বিদায়বেলা কাঁদলেন কাঁদালেন, শিগগিরই দেশে ফিরছি : তারেক রহমান

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ ,২৬ জুলাই, ২০১৪ | আপডেট: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ ,২৬ জুলাই, ২০১৪
পিকচার

ডেস্ক রিপোর্ট :  সৌদি সফর শেষে বিদায়বেলা জিয়া পরিবারের সদস্যরা কাঁদলেন ও অন্যদের কাঁদালেন। জেদ্দা ও দুবাই বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়ে সবাই কাঁদেন। নেতাকর্মী ও মায়ের কান্নার জবাবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন—‘আর কান্না নয়, বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে লড়াই করতে হবে। কাঁদতে হবে না, শিগগিরই দেশে ফিরব’ বলে তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন।
গতকাল শনিবার সকালে জেদ্দা বিমানবন্দরে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে এসে নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান উল্লিখিত কথাগুলো বলেন। দুবাই বিমানবন্দরে স্নেহময়ী মা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে গিয়েও তিনি একই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। ২০১১ সালে বেগম জিয়ার যুক্তরাজ্য সফরের পর গত ১৯ জুলাই দুবাই বিমানবন্দরে তাদের পারস্পরিক সাক্ষাত্ হয়। মদিনা ও মক্কায় গত সাতদিন তারা একত্রে ইবাদত-বন্দেগি করেন।
সাতদিনের সৌদি সফর শেষে গতকাল শনিবার রাতে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। রাত পৌনে ৮টায় তিনি ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে যান। জেদ্দা থেকে একত্রে এমিরেটস-এর ইকে-৮১০ ফ্লাইটে তারা দুবাই পৌঁছেন। জিয়া পরিবারের সদস্যদের সাতদিনের পুনর্মিলনী শেষে ফের বিচ্ছিন্ন হওয়ার দৃশ্যটি ছিল কেবল চোখের পানি ফেলার।
সফর সঙ্গীরা জানান, দুবাই বিমানবন্দরে তারা যখন বিচ্ছিন্ন হন সবার চোখে ছিল পানি। খালেদা জিয়া স্নেহের নাতনি জাইমা রহমানকে জড়িয়ে ধরে কয়েক মিনিট ফুপিয়ে কাঁদেন। এরপর ছেলে তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমান বিদায় নেন। ঢাকায় পৌঁছলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।
জেদ্দা বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী জড়ো হন। বিদায়বেলা অনেকে কেঁদে ফেলেন। তারেক রহমানও অশ্রসিক্ত হন এবং স্বাভাবিক হয়ে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের জন্য বলেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা রকীবুল ইসলাম বকুলকে জড়িয়ে ধরে তারেক রহমান বলেন, কেঁদো না। শিগগিরই দেশে ফিরে আসব। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যে কোনো মূল্যেই আমাকে ফিরতে হবে।
গত ২০ জুলাই সৌদি সফরে যান বেগম খালেদা জিয়া। আর লন্ডন থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সৌদি যান তারেক রহমান। সাতদিন একত্রে থেকেই ইবাদত-বন্দেগি আর রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা তৈরিতে সময় কাটান মা ও ছেলে।
শুক্রবার মক্কার পবিত্র বায়তুল্লাহ শরিফে জুমায়াতুল বিদা নামাজ আদায় এবং বিদায়ী তাওয়াফ শেষে ফিরে যান তারা। সফর সঙ্গীদের নিয়ে শুক্রবার রাত তিনটার দিকে তারা মক্কা ত্যাগ করেন।
জেদ্দা বিমানবন্দরে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে বিদায় শুভেচ্ছা জানান সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব ও সৌদি সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবদুর রহমান। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, সৌদিআরব সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন, পশ্চিমাঞ্চল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম নান্নু, জেদ্দা মহানগর বিএনপি নেতা এমএ আজাদ চয়ন, কেফায়েতউল্লাহ চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন আল মারুফ, যুবদলের পশ্চিমাঞ্চল সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, জেদ্দা যু্বদলের নেতা প্রিন্স আল লিনটন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এরশাদ আহমেদ, বিএনপি নেতা ওয়ায়েছ আহমেদ, মোজাম্মেল হোসেন রিপন, আনোয়ার জাহিদ, মোশাররফ হোসেন, আজাদ, শিপন, হানিস সরকার, রঞ্জু আহমেদ, আবদুস শহীদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহজাহান, আলমগীর হোসেন ও মেহেদী হাসান প্রমুখ।
শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য রয়েল প্যালেস থেকে সপরিবারে বায়তুল্লাহ শরিফে যান বেগম খালেদা জিয়া। খুতবার আগে তারা নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করেন। খুতবা শুনেন এবং নামাজ আদায় করেন। বিকেলে বিদায়ী তাওয়াফ করেন বেগম জিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত এনামুল হক চৌধুরী, সৌদি বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, আহমদ আলী মুকিব, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শহিদুল্লাহ ভুইয়া, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ক্বারী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ ।
এদিকে, মক্কায় রয়েল প্যালেসে অবস্থানকালে বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন আইডিবি’র প্রেসিডেন্ট আহম্মেদ আলী।

10567369_915861855097063_1487287870_n
খালেদা জিয়া গত ২০ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বাদশার আমন্ত্রণে সৌদি আসেন। সর্বপ্রথম মদিনায় এসে তিনি মহানবী (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন। এরপর সেখানে তিনদিন অবস্থান করে ইবাদত বন্দেগিতে সময় কাটান। ২২ জুলাই রাতে মক্কায় আসেন। ওই রাতেই পবিত্র ওমরা পালন করেন। ধর্মীয় এই সফরে রাজনৈতিক বিষয়কে গুরুত্ব দেননি তিনি। ইবাদতের কারণে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেননি বললেই চলে। তবে মদিনায় আল ইমান হোটেলে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠকে মিলিত হন তিনি। সাংগঠনিক কিছু সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন তারা। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।

 

 

 

আপডেট : রবিবার ২৭ জুলাই,২০১৪/ ০১:৩১ এএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1822 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from জাতীয়