মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রাক্তন গণপরিষদ সদস্য কাজী হেদায়েত হোসেনের ৩৯তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:০১ পূর্বাহ্ণ ,১৯ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ ,১৯ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্র্রতিবেদক  : প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা, শোক র‌্যালী, স্বেচ্ছায় রক্তদান, কবর জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে গতকাল ১৮ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক গণপরিষদ সদস্য এবং রাজবাড়ী পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে রাজবাড়ী পৌর আওয়ামীলীগ এবং কাজী হেদায়েত হোসেন শাহাদত বার্ষিকী উদযাপন পরিষদ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে। সকালে পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পনের পর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফির পরিচালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের মেজো পুত্র রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী ইরাদত আলী।

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফকীর আব্দুল জব্বার, ভান্ডারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল এরশাদ মোঃ সিরাজুম্মুনির, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম নওয়াব আলী, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা নিলুফার বেগম, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিন্টু, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান পিয়াল, জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী মীর মাহফুজা খাতুন মলি ও যুবলীগ নেতা শাহ মোঃ জাহাঙ্গীর জলিল প্রমুখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী পৌরসভাধীন মসজিদগুলোর ১৫৯জন ইমামকে জনপ্রতি ৫শত টাকা করে প্রদান করা হয়।

পৌর আওয়ামীলীগের কর্মসূচী শেষে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় কাজী হেদায়েত হোসেন শাহাদত বার্ষিকী উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা এবং সরকারী কলেজের বাঁধন ইউনিট ও স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক ও শিক্ষা) গোপাল চন্দ্র দাস এবং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী ইরাদত আলী ও রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খানমোঃ জহুরুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, আমার মরহুম পিতা সারাজীবন মানুষের কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অনেক কর্ম রেখে গেছেন। পিতার পথ অনুসরণ করে আমিও কাজ করছি, যাতে মারা গেলে মানুষ অন্ততঃ বলতে পারে-লোকটা এই এই কাজগুলো করেছিল। জীবনে এমপি হওয়ার স্বপ্ন না দেখলেও আল্লাহর রহমতে ৪বার এমপি হয়েছি। প্রথমবার যখন এমপি হই-সেবার আব্বার ঘনিষ্ঠ লোকজনই আমার পক্ষে কাজ করে আমাকে বিজয়ী করেছিল। আমি রাজনীতিও করতাম না। রাজনীতি করতো ইরাদত। পরবর্তীতে ওর আগ্রহেই আমি রাজনীতিতে আসি। আপনারা আমার মরহুম পিতা-মাতাসহ ১৫ই আগস্টে শাহাদতবরণকারী সকলের জন্য দোয়া করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যতটুকু জেনেছি-তাতে বুঝেছি মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন অত্যন্ত ভাল একজন মানুষ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি মানুষকে ভালবেসেছেন। অনেক ভাল কাজ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে শিক্ষা ও ক্রীড়ানুরাগীও ছিলেন। জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজবাড়ী সরকারী কলেজ তাঁর হাতে গড়া। সারাজীবন তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। শোকাবহ আজকেই এই দিনে আমি তাঁর বিদেহী আত্মাসহ জাতীয় জীবনের কলংকময় ১৫ই আগস্টের রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত করছি।

সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তাক্ত কাজী হেদায়েত হোসেনকে হাসপাতালে আনা হলেও সেখানকার চিকিৎসার ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং ২টি এ্যাম্বুলেন্সই নষ্ট থাকাসহ নানা বিষয় উল্লেখ করে চোখের সামনে তার করুণ মৃত্যুর হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা দেন।

আলোচনা সভার পর স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের মধ্যে সনদ বিতরণ শেষে অনুষ্ঠিত হয় শোক র‌্যালী। শোক র‌্যালীটি প্রধান সড়ক দিয়ে মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের বাসভবন প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন, তার সহধর্মিনী কাজী মনাক্কা বেগম এবং মরহুম কাজী আব্দুল হামিদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ, জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়াও বিকেলে মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের পরিবারের উদ্যোগে বাদ আসর শহরের খানকা পাক জামে মসজিদে (বড় মসজিদে) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার ১৯ আগষ্ট,২০১৪/ ১২:০০ পিএম/ আশিক


এই নিউজটি 1179 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments