এনজিওতে চাকুরী দেয়ার কথা বলে এক গৃহবধুকে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ ,২৩ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ ,২৩ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক গৃহবধু (২০)কে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনায় আদালতে দায়েরকৃত মিস পিটিশনটি গত ২১ জুলাই গোয়ালন্দ থানায় রেকর্ড হয়েছে।

গত ২১ মে দুপুর ১২টার দিকে এনজিওতে চাকুরী দেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বের করে এনে ওই গৃহবধুকে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়। ৮/৯দিন সেখানে থাকার পর পালিয়ে এসে সে গত ৫ জুন আদালতে ৯জনের নামে মামলা করে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি গোয়ালন্দ থানায় রেকর্ড হয়।

মামলার এজাহারে ওই গৃহবধু বলেন, তার বাড়ী বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া থানার গোয়েলা গ্রামে। মোবাইলের মাধ্যমে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের রুই মোল্লার ছেলে রুবেল মোল্লা (২১)-এর সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। ভালবাসার কারনে তারা স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ মার্চ তারা রাজবাড়ী নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হাজির হয়ে হলফনামার মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদন করে। এরপর থেকে সে স্বামী রুবেল মোল্লার বাড়ীতেই বসবাস করতো। স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করাকালে একই উপজেলার হাউলী কেউটিল গ্রামের বেলায়েত মোল্লার ছেলে শিপন তাকে মানবাধিকার এনজিওতে ৮হাজার টাকা বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখাতো। এক পর্যায়ে সে চাকুরী করতে রাজী হয়। গত ২১ মে শিপন তাকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে নিয়ে আসার পথে দৌলতদিয়া ছাত্তারের পুকুর চালায় পৌছালে দুপুর ১২টার দিকে পোড়াভিটা এলাকার মজিবর কসাই ও উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের রনির নির্দেশে পোড়াভিটা এলাকার মামুন ও লালন তাকে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে পোড়াভিটার পান্নু ও তার স্ত্রী নাছিমা পতিতালয়ের আফরোজা বাড়ীওয়ালীর কাছে তাকে মাত্র ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এরপর আফরোজা বাড়ীওয়ালী ৫হাজার টাকা লাভে ২০হাজার টাকায় লালনের স্ত্রী টিনা বাড়ীওয়ালীর কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়। এরপর টিনা বাড়ীওয়ালী জোর পূর্বক তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করে। এভাবে ৮/৯দিন সেখানে থাকার পর গত ২৯ মে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সে দৌলতদিয়া পতিতালয় থেকে পালিয়ে স্বামীর বাড়ীতে চলে আসে।

এ ঘটনার পর সে গোয়ালন্দ থানায় উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানায় মামলা না নেওয়ায় গত ৫ জুন সে আদালতে উল্লেখিতদের আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৫ (২)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য গোয়ালন্দ থানার ওসিকে আদেশ দেন। আদালতে নির্দেশে মামলাটি গত ২১ জুলাই গোয়ালন্দ থানায় রেকর্ড হয়। তবে এ খবর লেখা পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।

 

 

আপডেট : বুধবার ২৩ জুলাই,২০১৪/ ০১:০৪ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1267 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments