রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম : ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই চলছে নামজারী

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ ,২১ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ ,২১ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পি.ও ১৬/৭২ মূলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত রাজবাড়ী শহরের বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত তালিকাভূক্ত জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) অফিস নামজারী ও খাজনা আদায়ের নির্দেশ হতে দেয়া হচ্ছে।

এমনকি দেওয়ানী মামলার ডিক্রিমূলে নামজারী করার ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন প্রেরণ করে অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও রাজবাড়ী জেলার পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগে জানাগেছে, রাজবাড়ী বাজারের স্টেশন সড়কের স্টেশন মসজিদের পাশে অবস্থিত বিনোদপুর মৌজার ১৩৭৭ দাগের পি.ও ১৬/৭২ আদেশ বলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত ভিপি শাখার এপি-১০/৭২নং একসনা লীজ কেসভূক্ত এবং X।।।-ভিপি-রাজ-১২/৯৬নং মিস কেসের প্রায় ৭শতাংশ জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই নামজারীর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাজবাড়ী সদর ঊপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি)। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১কোটি টাকা।

নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, জেলার রাজস্ব প্রশাসনের ভিপি শাখা এবং সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ন কর্মচারীদের যোগসাজসে ভিপি শাখার X।।।-ভিপিÑরাজÑ১২/৯৬ নং মিস কেসের প্রায় ৭শতাংশ জমির মালিক অবাঙালিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে মারা গেলে সরকার পি.ও ১৬/৭২ বলে উক্ত জমি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এবং এপি ১০/৭২ মূলে একসনা লীজ প্রদান করে। অতপর জনৈক আবেদ আলী উক্ত জমি লীজ নিয়ে লোভের বশবর্তী হয়ে সরকারী জমি আত্মসাতের মানসে প্রথমে ১৩২/৭২ ও পরে ২০৭/৭২ নং দেওয়ানী মামলা করে ডিক্রি লাভ করে। ডিক্রি বলে উক্ত জমি অবমুক্তির জন্য সহকারী কমিশনার(ভূমি) রাজবাড়ী সদর এর নিকট X।।।-এপিÑ২৮/৯৫নং মিস কেস করলে অবমুক্তির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার পর বিগত ১৪/৭/২০০৫ তারিখে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব)-এর আদেশে পৌর ভূমি অফিসার, সহ-সুপার (ভিপি), আরডিসি এবং এডিসি (রাজস্ব)-এর স্বাক্ষরে পরিত্যক্ত সম্পত্তির একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। উক্ত তালিকায় এই জমি অন্তর্ভূক্ত থাকলেও ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ভিপি শাখা হতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় এই জমিসহ শহরের বিপুল পরিমাণ গেজেটভূক্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি অন্তর্ভূক্ত না করেই তালিকাটি প্রেরণ করা হয় বলে জানাযায়।

একটি সুত্র জানায়, অতি সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই রাজবাড়ী পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উপরোক্ত জমির নাম পত্তনের জন্য সহকারী কমিশনার(ভূমি)-এর কার্যালয়ে প্রস্তাব দাখিল করেছেন এবং একটি চক্র প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য নানা পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অসাধু চক্রের অন্যায় লোভের বশবর্তী হয়ে এই মূল্যবান এই সরকারী জমি বেহাত করার কাজে ভিপি শাখা এবং সদর উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসের কতিপয় পুরাতন কর্মচারী সরাসরি দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়টি ২০জুলাই রবিবার জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের গোচরীভূত হওয়ায় পর সদর উপজেলা ভূমি অফিসে তোলপাড় চলছে।

 

 

আপডেট : সোমবার ২১ জুলাই,২০১৪/ ০৪:১১ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1047 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments