,

বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে কালুখালীর হোসেন আলী এখন ভিটে মাটি ছাড়া : স্বপ্ন আজ ভঙ্গ

News

PIC 1(2)

রবিউল ইসলাম : একটু সুখের আসায় বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে একমাত্র ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে এখন ভিটে মাটি ছাড়া রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার শ্যাম সুন্দর পুর গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে হোসেন আলী মন্ডল (৮০)ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৬০) এখন চায়ের দোকান করে মানবেতর জীবন যাপন করছে এই দুই বৃদ্ধ দম্পতি।

হোসেন আলী মন্ডল ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম এ প্রতিবেদকের কাছে তাদের জীবনের নানা দুঃখের কথা জানান। তারা বলেন, তাদের একমাত্র ছেলে মুনছের আলী মন্ডলকে তাদের ৭শতাংশ জমিসহ বাড়ী ঘর বিক্রি করে ২০০৩ সালে সৌদি আরবে পাঠান।

পরে হোসেন আলী মন্ডল তার স্ত্রীসহ শশুর বাড়িতে গিয়ে উঠেন। সেখানে কিছু দিন থাকার পর সেখান থেকে চলে আসতে হয় তাদের। পরে রাস্তার পাশে পলেথিন ও পাট কাঠি দিয়ে ঝুপরি ঘর করে প্রায় ৪ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা।

বিদেশ যাওয়ার পর থেকে হোসেন আলীর ছেলে মুনছের আলী বাবা মায়ের সাথে যোগাযগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি তাদের কোনো খোজ খবরও রাখে না।

৩বছর পর ২০০৬সালে মুনছের আলী দেশে ফিরে সে গোপনে পাশর্বতী গ্রামের গফুর সিকদার ওরফে গেদার মেয়ে আসমা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ে করার কিছু দিন পর লোক লজ্জার ভয়ে সে তার বাবা মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তার শ্বশুর বাড়ীতে নিয়ে আসে।

এভাবে ৬মাস থাকার পর তার ছেলে মুনছের আলী পুনরায় বিদেশে চলে যায়। ছেলে চলে যাওয়ার মাস খানিক পরে ছেলের বউ আসমা বেগম ও খালা শ্বাশুরি হোসেন আলী ও তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে তাদেরকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যাপারে তার পাষন্ড ছেলে মুনছুর আলীকে জানালেও সে কোনো প্রতিকার করেনি।

পরে অসহায় হোসেন আলী ও তার স্ত্রী আশ্রয় নেয় এলাকার গফুর মন্ডলের পুকুর চালায়। ঝুপরি ঘর করে এখানে ৩বছর থাকার পর ২০১২ সালের প্রথম দিকে সে পাশের ঝন্টু মোল্লার একটি ছোট্ট চায়ের দোকান মাসিক ৩শ টাকা হারে ভাড়া নিয়ে স্ত্রী সহ ঐ দোকানে উঠেন। পরে চায়ের দোকান চালু করে এ দোকানে চা ছাড়াও বিস্কুট পান সিগারেট বিক্রি করে। এতে যা আয় তা দিয়েই কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে স্বামী স্ত্রী দুইজন ঐ চায়ের দোকানেই রাত্রী যাপন করে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এলাকার প্রতিবেশী মতিন মিয়া জানান, এ দুই বৃদ্ধ দম্পতি ছেলেকে বিদেশে পাঠান একটু সুখের আশায় কিন্তু সুখের নাগাল তারা পেলেন না। দুঃখই তাদের জীবনসঙ্গী। তাছারা এলাকার জনপ্র্রতিনিধিরাও খবর রাখে না এদের।

এ দুই বৃদ্ধ দম্পতির কষ্টের জীবন চায়ের দোকানেই সীমাবদ্ধ থাকে কারন তারা স্বামী স্ত্রী মিলে দিনে দোকানদারী করে। আবার দোকানের পাশে খোলা জায়গায় রান্না করে দোকানেই রাত্রী যাপন করে। আবার সকাল হলেই প্রতিদিনের মত শুরু হয় তাদের কষ্টের জীবন ।

এ কষ্টের জীবন কি কোনো দিনই শেষ হবে না এ দুটি মানুষের। হয়তো হবে মৃত্যুর পরে। যদি তাই হয় তাহলে এতো কষ্ট করে ছেলে মেয়েকে জীবনের সব কিছু বিসর্জন দিয়ে মানুষ করে লাভ কি ?? এরকমই যদি হয় তাহলে আর কোনো মা বাবা ছেলে মেয়েকে মানুষ করার কথা ভুলে যাবে হয়তো। আসলে মানুষের বয়স হলেই কি বোঝা হয়ে যায় পরিবারের অন্য মানুষদের কাছে। এ মানুষ গুলো কি ভাবে না যে তারাও এক দিন এই বয়সে এসে দাড়াবে।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার ১৫ জুলাই,২০১৪/ ০৫:৫৮ পিএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর