রাজবাড়ীতে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কলেজ শিক্ষক আটক : রাতে মুক্তি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ ,১২ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ ,১২ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভূক্তভোগী কর্তৃক সনাক্তকৃত কলেজ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম (৪০)সহ ৩জনকে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ ১১ই আগস্ট সোমবার সকালে আটক করেছে।

আটককৃত কলেজ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রাজবাড়ী রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং এনজিও কেকেএস-এর কর্মচারী আকরাম হোসেনের আপন সহোদর।

অভিযোগে জানাগেছে, ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম এলাকার ময়নুল হোসেন ওরফে মইনুল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরাতন ট্রাক কিনে সংস্কার ও রং চং করে বিক্রি করে। গত ৬ই আগস্ট বিকেলে সে রাজবাড়ীতে এসে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২লাখ টাকা তুলে মাহেন্দ্রযোগে গোয়ালন্দ মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। তার বহনকারী মাহেন্দ্র গোয়ালন্দ মোড় সড়কের সদর উপজেলার আলাদীপুর জামাই পাগলের গেট এলাকায় যাওয়া মাত্রই সময় ৪/৫জনের একদল লোক মাহেন্দ্রটির গতিরোধ করে ‘নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে মইনুলকে একটি নোয়া গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে তুলে নেয়ার পর তাকে মারধর করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার পর বসন্তপুর এলাকার নির্জন একটি স্থানে ফেলে রেখে যায়।

১১ই আগস্ট সোমবার সকালে ওই ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে এবং তার দেখানো মতে রাজবাড়ী সদর থানার এস.আই মোঃ এনসের আলী শহরের পান্না চত্বর এলাকা থেকে শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। সাইফুলকে আটকের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্কুল শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ দাস ঘটনার সাথে সাইফুল জড়িত নয়’ বলে উল্লেখ করে তাকে আটক না করার জন্য পুলিশের সরকারী কাজে বাঁধা দেয়। পরে সাইফুলকে থানায় নেয়ার পর সেখানে গিয়েও পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হলে ধীরেন্দ্র নাথ দাসকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়। এ ছাড়াও শিক্ষক সাইফুলকে আটক করার কিছুক্ষণ পর তার জন্য তদবীর করতে গেলে অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দেখানো মতে শহরের শ্রীপুর এলাকার রাজ্জাক (৪০)কেও ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ আটক করে। সে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাস্তুহারা দলের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ সময় জানতে চাওয়া হলে আটককৃত সাইফুল ইসলামের ভাই রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারী আকরাম হোসেন, তার ভাই এ ঘটনায় জড়িত নয়। অন্যায়ভাবে তাকে আটক করে হয়রানী করা হচ্ছে।

এদিকে কলেজ শিক্ষক সাইফুলের পক্ষে তার আত্মীয়-স্বজন থানার বাইরে ঘটনা মিমাংসার জন্য অভিযোগকারী মইনুলকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ থানার এস.আই মোঃ এনসের আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে আপাততঃ প্রমাণ না মেলায় রাত ২টার দিকে শর্ত সাপেক্ষে আটক সাইফুলকে ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলালের জিন্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রাজ্জাককে এজাহারভূক্ত আসামী করে থানায় দঃ বি’র ৩৬৩/৩৯৪/৪১৯/১৭০ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার ১২ আগষ্ট,২০১৪/ ০৫:১২ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1231 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments