৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্যামেরনের অসন্তোষ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ ,২৪ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৯:০৮ অপরাহ্ণ ,২৫ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ী নিউজ ডেস্ক :  রক্ষণশীল দলীয় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশের গত ৫ই জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বৃটেনের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। গতকাল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পরে বৃটেনের হাউস অব কমন্স এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এক সপ্তাহের ব্যবধানে নির্বাচনের প্রতি গভীর অনাস্থা ব্যক্ত করেছিল। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে ভারত, চীন ও রাশিয়া ব্যতিরেকে অবশিষ্ট বিশ্ব ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না। তবে অনেকের মতে ওই নির্বাচন সম্পর্কে শীর্ষ পর্যায়ের কোন আলোচনায় সরাসরি অনাস্থা ব্যক্ত করার প্রথম খবর ওয়েস্টমিনস্টার গণতন্ত্রের দেশ বৃটেন থেকেই এলো।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র অলস্টার ক্যাম্পবেল গতকাল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, ‘‘প্রধানমন্ত্রীগণ বাল্যবিবাহ নির্মূল, জানুয়ারির বাংলাদেশ নির্বাচন, উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ এবং বাংলাদেশী সম্প্রদায় নিয়ে কথা বলেন। তাদের বৈঠক শেষে ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন:
‘‘গার্ল সামিটকে সামনে রেখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সকালে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বাল্যবিবাহ নির্মূলে বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান এবং দুই নেতা তাদের এই শক্তিশালী অঙ্গীকারের বিষয়ে ফলোআপ করতেও একমত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন ও তাদের শিক্ষা বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী (ক্যামেরন) ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন, যা অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। তারা একটি উন্মুক্ত সমাজ এবং রাজনৈতিক পদ্ধতি যাতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মিডিয়ার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা নিশ্চিত হবে সে বিষয়ে একমত হন।
উভয় নেতা আরও একমত হন যে, ২০১৫ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরবর্তীকালেও তারা একযোগে কাজ করবেন। সবশেষে তারা বৃটেনের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বৃটেনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে তাদের অবদানকে স্বাগত জানান।’’
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন কার্যত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নে এর আগে হাউস অব কমন্সের সদস্যদের দেখানো মনোভাবটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে দু’দিন বিতর্ক হয়। এতে সকল দলের প্রায় ৪০ জন সংসদ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি ওই বিতর্কে অংশ নিয়ে কমন্সের বাংলাদেশ বিষয়ক সংসদীয় গ্রুপ বলেছিল, তারা নির্বাচনের আগে একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। নির্বাচন যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় সে জন্য তারা দুই প্রধান দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ সংসদীয় গ্রুপ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিল।
গত ৩০শে জানুয়ারি হাউস অব কমন্সের বাংলাদেশ বিতর্কে অংশ নিয়ে ফরেন ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী হাগ রবার্টসন বলেছিলেন, প্রথমত ওই নির্বাচনে সহিংসতা ও জনগণ তাতে অংশগ্রহণ না করার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানে পৌঁছতে আমরা অবিলম্বে প্রধান দলগুলোর মধ্যে সংলাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আহ্বান জানাচ্ছি। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর গণতন্ত্র দরকার।
রবার্টসন আরও স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন করা সঠিক হলেও এটা একটা উদ্বেগজনক বিষয় যে, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশী জনগণের মতামতের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটেছে কিনা।’
লক্ষণীয় যে, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় পলিটিক্যাল সিস্টেমে পলিটিক্যাল পার্টির অংশগ্রহণের কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। গত জানুয়ারির কমন্স বিতর্কেও বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা সমস্বরে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা সমীচীন হয়নি।
লেবার দলীয় এমপি আন্ড্রু স্মিথ প্রশ্ন করেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার ফলেই কি বাংলাদেশ আজকের পলিটিক্যাল ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়নি?
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর পুরোপুরি সফল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফর অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। বলেন, বিশ্বে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কন্যা শিশু সম্মেলনে একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেই আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারী জাগরণে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে তাতে বৃটেন বিস্মিত। বিস্ময়কর এ অগ্রযাত্রার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে বৃটেন সম্মান এবং মর্যাদার চোখে দেখে। এজন্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটেও ভ্রমণের ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ২২শে জুলাই যুক্তরাজ্যে ফিমেইল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম) বা মেয়েদের খতনা এবং বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে বা চাইল্ড আর্লি ফোর্সড ম্যারেজ (সিইএফএম) বিরোধী গার্ল সামিট-২০১৪ অনুষ্ঠিত হয়।
৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বৃটিশ সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে কিনা এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ডেভিড ক্যামেরন জানিয়েছেন ওই নির্বাচন এখন অতীত। বৃটিশ সরকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তারা ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি। তবে বৈঠকে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পর্কে কোন আলোচনা হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামী দলগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে বলে উল্লেখ করেন। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। ( সূত্র – দৈনিক মানবজমিন )

২২/০৭/২০১৪ এর ডাউনিং স্ট্রীট এর প্রেস এর ওরিজিন্যাল কপি, লিঙ্কে  :-

https://www.gov.uk/government/news/pm-meeting-with-prime-minister-hasina-of-bangladesh-july-2014

 

আপডেট : শুক্রবার ২৫ জুলাই,২০১৪/ ০২:২৪ এএম/ আশিক


এই নিউজটি 1147 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]