রাজবাড়ীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ ,১৩ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ ,১৩ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযপান উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ১২ই আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে শোক গাঁথা, হামদ-নাত, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক,পিপিএম(সেবা), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক এটিএম ইনামুল হক ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফকীর আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজবাড়ী জেলা শাখার উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী বলেন, শোকের মাস আগস্ট। এই মাসেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। একজন মানুষ যদি অপরাধ করে এর জন্য তাকে সাজা পেতে হয়। কিন্তু একটি পরিবারসহ হত্যা এ যে কত বড় জঘন্য কাজ তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ হওয়া যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকে গভীরভাবে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে। যারা ১৫ই আগস্ট স্বপরিবারের নিহত হয়েছিল। ঘাতকেরা সেদিন একসাথে বিনা বিচারে ১৭জনকে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না। মানচিত্র হতো না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমলেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরুতে ও শেষে প্রথম কোরআন তেলাওয়াত শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। তিনি বিশ্ব এজতেমার জায়গা দিয়েছিলেন। এতগুলো মহৎ কাজ যিনি করে ছিলেন তিনি যেন জান্নাতবাসী হন। জেলা প্রশাসক ইমামদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা মসজিদে, ওয়াজ মাহফিলে বাল্য বিবাহ ও ইভটিজিংসহ সকল প্রকার খারাপ কাজ সর্ম্পকে বলবেন। আমরা মসুলমান। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক বলেন, যে মানুষটি বিশ্বের মানচিত্রে এদেশকে এনে দিয়েছিলেন। যার নেতৃত্বে মুক্তির সংগ্রাম হয়েছিল সেই মহান মানুষটিকেই এ মাসেই কিছু বিপদগামী সেনা অফিসার স্বপরিবারে হত্যা করেছিল। দেশে এখন সংকট চলছে। সেই সংকট হলো আদর্শ মানুষের সংকট। বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষের সংকট।

তিনি বলেন, ৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হলো তখন কিছু মানুষ বিরোধীতা করেছিল। ৬২’র ভাষা আন্দোলনেও কিছু মানুষ বিরোধীতা করেছিল। হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) যখন যুদ্ধ করেছিল তখনো কিছু মানুষ বিরোধীতা করেছিল। এটা কালে কালে থাকবে।

ঢাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক এটিএম ইনামুল হক বলেন, আমরা আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছায়া তলে উপস্থিত হয়েছি। এই ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের মতো কোন দেশেই সরকারী টাকায় এতো ধর্ম শিক্ষা দেয়া হয়না। বঙ্গবন্ধু লেবাজের ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি কাজে ইসলামী বিশ্বাসী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। না জেনে কথা বলা ইসলামে নেই। ১৯৯২-৯৩ সালে গণশিক্ষার শিক্ষকেরা ৩০০টাকা বেতন পেত। বর্তমানে ৪০হাজার গণশিক্ষার এই শিক্ষকেরা ২হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাষ্টার ট্রেইনার শিহাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে হামদ-নাত পরিবেশন করেন ঢাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিল্পী গোষ্ঠী। পরে দোয়া মোনাজাত করেন কোলার হাট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ জাহিদুল ইসলাম।

 

 

আপডেট : বুধবার ১৩ আগষ্ট,২০১৪/ ০৪:৫৯ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1228 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]