দেশটা আমাদের সবার-তারেক রহমান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ ,১৬ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ ,১৬ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

এম.এ . খালেদ- পাভেল ( রাজবাড়ি নিউজ , লন্ডন ) : 

গতকাল ১৫ জুলাই ২০১৪ মঙ্গলবার লন্ডনের স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৬ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১ টায়) পূর্ব লন্ডনস্থ রমফোর্ড এসেক্স’র সিটি প্যাভিলিয়নে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব তারেক রহমান বলেন ”দেশটা আমাদের সবার তাই এইদেশের ভালো মন্দের দায়িত্ব ও আমাদের , এদেশের ভবিষৎ ও আমাদের হাতে , দেশের উন্নয়নে একসাথে কাজ করতে হবে , এ সময় তিনি বলেন বিশ্বের একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে সমৃদ্ধ আগামীতে পৌঁছার পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা। যেখানে মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। ভোটের অধিকার থাকবে। গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চা থাকবে। গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে যদি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের একটি রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি হচ্ছে যে বাংলাদেশিরা প্রকৃতপক্ষে শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রমনা ও ভবিষ্যৎমুখী, এবং ঐক্যের রাজনীতিকে আলিঙ্গন করে নেয়ার ইতিবাচক মানসিকতা তাদের চিরায়ত।

 

স্বাধীনতার ঘোষক তথা প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তা উপলব্ধি করেছিলেন বলেই রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের কয়েক বছর পর পর্যন্ত দেশ যখন একনায়কতান্ত্রিক বাকশালী জটিলতায় থেমে ছিল, তখন তিনি আবারও হাল ধরে দেশে বহুদলীয় রাজনীতি ফিরিয়ে এনেছিলেন। যার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আবারও স্বৈরাচার মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি। দেশের জনগণ সেই গণতন্ত্রকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দশকের পর দশক ধরে তা লালিত হচ্ছে প্রবল আবেগ ও অনুভুতির সংমিশ্রনে।

pavel

 

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক, অনির্বাচিত, তথাকথিত আওয়ামী লীগ সরকারের জনবিচ্ছিন্ন তথা স্বৈরাচারী মানসিকতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আছে গণমানুষ। উন্নয়নে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক গুম-খুন, সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের গণহত্যা, রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্লজ্জতম দলীয়করণ, আর দুর্নীতির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব অভিযোগের মুখে মানুষ পদে-পদে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর অনাস্থার কথা জানিয়ে দিচ্ছে। আসুন, আমরা সকল বাংলাদেশি মিলে আরো একবার দুর্নীতি ও অপশাসনের রাহুগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসি। আসুন, আন্দোলন-সংগ্রামে একাত্ন হয়ে আমরা নিজেদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করি, জাতির ভবিষ্যত গড়ে তুলি। আসুন, জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, গণতন্ত্রের মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে, দেশের স্বাধীনতার সম্মানে উজ্জীবিত হয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে, আমরা সূচনা করি আগামীর নতুন বাংলাদেশের।

 

আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও কর্ম-পরিকল্পনা বিষয়ক বক্তব্যের চুম্বক অংশ-

 

কৃষি ও কৃষকঃ

 

১. কৃষিকে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পে পরিনত করা;
২. কৃষি নির্ভর রফতানীমূখী শিল্পায়নে গুরুত্ব প্রদান;
৩. নিয়মতান্ত্রিক ও পরিকল্পিত উপায়ে কৃষিঋণ সহজলভ্য করা;
৪. আমদানীকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকীর ব্যবস্থা করা;
৫. কার্যকরী ও শক্তিশালী কৃষিবান্ধব মূল্য নির্ধারণ কমিশন গড়ে তোলা;
৬. অধিক সংখ্যক কৃষিপন্য সংরক্ষনাগার (হিমাগার, খাদ্য গুদাম) নির্মান;
৭. কৃষি ডাটাবেজ তৈরী করা; যেখানে থাকবে কৃষি পণ্যের খুচরা ও পাইকারী মূল্য, কৃষি উপকরণ, সার ও কীটনাশক, অঞ্চলভিত্তিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা, হিমাগার ও সংরক্ষণাগার, কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি পণ্যের পরিবহন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বা রপ্তানির সুযোগ এবং কৃষি ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্যাদি;
৮. কৃষিপন্যে ফরমালিন ব্যবহার কারীদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক ৫ বা ১০ বছর মেয়াদী কারাদন্ড এবং আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা কর।

 

শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনশক্তি রপ্তানিঃ
১. বর্তমান প্রশ্ন ফাঁসের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে আধুনিক, গণমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে এর গুণগত মানের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করা;
২. পাঠ্যসূচীতে নতুন নতুন আকর্ষনীয় ও কর্মমূখী ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজন করা;
৩. পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনে দুই তৃতীয়াংশ নম্বর লিখিত পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ করে বাকীটা বিষয়ভিত্তিক এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং গ্রুপ প্রজেক্টে ভাগ করে দেয়া;
৪. কর্ম নির্ভর বাস্তব ভিত্তিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষানবীশ প্রোগ্রাম, কম্পিউটার শিক্ষা, ইংরেজীর পাশাপাশি স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবী, জার্মান, ম্যান্ডারিন এর মত প্রয়োজনীয় বিদেশী ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া;
৫. প্রশিক্ষিত কর্মশক্তি তৈরী ও বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক আয় ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা;
৬. বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বৃত্তির পরিমান বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য দেশের মধ্যে উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মেধা পাচার রোধ করা।

 

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নঃ
১. চাকরীতে মেধাকে অগ্রাধিকার দিতে বিভিন্ন কোটার পরিমান ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা;
২. আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবার লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলে সমবায় ভিত্তিক কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, মৎস চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর খামার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কুটির শিল্প, ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা;
৩. আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা;
৪. আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে উৎপাদিত পণ্যের লাভজনক বিক্রয়ের জন্য অনুকুল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা;
৫. হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও প্রসারের জন্য বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে একটি আলাদা সরকারী বিভাগ খোলা;
৬. বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যাংকিং, নির্মান ও ঔসধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসহ সকল বৃহৎ শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া;
৭. রপ্তানীমুখী ও শ্রম ঘনিষ্ট শিল্প যেমন বস্ত্র ও তৈরী পোষাক শিল্প, কৃষি নির্ভর শিল্প, নির্মান কলকারখানা ও যানবাহনের যন্ত্রাংশ তৈরীর শিল্প, হালকা যানবাহন, জাহাজ নির্মান ও ভাঙ্গা, তথ্য প্রযুক্তি ও আউট সোর্সিং এবং পর্যটন শিল্পের মত কৌশলগত খাতগুলোকে আর্থিক, ব্যাংকিং, সেবা, অবকাঠামোগত এবং প্রশিক্ষন সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা করা;
৮. এই মূহূর্তে দেশে বিদ্যমান ৩ কোটি কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যাকে ৩০ লক্ষে নামিয়ে আনার মাধ্যমে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের হার মোট জনসংখ্যার ৩১% থেকে ১০% এ কমিয়ে আনা।

 

অবকাঠামো ও স্থানীয় উন্নয়নঃ
১. পরিকল্পিত নগরায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরগুলোর পানি ও পয়োনিষ্কাষন, যানজটসহ নাগরিক সুবিধাদি বৃদ্ধি করা;
২. দেশের প্রধান ২ টি শহর ঢাকা ও চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আদলে মেট্রোপলিটন এরিয়া গড়ে তোলা;
৩. রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় সকল কলকারখানা, রাসায়নিক পদার্থের গুদামসহ পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর সকল স্থাপনা সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা;
৪. ঢাকার চারপাশ ঘিরে মেট্রো-রেল চালু করা;
৫. দেশ জুড়ে নতুন শিল্পাঞ্চল তৈরী করে ঢাকায় অবস্থিত কল-কারখানাগুলোকে সেখানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা;
৬. বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সরকারী অফিস-আদালতকে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেয়া;
৭. ঢাকার উপর থেকে চাপ কমাতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামো – এই ৪ টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পার্শবর্তী জেলাগুলোতে কয়েকটি আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা;
৮. দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন দ্রুতগামী যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা;
৯. বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের সাথে একই বৈশিষ্ট্যের আন্তর্জাতিক শহরগুলোর মধ্যে পার্টনার সিটি সম্পর্ক গড়ে তোলা; যেমন ঢাকার সাথে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও প্যারিস; সমুদ্র বন্দর ও বানিজ্যিক ঐতিহ্যের কারণে চট্রগ্রামের সাথে লস-এঞ্জেলস, মুম্বাই ও সাংহাই ইত্যাদি।
১০. গ্রামাঞ্চলে স্বল্প জমিতে অনেকগুলো পরিবারের আবাসন ঘটানোর ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ, পানি, পয়ো নিষ্কাশনসহ সকল নাগরিক সেবা প্রদান সহজ করা;

rajbari

 

পরিবেশ ও জ্বালানিঃ
১.  গ্রীন এনভায়োরমেন্ট বাস্তবায়নে বাংলাদেশে বর্তমান কার্বন নিঃসরণের পরিমান প্রতি বছর প্রায় ৬০,০০০ কিলোটন থেকে কমিয়ে ৫০,০০০ কিলোটনেরও নিচে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করা;
২. হাইব্রিড যানবাহন চালুর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানী সাশ্রয় করে সেই অতিরিক্ত জ্বালানী কৃষিসহ অন্যখাতে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা;
৩. দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫% বনাঞ্চল মাত্র ৯% এ নেমে আসায় বিস্তৃত আকারে পরিবেশ বান্ধব ফলজ এবং বহুবিধ ব্যবহার ও গুণসম্পন্ন বৃক্ষরোপন কর্মসূচী গ্রহণ করা;
৪. শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠস্থ জলাধার তৈরী ও সরবরাহের মাধ্যমে পানি সংকট মোকাবেলা করা;
৫. ঢাকাসহ সকল বড় শহরে সিঙ্গাপুরের ন্যায় সুপেয় পানি ধরে রাখতে জলাধার তৈরি করে সারাবছর বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা;
৬. বিদ্যুতের দীর্ঘমেয়াদী ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে মোট উৎপাদনের কমপক্ষে ২৫% নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক জ্বালানী ব্যবহারের প্রকল্প গ্রহন করে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার ব্যবস্থা করা; এক্ষেত্রে সৌর, বায়ু, সমূদ্র স্রোত, বর্জ্য এবং জৈববর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার দিতে হবে;
৭. সুন্দরবনের রামপালে পরিবেশ বিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চিন্তা পরিহার করতে হবে।

 

তিনি বলেন ,তবে এই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন দেশে একটি সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যখন উন্নয়ন ও উৎপাদনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হবে তখন এই পরিকল্পনাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

rajbarinews24.com2

 

রাজবাড়ি নিউজ ২৪. কম 


এই নিউজটি 1686 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments