,

‘দেশে সুশাসন নেই, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন’

News

ঢাকা : জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশে সুশাসন নেই। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। এভাবে চললে ইতিহাসই সরকারকে মূল্যায়ণ করবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া সাক্ষৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব বলেন,এটা তাদের অভ্যন্তরীন সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু দেশে কি আজ সেই পরিস্থিতি আছে? মাত্র ছয় মাস আগে নির্বাচন হয়েছে। তার আগে তারা এক বছর দেশে জ্বালাও- পোড়াও রাজনীতি করেছে বিএনপি। এতে কি তারা তাদের লক্ষে পৌঁছতে পেরেছে? পারেনি। কারণ মানুষ বিএনপির সঙ্গে নেই। গত ২৪ বছর ধরে তারা হয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না হয় বিরোধী দলে। আর এখন! সংসদেও নেই, রাজপথেও নেই। হতাশায় নিমজ্জিত কর্র্মীদের পুনরোজ্জীবিত করার জন্য আন্দোলনের নামে হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। যার সঙ্গে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি দেশে আজ যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে বিএনপি দিশেহারা। সংগঠন আগোছালো, মহানগর কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্ত ওই কমিটির কেউ দায়িত্ব নিয়ে রাস্তায় নামছে না। তাদের সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা। তারা প্রচুর সম্পদ এর মালিক। সম্পদই তাদেরকে টানছে। তাই তারা রাজপথে নেই। আমরা সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দল হিসাবে আছি। প্রশ্ন জাগতে পারে আমরা কিভাবে আছি? পার্টির চেয়ারম্যানের বক্তব্য,সংসদীয় দলের নেতার বক্তব্য এবং আমার বক্তব্য বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যাবে সংসদে আমরা সরকারকে কোন ছাড় দেইনি। বাজেটের ঘাটতি কিভাবে পূরণ হবে? সেই প্রশ্ন তুলেছি। সরকার বলেছে ৭ দশমিক ৭ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে,তা আদৌ হবে কিনা সে প্রশ্নও আমরা সংসদে তুলেছি। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন,আমরা ষ্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশে সুশাসন নেই। সরকারের প্রধান কাজ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া । এটা- মানুষের মৌলিক জন্মগত অধিকার। যদি সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে না পারে একটি ব্যার্থ সরকার হিসাবে পরিগনিত হবে। আর ইতিহাস বড়ই নির্মম। রায় দেবে সরকার কোন পথে যাবে। মিরপুর বিহারী পল্লী, ফেনী ও নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় মানুষ আতংকিত। এসব কারণে দেশে কোথাও সুশাসন দেখতে পাচ্ছি না। তাই সরকার যত উন্নয়ন বা ফ্লাইওবার করুক না কেন- মানুয়ের মন জয় করতে পারবে না। আমরা সুশাসনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলবো । সংসদে এবং সংসদের বাইরে।
তিনি বলেন, বিএনপি নয়,আমরাই প্রকৃত ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করি। বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা রাজাকার নিজামী ও মুজাহিদের হাতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিল। দেশের শতকরা ৯০ভাগ লোক মুসলমান। আমরা রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম করেছি। শুক্রবার ছুটির দিনও আমরা করেছি। কাজের মাধ্যমেই ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে জাপা। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের আপোষের প্রশ্নই ওঠে না। সরকার যতই উন্নয়নের কথা বলুক, যদি দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, উন্নয়নের আহবান ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হবে। সরকারকে জনগণ মেনে নেবে না। আর আমরা সরকারের বিকল্প শক্তি হিসাবে জাপাকে দাঁড় করাতে চাই। আগামি দিনে এই সরকারকে জাপা নির্বাচনের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতায় আসবে। সরকারের সার্বিক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জপা মহাসচিব বলেন, সরকারের বয়স ৬মাস। এ মুহূর্তে সরকারকে মূল্যায়নের সময় যদি আসে বলবো; মানুষ নিরাপত্তাহীন। কোথাও স্বস্থি নেই,্ শান্তি নেই। ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি-চাদাঁবাজি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-শিক্ষক লাঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগে অর্ন্তদ্বন্ধ,অর্ন্তকলহ- ফেনীতে দিনের বেলায় পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এতে কি মনে হয়? আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনে আছে? গুম হত্যার প্রতিবাদে আমরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছি। জনশ্রুতি আছে জাপার মহাসচিব হিসাবে যতটুকু না আপনি দলের জন্য কাজ করছেন তার চেয়ে বেশি শেখ হাসিনার স্বার্থ হাসিলের পেছনে কাজ করছেন- এ প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, সরকারের পক্ষে কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। জাপা তিন ধারায় বিভক্ত এমন প্রশ্নে বাবলু পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, কয়েকদিন আগে দলের সংসদীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ গুলশানে ইফতার পার্টি দিয়েছেন। সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, আমি, জিএম কাদের সাহেবসহ প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। যদি তিন ধারায় বিভক্ত থাকতো তাহলে তো তারা আসতেন না। জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসাবে আপনার সামনে এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান শক্তি হচ্ছে তার সাংগঠনিক অবস্থান। ঈদের পর আমাদের প্রধান কাজ সারাদেশে সম্মেলন করে দল গোছানো। পাশাপাশি আগামি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা। এজন্য আগস্ট মাসে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ফেনী,লক্ষèীপুরসহ ১৮ জেলায় সম্মেলন করবো। রমজান মাসে আমরা ৭৬ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৬২ জেলায় ইফতার পার্টি করেছি। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ইফতার পার্টি হয়েছে। আগস্ট ,সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাস সারাদেশে সম্মেলন হবে। একইসঙ্গে ঈদের পর সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করার জন্য ঢাকার আশ-পাশে টঙ্গি,গাজীপুর,নরসিংদি,মানিকগঞ্জ জনসভা করবো। পরিকল্পনা অছে বৃষ্টির পর অক্টোবর থেকে ৭টি বিভাগীয় শহরের সদরে সমাবেশ করার। এসব মহাসমাবেশ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ৫ই জানুযারির নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ ছিল-আমাদের নির্বাচন ত্রুটির্পূর্ণ ছিল কি ছিল না তা নিয়ে কারো সার্টিফিকেট দেয়ার দরকার নেই। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মাথা ঘামানোর জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন না। তাদের গুয়ানতানামো কারাগার নিয়েতো আমরা কথা বলিনা।

 

 

আপডেট : বুধবার ৩০ জুলাই,২০১৪/ ০৩:৫৭ পিএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর