রাজবাড়ীতে সাপের খামার, অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা, তৈরী হবে এন্টি ভেনাম

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ ,৮ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ ,৮ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কম:
প্রতিনিয়তই সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বাংলাদেশে। নতুন নতুন আবিষ্কার আর ভাল উদ্যোগ গুলোকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশ। উন্নত দেশগুলোকে অনুসরন করে সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি প্রান্তে গড়ে উঠেছে ছোট বড় কিছু বিষাক্ত সাপের খামার। মুলত সাপ সংগ্রহ ও সংরক্ষন, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিষ সংগ্রহ, রপ্তানী এবং প্রতিশোধক তৈরীর উদ্দ্যেশ্যেই গড়ে উঠেছে এসব খামার। কিছু সাহসী ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় আজ উজ্জল সম্ভাবনার দারপ্রান্তে  পৌঁছেছে বাংলাদেশ। ডিসকভারি এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে বিষাক্ত সাপ সংগ্রহ পালন ও বিষ সংগ্রহের উপর নানা তথ্যচিত্র দেখেই অনুপ্রানিত হয়েছেন এদেশের কিছু সাহসী উদ্যোক্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারী অনুমোদন এবং যথাযথ পর্যবেক্ষনই এসব খামার দেশের জন্য আনতে পারে নানা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও সুক্ষ্যাতি।
দেশের পটুয়াখালি, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম ও নওঁগার পর এবার সম্প্রতি কয়েক তরুনের সাহসী উদ্দ্যোগে রাজবাড়ীতে গড়ে উঠেছে বিষধর সাপের খামার। এ জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাঁসাদহ গ্রামে কয়েক প্রজাতির বিষধর সাপ নিয়ে গড়ে উঠেছে এ খামার। প্রথমে এলাকাবাসীর নানা কোটুক্তি শুনলেও এখন নানা রকম বাহবাহ্ পাচ্ছেন উদ্দ্যোক্তারা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরীক্ষামূলকভাবে ৮৩ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠা ‘রাজবাড়ী স্নেক ফার্ম’ নামের এ খামারে আছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০টি বিষাক্ত সাপ। সম্প্রতি ৪টি গোখরা সাপের ডিম থেকে প্রায় ৬০টি বাচ্চা পাওয়া গেছে।
DSC00442সরজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রাপ্ত বয়স্ক বিষাক্ত সাপগুলোকে আলাদাভাবে প্লাস্টিকের খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাচাগুলো সারিবদ্ধ ভাবে একটি ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে। এছাড়া ঐ ঘরের ভেতরেই একটা ছোট্ট হাউজ সিস্টেমেরে মধ্যে রাখা হয়েছে বাচ্চা সাপ। এ খামারে স্থান পেয়েছে ৩ প্রজাতির সাপ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান র‌্যাট স্নেক (Plyas Mucosa),  ইন্ডিয়ান কোবরা (Naja Naja), কমন ক্রেইট (Bungarus Caeruleul)। এসব সাপগুলোর অধিকাংশই সংগ্রহ করা হয়েছে আশেপাশের স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে। এলাকায় এমন সাপের খামার থাকায় আনন্দিত এলাকাবাসী এখন কোথায় সাপের দেখা পেলেই খবর দেন এখানে। সাপ রক্ষনাবেক্ষন এবং পরিচর্যার জন্য এখানে রয়েছেন ৪ জন কর্মচারী। বিষাক্ত প্রাপ্ত বয়স্ক সাপগুলোকে সপ্তাহে একদিন খাওয়ানো হয় বয়লারের বাচ্চা (১ দিন বয়সের) অথবা ব্যাঙ বা ইদুর। আর বাচ্চা সাপগুলোকে খাওয়ানো হয় কেচোঁ ও আলোর ফাঁদের মাধ্যেমে সংগ্রহ করা বিভিন্ন পোকামাকড়।
রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় খামারের প্রধান উদ্যোক্তা মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু বলেন, চাচাতো ভাই ডাক্তার তাই সাপ নিয়ে তার কিছু পরামর্শ আমাকে এ খামার করতে উৎসাহ যোগায়। এরপর ইন্টারনেটে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি এবং পাশাপাশি রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নুরুজ্জামান স্যার ও ছাত্র তন্ময়সহ আমার কয়েক বন্ধুর সাথে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেই এ খামার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেই। পরে পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাক এবং রাজশাহীর বোরহান বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে দিক নির্দেশনা দেন। বর্তমানে সাপের খামারের পাশাপাশি কেঁচো এর মাধ্যেমে আর্দশ জৈব সার উৎপাদনের একটি খামারও এখানে করেছি।
খামারের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন নিয়ে তিনি বলেন, মুলত সাপ সংগ্রহ এবং সংরক্ষন করে জনসাধারনের মাঝে এর প্রয়োজনিয়তা এবং সচেতনাত বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আমাদের খামারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এছাড়া সরকারের সহযোগিতা ও নিবন্ধন পেলে খামারে সংগৃহীত বিষ দিয়ে এন্টিভেনাম উৎপাদন সম্ভব হবে এবং বানিজ্যিকভাবে বিষ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অজন করা সম্ভব হবে। রঞ্জুর নিজস্ব অর্থায়নেই চলছে এ খামার। গত এক বছরে এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা এর মধ্যে মাসিক খরচ প্রায় ১৫-১৮ হাজার টাকা। খামারের দিক নির্দেশক ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. নূরুজ্জামান রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কমকে বলেন, এটি একটি সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করলে এটি অর্থনীতি ও ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
এদিকে এমন বিষাক্ত সাপের খামার রক্ষনাবেক্ষনে যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণ নাশের মত অপ্রীতিকর ঘটনা। আর এসব ঘটনার মোকাবেলায় রাজবাড়ীতে নেই এর উপযুক্ত প্রতিশেধক। তাই খামারীদের দাবি শিঘ্রই যেন জেলা সদর হাসপাতালে সাপের বিষ প্রতিশেধক রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম খান রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কমকে বলেন, যেকোন ভাল উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়াটাই আমাদের কাজ। খামারের অনুমোদনের ব্যাপারে প্রয়োজন হলে সুপারিশ করা হবে। সদর হাসপাতালে এন্টিভেনাম রাখতে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলব।
অন্যদিকে খামার স্থাপনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য খামারটি প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তাই এ সময়ে দুরদুরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের উপচে পরা ভির লক্ষ্য করা যায়।

রাজবাড়ী নিউজ ২৪.কম/এনআরএইচ/০৮ আগষ্ট/৬.৩০ এএম


এই নিউজটি 1951 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]

More News from জাতীয়