,

বালিয়াকান্দিতে বিয়ে বাড়ীতে সাগরানার টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা : থানায় মামলা

News

স্টাফ রিপোর্টার : বালিয়াকান্দি উপজেলার দক্ষিণ বালিয়াকান্দি গ্রামে বিয়ে বাড়ীতে সাগরানার টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নুরু বিশ্বাস ওরফে আঃ রহমান বিশ্বাস (৬৮) নামের এক ব্যক্তিকে। এ ঘটনায় গত ৩ আগষ্ট বালিয়াকান্দি থানায় ১৩জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
নিহতের ছেলে নান্নু বিশ্বাস (৪০) জানান, গত ৩১জুলাই তার চাচাতো ভাই শাহাদৎ বিশ্বাসের মেয়ে তুলির বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল। ওই দিন দুপুরে বরযাত্রীরা মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার রাধানগর গ্রাম থেকে বিভিন্ন গাড়ীতে বিয়ে বাড়ীতে আসে। বরের সাগরানা খাওয়ানোর সময় বরের লোকজন খুশি হয়ে তার চাচাতো ভাতিজী রোজিনা (৩০) ও লিপি বেগম (২০)সহ তাদের সঙ্গীয়দের ২০০ টাকা বকশিস দেয়। বর্তমান সময়ে বকশিসের এই ২০০ টাকা কম হওয়ায় তারা তা না নিয়ে আমার পিতার কাছে বরযাত্রীদেরকে ফেরত দেওয়ার জন্য দেয়। আমার পিতা নুরু বিশ্বাস ওরফে আঃ রহমান বিশ্বাস ওই ২০০ টাকা বরযাত্রীদের ফেরত দিলে হেলেনা, শাহিনা ও রোজিনা (বরযাত্রীদের আত্মীয়) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে বরযাত্রীরা চলে যায়। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমার পিতা আঃ রহমান বিশ্বাস আমাদের বাড়ীর সামনে ইটের ছলিং রাস্তার উপর এলে বরযাত্রীদের আত্মীয় দক্ষিণ বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত ফটিক বিশ্বাসের ছেলে সাইদ বিশ্বাস (৫৫), আমির হোসেন বিশ্বাস (৫০), সাইদ বিশ্বাসের ছেলে শাহিনুর বিশ্বাস (২৬), সোহেল বিশ্বাস (২২), মনিরুল বিশ্বাস (১৯), আমির বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাস (২৫) ও সবুজ বিশ্বাস (২৮), আমির বিশ্বাসের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪৫), সাইদ বিশ্বাসের স্ত্রী জামেনা বেগম (৫০), আমির বিশ্বাসের মেয়ে সেলিনা (৩০), সাইদ বিশ্বাসের মেয়ে শাহিনা (২৮), রাধানগর গ্রামের হারুনের স্ত্রী হেলেনা (২২) ও মধুখালী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের রহমানের স্ত্রী রোজিনা (২৫) জোটবদ্ধ হয়ে ধারালো, চাকু, চাপাতি, দা ও লাঠিশোঠা নিয়ে এসে আমার পিতাকে সাগরানার বকশিসের টাকা কেন ফেরত দেওয়া হয়েছে এর জবাব চায়। আমার পিতা কিছু বুঝে উঠার আগেই উল্লেখিতরা তাকে উপযুপরি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে উল্লেখিতরা যার যার বাড়ীতে চলে যায়। এ ঘটনার পর গুরুত্বর অবস্থায় আমার পিতাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ফরিদপুর মেডিকেলে আমার পিতার অবস্থা আরো খারাপ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে রেফার করে। এরপর আমার পিতাকে ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তৃপক্ষ আমার পিতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। এরপর আমার পিতাকে গত ১আগষ্ট ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার পিতা আঃ রহমান বিশ্বাস মারা যায়।
এ ঘটনায় তিনি (নান্নু বিশ্বাস) উল্লেখিতদের আসামী করে গত ৩ আগষ্ট বালিয়াকান্দি থানায় ৩০২/১১৪/৩৪ দঃবিঃ ধারায় মামলা নং-১ দায়ের করেন। বালিয়াকান্দি থানার এসআই মোঃ আতাউর রহমানকে মামলাটি তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

আপডেট : সোমবার ৪ আগষ্ট,২০১৪/ ১১:৪১ পিএম/ আশিক

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর