জার্মানিই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ ,১৩ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ১০:১০ অপরাহ্ণ ,১৩ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

স্পোর্টস ডেস্ক : ৪র্থ বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছে জার্মানি। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ২০তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিট কেটে যায় গোলশূন্য অবস্থায়। তার পর  অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলার ১১৩ মিনিটে গোল করে দলকে জয় এনে দেন মারিও গোটজে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কোনো দলই নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে গোল করতে না পারায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচটি। এর আগে রবিবার বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১টায় ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরের মারাকানা স্টেডিয়ামে খেলতে নামে শিরোপা প্রত্যাশি সাবেক ২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। সমান তালেই লড়ছে আর্জেন্টিনা-জার্মানি।
গোলশূন্য ম্যাচে ২ দলই নষ্ট করেছে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ। খেলার ৯ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঝলক দেখান বিশ্বসেরা ফুটবলার ও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডান দিক থেকে বল পান তিনি। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করে ডি বক্সে ঢুকে গোললাইন থেকে ক্রস করেন কিন্তু তা ফিরিয়ে দেন বাস্তিয়ান শোয়েন্স টেইগার। পরের মিনিটে আবার আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। এবার পাবলো সাবলেতার সে ক্রস বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছলেও টিতে পা ছোঁয়াতে পারেননি এনসো পেরেস ও গঞ্জালো হিগুইন। কিছুক্ষণ পর ফিলিপ লামের ক্রসে মাথা লাগাতে পারেনি মিরোস্লাভ ক্লোসা।
খেলার ২১ মিনিটে জার্মানির টনি ক্রুস দারুণ একটি উপহার দেন হিগুইনকে। হেড করে সতীর্থকে দিতে গিয়ে হিগুইনকে বল তুলে দেন তিনি। নাপোলি স্ট্রাইকারের কাছাকাছি জার্মানির কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। মানুয়েল নয়ারকে একা পেয়েও বাইরে মেরে দলকে এগিয়ে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি। এর পর ৩০ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। মেসি ডান দিকে বাড়ান এসেকিয়েল লাভিজ্জিকে। তার ক্রস থেকে নয়ারকে পরাস্ত করে জালে জড়ান হিগুইন। কিন্তু সহকারী রেফারি উচিয়ে রেখেছিলেন অফসাইডের পতাকা।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে মেসি ডান দিক থেকে ঢুকে পড়েন ডি বক্সে। কিন্তু জেরোম বোয়াটেংকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। ৪৩ত মিনিটে মাসচেরানোর ভুল পাস থেকে ভালো একটা সুযোগ পান ক্রুস। তবে তার শট ফেরাতে কোনো সমস্যা হয়নি সার্জিও রোমেরোর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্রায় এগিয়েই যাচ্ছিল জার্মানি। ক্রুসের কর্নার থেকে বেনেডিক্ট হুভেডেসের হেড ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না রোমেরোর। দুর্ভাগ্য ৩বারের চ্যাম্পিয়নদের। বল বারে লেগে ফিরে যায়। কাছেই থমাস মুলার ছিলেন, কিন্তু তিনি হয়ে যান অফসাইড। পক্ষান্তরে বল আয়ত্বে নিয়ে নেন রোমেরো।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেও আক্রমন পাল্টা আক্রমনে জমে উঠে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল। ম্যাচের ৪৭ মিনিটেও দারুণ একটি সুযোগ পান মেসি। ডি বক্স থেকে তার শট ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না নয়ারের। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ৪ বারের বর্ষসেরা ফুটবলার। দেখা গেলো গোল পোস্টে গিয়ে মেসিও মিস করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এজেকুয়েল লাভেজ্জির বদলি হিসেবে কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া মাঠে নামান সার্জিও আগুয়েরোকে। খেলার ৫৬ মিনিটে হিগুইনের উদ্দেশ্যে জাবালেতার পাঠানো  লং পাস ডিবক্সের বাইরে দৌড়ে এসে লাফিয়ে ক্লিয়ার করেন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার। হিগুইন গোলরক্ষক নয়ার ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ফ্রিকিক দাবি করেন। কিন্তু রেফারি হিগুইনের দাবি কর্ণপাত করেননি। ৬১ মিনিটে আন্দ্রে শরোল বল নিয়ে তীব্র গতিতে দৌড়ে যেয়ে বক্সের ভেতরে পাস দেন মেসুত ওজিলেকে। কিন্তু ওজিল বলটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় গোলবারে শট নিতেও ব্যর্থ হন।
ম্যাচের ৬৪ ও ৬৫ মিনিটে গোল করতে না পারায় হতাশ আর্জেন্টিনার দুজন খেলোয়াড় অবৈধভাবে ট্যাকল করায় হলুদ কার্ড দেখেন। মুলারকে ফাউল করায় মাসচেরানো এবং শেয়েন্স টেইগারকে ফাউল করায় সার্জিও আগুয়েরো হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত দেখালেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলায় কিছুটা পরিচ্ছন্নতা ও পকিল্পনার অভাব দেখা যাচ্ছে।
৭৮ মিনিটে গঞ্জালো হিগুইনের বিশ্বকাপ খেলা শেষ হয়ে যায়। তার বদলে কোচ সাবেলা মাঠে নামান রদ্রিগো প্যালাসিওকে। ফাইনালের নায়ক হতে পারতেন হিগুইন কিন্তু গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করে সাইড বেঞ্চে চলে যান তিনি। ৮৩ মিনিটে লাম ও ওজিলের বোঝাপড়ায় আক্রমণে যায় জার্মানি, ডি বক্সের ঠিক বাইরে বল পান টনি ক্রুস। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশ হতে হয় জার্মানদের। ৮৬ মিনিটে এনজো পেরেজকে বদলে কোচ সাবেলা মাঠে নামান ফার্নান্দো গ্যাগোকে। খেলার ৮৮ মিনিটে কোচ জোয়াকিম লো কৌশল বদলে মিরোস্লাভ ক্লোসার বদলে মাঠে নামান মারিও গোৎজেকে। কিন্তু কারো কোন কৌশলই কাজে আসেনি।
তারও আগে ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয় এবারের বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার পরপরই। নান্দনিক উপস্থাপনার পাশাপাশি পরিবেশন করা হয়েছে শাকিরার তৈরি বিশ্বকাপের থিম সং ‘লা লা লা’। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শাকির তার শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। তার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় আর্জেন্টিনা-জার্মানির দুর্দান্ত লড়াই।
জার্মানি-আর্জেন্টিনার এ লড়ায়ের মধ্যদিয়েই ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরের মারাকানা স্টেডিয়ামেই এক মাস পর আনুষ্ঠানুকিভাবে পর্দা নামছে বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০১৪ এর। ৩২টি দেশের অংশগ্রহণে জমজমাট এক ফুটবল যজ্ঞ উপভোগ করেছে পুরো বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ। ফাইনাল ম্যাচে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার, জার্মানির চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম গোর্ক। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন- মারিও গোটজে।

 

 

আপডেট : সোমবার ১৪ জুলাই,২০১৪/ ০৩:৪০ এএম/ আশিক


এই নিউজটি 1079 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]