,

সর্বশেষ :
রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন অ্যাড. খালেক ও আসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাজবাড়ী-১ আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো : অ্যাড. খালেক রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাড. আসলাম মিয়ার গণসংযোগ রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন ইমদাদুল হক বিশ্বাস রাজবাড়ীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য আ’লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন আশরাফুল ইসলাম রাজবাড়ী-১ আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিলেন মিল্টন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে শান্তি পৌঁছে দেওয়া হবে : রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চরমপন্থি নেতা নিহত

গাজায় লাশের মিছিল কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে : হামলা অব্যাহত

News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় লাশের মিছিল কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে। আগের দিন জাতিসংঘ স্কুলে আবারো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। এ নিয়ে রবিবার ইসরাইলি হামলায় মোট ৩০ জন নিহত হল। এর পর গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৭৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৯ হাজার ৮০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে ৬৬ ইসরাইলি নিহত হয়েছে বলে তেলআবিব দাবি করেছে। তবে হামাসের দাবি, তাদের যোদ্ধাদের হামলায় অন্তত ১৩০ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলি নাগরিকদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত গাজায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, হামাস মনে করছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগ্রহ ও দৃঢ়তা কোনটাই ইসরাইলের জনগণের নেই। তবে তাদের ধারণা যে ভুল তারা অচিরেই তা টের পাবে। ইসরাইলের জনগণের সুরক্ষার জন্য তেলআবিব সবকিছুই করবে। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলে হামলার জন্য তাদেরকে ‘অপূরণীয় মূল্য’ দিতে হবে।

অন্যদিকে দুদিন আগে শুক্রবার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিখোঁজ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে তেল আবিব জানিয়েছে। এর কিছু আগেই গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ শহরে জাতিসংঘ পরিচালিত এ স্কুলে রবিবার বিমান থেকে গোলা বর্ষণ করে ইসরাইল। ওই স্কুলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইল সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করলেও গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে। হামাসও ইসরাইলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলের প্রবেশদ্বারের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর আগে গত ২৪ জুলাই জাতিসংঘের একটি স্কুলে হামলা চালায় ইসরাইলের বিমান বাহিনী। ওই বর্বর হামলায় স্কুলটিতে আশ্রয় নেয়া ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। আহত হয় প্রাায় শতাধিক। গাজার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা জানান, রোববার ৩০ জন নিহত হয়েছে। তার আগে ফিলিস্তিনের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, ইসরাইলি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ শহরে নয়জন ও গাজার মধ্যাঞ্চলে তিন জন নিহত হয়েছে।

গাজায় নিখোঁজ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে তেলআবিব জানানোর পরই জাতিসংঘের স্কুলে বিমান হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, শুক্রবার সংঘর্ষের সময় জঙ্গিদের হাতে আটক ইসরাইলি সেনা হাদার গোল্ডিন (২৩) নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হামাস ও ইসরাইলের ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি ভেঙ্গে পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

গত শুক্রবার ইসরাইল সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, গোল্ডিন গাজায় হামাস যোদ্ধাদের হাতে আটক হয়েছে। তবে হামাসের সামরিক শাখা ওইদিন এক অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে দুই ইসরাইলি সেনাকে হত্যার ঘোষণা দিলেও নিখোঁজ সেনাকে আটকের দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ওই ইসরাইলি সেনার অবস্থান সম্পর্কে তারা কিছু জানে না।

হামাসের সামরিক শাখা জানায়, যে এলাকায় ইসরাইলি সেনা আটক হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সেখানকার কিছু যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইসরাইলি বিমান হামলায় সেখানকার যোদ্ধারা ও সম্ভবত গোল্ডিন নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইলের কফর সাবা শহরে শনিবার রাতে নিহত সৈন্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সামরিক প্রধান।ডিএনএ পরীক্ষার পর গোল্ডিন নিহত হয়েছে বলে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ধারণা করছে।

হামাসের মুখপাত্র ফাউজি বারহাম ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে বিভ্রান্তকর উল্লেখ করে তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হামাসের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের সৈন্য একটি সাময়িক নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং ওই এলাকাগুলোতে নতুন সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল পিটার লার্নার বলেন, আমরা কিছু এলাকা থেকে সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছি। আমরা সৈন্যদের রদবদল করছি। তিনি একে চলমান মিশন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে হামাসের বিরুদ্ধে আরো ব্যাপক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর একদিন আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার কিছু এলাকায় তাদের অভিযান বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে বেইত লাহিয়া ও আল আতাতরার বাসিন্দাদের জানানো হয় যে তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।

 

আপডেট : সোমবার ৪ আগষ্ট,২০১৪/ ০৩:০৬ এএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর