ঈদের আর কিছু দিন বাকী : রাজবাড়ীর বিভিন্ন মার্কেটের বিপনি বিতান ও শপিংমল গুলোতে কেনা কাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ ,১৫ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৭:১৬ অপরাহ্ণ ,১৫ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

THRE PESH 2
রবিউল ইসলাম : ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাজবাড়ীর বিভিন্ন বিপনি বিতান ও শপিংমল গুলো। ইতিমধ্যেই সদর উপজেলার বিপনি বিতান ও শপিংমলগুলো অপরূপ সাজে সেজেছে রকমারি ডিজাইনের বাহারি সব পোশাকে।

রাজবাড়ীর শহরের জলিল খান সুপার মার্কেট, কাদেরিয়া সুপার মার্কেট, সাহা সুপার মার্কেট, কাজী প্লাজার ইত্যাদি ফ্যাশনের ফরাদ হোমেন ও জানাতুল ফ্যাশন ফেয়ারের মিন্টু খান সহ একাধীক ব্যবসায়ীরা জানান,বছরজুড়ে তারা রোজার মাসটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। সাধারনত রমজান শুরুর ২/৩ মাস আগে থেকেই চলতে থাকে তাদের ঈদ প্রস্তুতি। তবে ক্রেতাদের চাহিদা বুঝতে রোজা শুরু হওয়ার পর, সপ্তাহ খানেক সময় লাগে।

প্রতিবছরের মতো এবারো জমে উঠেছে রাজবাড়ীর ঈদ বাজার। অল্প বয়সী ও তরুণীদের জন্য বাজারে এসেছে বিভিন্ন ডিজাইন ও নামের থ্রি পিস। বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ নামের ও ডিজাইনের থ্রি-পিসগুলো কিনে সেগুলো তৈরি করার এখনই উপযুক্ত সময়। তাই দোকানগুলোতে রয়েছে তরুণী মেয়েদের উপচেপড়া ভিড়। সব থ্রি পিস ছাপিয়ে এবার জনপ্রিয়তা পেয়েছে পাখি থ্রি পিস।

পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের কেনাকাটায় পিছিয়ে নেই অল্পবয়সী তরুণীরাও। কখনো বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে কখনো বা মা-বাবা, বড় ভাই-বোনের সঙ্গে তরুণীরা করছে ঈদের কেনাকাটা।
দোকানে দোকানে ঘুরে ঘুরে বেছে নিচ্ছে নিজের পছন্দের পোশাক। তরুণ বয়সী মেয়েদের আকৃষ্ট করতে প্রতিবছরের মতো এবারো দোকানিরা বিভিন্ন দামে তাদের থ্রি পিসের নাম রেখেছে।

পাখি থ্রি পিস জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে কাজী প্লাজা মার্কেটের ইত্যাদি ফ্যাশনের মালিক ফরাদ হোসেন বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘বোঝে না সে বোঝে না’র কেন্দ্রীয় চরিত্র পাখির নামেই পোশাকের নাম হয়েছে পাখি।

পাখির পরা পোশাক থেকে মেয়েরাই এর নাম দিয়েছে পাখি থ্রি পিস। পাখির বয়সী মেয়েরা দোকানে এসে প্রথমেই খোঁজ করছে পাখি নামের থ্রি পিস।

সিরিয়ালে পাখির পরে থাকা এক ছাট ও ছয় ছাঁটের গোল থ্রি পিসই পাখি থ্রি পিস নামে এবারের ঈদ বাজারে দেদারে বিক্রি হচ্ছে। এই থ্রি পিসগুলো দেশীয় ও ইন্ডিয়ান দুই ধরনের পাওয়া যাচ্ছে।

সুতি, টেট্রন, ভেলভেট, নেট, জর্জেট, হাফ সিল্ক, সিল্ক, শিফন, কাতান, বিভিন্ন কাপড়ের তৈরি পাখি থ্রি পিস ১৫০০-৭০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের রাজবাড়ী বস্তবিতানের শাহীন মন্ডল বলেন, পোশাকগুলো প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অভিনেত্রীরা যেসব পোশাক খুব উন্নত মানের অনুষ্ঠানে পরে থাকেন সেই পোশাক ঈদে নিজেকে ঝলমলে দেখাতে মেয়েরা কিনে নিচ্ছেন।

এখানকার বিক্রেতা বলেন, অল্প বয়সী মেয়েরা উজ্জ্বল রং এবং ভারি কাজ করা এবং বিশেষ ডিজাইনের পোশাক বেশি পছন্দ করে। এতে তাদের দেখতে খুব সুন্দর লাগে। এখানে কোশিশ নামের শিফন কাপড়ের তৈরি উপরে কোটি এবং নিচে চলি সিস্টেমের এই ড্রেসটির মূল্য ৫০০০-৭৫০০ টাকা। সুতি কাপড়ের খোয়াব ৩০০০-৫০০০ টাকা, শিফনের সোয়াগাত ৬০০০-৮০০০ টাকা, শিভম ৭৫০০-১৫,০০০ টাকা, বিশাল থ্রি পিস সুতি ও সিল্ক দুই ধরনেরই পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর মূল্য ৩০০০-৬০০০ টাকা। এছাড়া সিল্কের কাপড়ের রাগা ৩০০০-৬০০০ টাকা, সান ক্লোটি ৫০০০-৬০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক দোকানের বিক্রেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে কোশিশ নামের এই পোশাকটি। এটি ডিজাইনটি বেশি সুন্দর হওয়ায় ক্রেতারা বেশি কিনে নিয়েছে।

সাহা সুপার মার্কেটের আলজুপ কালেকশনের বিক্রেতা মো. রাজিব মোল্লা বলেন, মূলত তাদের শোরুমে বিদেশী পোশাকের চাহিদা বেশি হওয়ায় বিদেশী পোশাকই বেশি বিক্রি করছেন তারা।

বিউটি ক্লথ ষ্টোর এর বিক্রেতা মিঠুন সাহা বলেন, মূলত ১৬-২৫ বছর বয়সী মেয়েরাই উজ্জ্বল রং আর জমকালো কাজ করা পোশাক কিনতে পছন্দ করছে। তাদের দোকানে পাকিস্তনি লন থ্রি পিস এবং ইন্ডিয়ান থ্রি পিসগুলো ১১ হাজার থেকে শুরু করে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শিফন ও জর্জেটের তৈরি এই থ্রি পিসসেটগুলো বিভিন্ন নামে ও ডিজাইনে এই দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।

এখানে কারিনা থ্রি পিস সেট ৫২০০ টাকা, নেতিয়া ৯০০০ টাকা, মধুবালা ৫১০০ টাকা, হামিদা ৫১০০ টাকা, আর্টক্স ৬১০০ টাকা, সুরুচি ৪৩০০ টাকা, এলিগেন্ট ৩৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় আর পাকিস্তানি থ্রি পিসের ভিড়ে জায়গা করে নিয়েছে জামদানি হাটের জামদানি থ্রি পিস।

পাচঁ তলা খানসুপার মার্কেটের কয়েক জন বিক্রেতা বলেন, সুতি জামদানি থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায় এবং হাফ সিল্ক জামদানি টু পিস বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। তিনি বলেন, এর চেয়ে কম দামে রাজবাড়ী শহরে আর কোথাও জামদানি থ্রি পিস পাওয়া সম্ভব না। জামদানি থ্রি পিস বেশ আভিজাত্য প্রকাশ করে। তাই যারা দেশকে নিয়ে বেশিভাবে তারা এই থ্রি পিস আগ্রহ নিয়ে কিনছেন।

জানাতুল ফ্যশান দোকানের বিক্রেতা মো. মিন্টু বলেন, ফিউশনের ড্রেস এবার সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ। ফিউশনের ড্রেসগুলোই সবচেয়ে ব্যতিক্রমী। এ কাপড়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা মেয়েরা কাপড় কিনে নেবার পর নিজের মাপমতো বানিয়ে নিতে পারছেন তার পোশাকগুলো। বাহারি রং ও ডিজাইনের এই পোশাকগুলোতে গোল ফ্রকের ওপর পাট পাট করে সাজানো হয়েছে আরো এক টুকরো কাপড়। সেটি কখনো হালকা টাচ দিয়েই ঘুরে এসেছে গোল জামাটির পুরো পাশ, কখনো বা এই কাপড় দিয়েই তৈরি হয়েছে আলাদা ডিজাইন। শিফন ও সিল্কের কাপড়ের ওপর জরিবুটি আর পুঁতির কাজের পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনে তৈরি হয়েছে অনন্য এই পোশাক। এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের এই থ্রি পিসের সেটগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০০০-১৬০০ হাজার টাকার মধ্যে। বিলাস টাচেই বিপুল, খোয়াব. এলিজা, বিরা, যোধা আকবর, কারিনা, কায়া, রাসা, উনটেক্স, জয়বিজয়, রিভা বিভিন্ন নামে পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক।

রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা উম্মে সালমা তমা চৌধুরী বলেন, মেয়েকে নিয়ে এসেছি ঈদের কেনাকাটা করতে। তিনি নর্মাল থ্রি পিস কিনতে চাইলে মেয়ের পছন্দে কিনতে হয়েছে পাখি থ্রি পিস। তিনি বলেন, এবার এই থ্রি পিসটা মেয়েরা বেশি পছন্দ করছে।

বিনোদুপর এলাকা থেকে আসা হামিদা আক্তার জুই বলেন, ঈদে সব সময় মেয়েরা একটু ব্যতিক্রমী পোশাক কিনতে চায়। সারাজীবন তো সালোয়ার আর কামিজ পরেই কাটছে। এবার একটু ব্যতিক্রমী ডিজাইনের ড্রেস মন্দ না। পাখি থ্রি পিস বেশ ভালোই লাগছে। তবে, সবাই যে একেবারে পাখি থ্রি পিস কিনছেন এমনটি নয়।

কেউ কেউ ব্যতিক্রমী ডিজাইনের পোশাক কেনার জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন। উদ্দেশ্য একটাই বন্ধুদের চেয়ে যেন পোশাকটি একটু আলাদা হয়।

পিছিয়ে নেই কসমেটিক্স ও জুতার দোকান গুলো, নতুন পণ্যে সাজিয়েছে তারা।

 

 

আপডেট : বুধবার ১৬ জুলাই,২০১৪/ ০১:০৬ পিএম/ আশিক

 

 

 

 


এই নিউজটি 1834 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments