে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি।
অনুষ্ঠানে নিহত ১২জন শ্রমিকের মধ্যে চাঁদা পরিশোধকৃত ১০জনের পরিবারকে ৫৫হাজার টাকা করে, চাঁদা বকেয়া থাকা ১জনের পরিবারকে ৩০হাজার এবং আরেক জনের পরিবারকে ২৫হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। এ ছাড়াও উল্লেখিত শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথে দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৫হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছিল। রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন তুকাই, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যগণসহ বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

আপডেট : বৃহস্পতিবার ১০ জুলাই,২০১৪/ ০৬:১৪ এএম/ আশিক


এই নিউজটি 1242 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments