রাজবাড়ী স্টেশন থেকে ফরিদপুরগামী ট্রেন চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত : জাসদের হরতাল প্রত্যাহার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৬:২১ পূর্বাহ্ণ ,১৯ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ ,১৯ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : পুনর্বাসনকৃত রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেলপথের ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান রাজবাড়ীতে করার দাবীতে জেলা জাসদ কর্তৃক ২০শে আগস্টের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবানের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। গতকাল ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এই হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব উল হক বকসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আফজাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক পিপিএম, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী এএফএম মাসউদুর রহমান, রাজবাড়ীর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সুলতান আলী, রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী ইরাদত আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক, প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান এডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস, হরতাল আহবানকারী জাসদ নেতা আহমেদ নিজাম মন্টু, জেলা সিপিবির সভাপতি আবুল কালাম, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাডঃ খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাডঃ গনেশ নারায়ন চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী হোসেন পনি, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মোঃ জহুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন প্রমুখ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও শিক্ষা) গোপাল চন্দ্র দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোনামনি চাকমা, সদ্য যোগদানকৃত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গাজী মোঃ আসাদুজ্জামান কবীর, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফকীর আব্দুল জব্বার, যুগ্ম-সম্পাদক হেদায়েত আলী সোহরাব, জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার দাস, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী হোসেন পনি, রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনের দুই নেতা এবং কয়েকজন সাংবাদিক এই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হরতাল আহবানকারী জাসদ নেতা আহমেদ নিজাম মন্টু বলেন, ফরিদপুরের একজন মন্ত্রীর কাছে স্বয়ং রেলমন্ত্রী পর্যন্ত অসহায় বলেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ীর পরিবর্তে ফরিদপুরে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেলওয়ের আমন্ত্রণ পত্রে রাজবাড়ীর কাউকেই কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। শুধু এ ক্ষেত্রেই নয়, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরিদপুরের কাছে রাজবাড়ী বঞ্চিত হয়ে আসছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আত্মমর্যাদা রক্ষার্থেই এই হরতাল আহবান করা হয়।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, আমন্ত্রণ লিপিতে অনাকাঙ্খিতভাবে ফরিদপুর-পাঁচুরিয়া রেলপথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, যেখানে রাজবাড়ীর নামটি পর্যন্ত নেই। এটা হয় নাকি? আমাদের সকল অর্জন মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।

চেম্বার সভাপতি কাজী ইরাদত আলী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া ও রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলে দলমত নির্বিশেষে রাজবাড়ীর সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলন গড়ে তোলে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রাজবাড়ীতে একাধিক জনসভায় এ দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং রেলপথ দুটি পুনরায় চালু করার অঙ্গীকার করেন। এখন ফরিদপুর অন্যায়ভাবে আমাদের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক বিএনপির পক্ষ থেকে এবং জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাডঃ খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জাসদ সভাপতি মন্টুর আহুত হরতালে সমর্থন দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জেলা সিপিবির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, রাজবাড়ী ঐতিহ্যবাহী একটি রেলের শহর। এই রাজবাড়ী থেকেই ট্রেনটি ছাড়বে এবং ফরিদপুর ঘুরে এসে রাজবাড়ীতেই অবস্থান করবে। অথচ ট্রেনটির উদ্বোধন রাজবাড়ীর পরিবর্তে ফরিদপুরে করা হচ্ছে। বন্ধ রেলপথগুলো চালুর ব্যাপারে রাজবাড়ীবাসীর গৌরবোজ্জল আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি ফরিদপুরে উদ্বোধনের তীব্র নিন্দা জানান।

অন্যান্য বক্তাগণও রাজবাড়ীর পরিবর্তে ফরিদপুরে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের পরিবর্তে লোকাল ট্রেন চালানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন খানখানাপুর, বসন্তপুরের অধিবাসীরাও ট্রেন চালুর ব্যাপারে আন্দোলন-সংগ্রামে সমানতালে শরীক হয়েছে। অথচ এ রুটের ৬টি স্টেশনের মধ্যে শুধু পাঁচুরিয়া ছাড়া আর কোন স্টেশনে ট্রেনটি থামবে না। ফলে তারা এ ট্রেনের কোন সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে তার ‘সীমাবদ্ধতা’ রয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি তার কর্তৃপক্ষের সাথে শেয়ার করবেন এবং রাজবাড়ীবাসীর জন্য যতটুকু করণীয় সম্ভব করবেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, একটি প্রকল্পের আওতায় ‘ফরিদপুর-পাঁচুরিয়া’ পর্যন্ত রেলপথ পুনর্বাসন(সংস্কার/উপযোগী) করা হয়। প্রকল্পটি ফরিদপুর থেকে পাঁচুরিয়া পর্যন্তই। তা সত্ত্বেও রাজবাড়ী পর্যন্ত ট্রেনটি চলাচল করায় এবং এ ব্যাপারে অতীতে ভূমিকা রাখায় স্বভাবতই ব্যাপারটি রাজবাড়ীবাসীর ইগোতে লেগেছে। তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মানজনক সমঝোতার স্বার্থে প্রয়োজনে ‘ছাড়’ দেয়ার আহবান জানান।
প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী আলোচনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগামী ২০শে আগস্ট বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজবাড়ীতেও উদ্বোধন অনুষ্ঠান করায় সম্মত হলে জেলা জাসদ সভাপতি আহমেদ নিজাম মন্টু হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার ১৯ আগষ্ট,২০১৪/ ১২:১৫ এএম/ আশিক


এই নিউজটি 1225 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments