,

বালিয়াকান্দিতে পঞ্চম শ্রেনীর ৩২জন ছাত্রীকে বেধরক বেত্রাঘাত করেছে প্রধান শিক্ষক

News

বালিয়াকান্দি থেকে,সোহেল রানা : অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে শাস্তি চেয়ে গনপিটিশন দেওয়ায় ক্রোধের বশে তুচ্ছ ঘটনার অজুহাতে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ২৪নং নতুনচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২জন ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করেছে প্রধান শিক্ষক আক্তার জাহান রিনা। এঘটনার পর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে ২ঘন্টা অফিস রুমে অবরুদ্ধ করে রাখে। আহত ছাত্রীদের মধ্যে ১৯জনকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী হলো, ইয়াসমিন, সুমাইয়া, সুমি, উর্মি, লাকী, আখিরন, সোনিয়া, ইউজা, রত্না,নদী, আফরোজা, আছমা, হিরামনি, রেশমা, আম্বিয়া, আতিয়া।

পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী ইয়াসমিন, সুমাইয়া, সুমি, উর্মি, লাকী জানায়, বুধবার পঞ্চম শ্রেনীর শারীরীক শিক্ষা পরীক্ষা ছিল। ১ঘন্টা পরীক্ষা নেওয়ার পর সাড়ে ১১টার দিকে ৩২জন ছাত্রীকে স্কুলে রুম পরিস্কার, বাথরুম পরিস্কার, আঙ্গিনা পরিস্কারের জন্য প্রধান শিক্ষক আক্তার জাহান রিনা নির্দেশ প্রদান করে। আমরা রাজি না হওয়ার ফলে ৩২জনকেই বেত দিয়ে বেধড়ক ভাবে মারপিট করে। মারপিটে ছোটাছুটি ও চিৎকার করতে থাকলেও তার মনে দয়া ছিল না। নির্দয় ভাবে পিটিয়ে আহত করে।নুরুল ইসলামসহ ৯-১০জন অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবো না। তার এহেন ন্যাক্কার জনক কাজের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।Baliakandi Picturs-1

জানাগেছে, উপজেলার নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, পাঠদানে অনীহা এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ এনে তার বদলির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্য ও অভিভাবক এবং গ্রামবাসী। ইউনিলিভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার ফলে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা ব্যাপক অর্থ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আক্তার জাহান রিনা একজন বদমেজাজি অসামাজিক, উগ্রপন্থী লোক হওয়ায় তার সঙ্গে কমিটির কোনো সদস্যসহ অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতন্ড হয়। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক কোমলমতী শিশুদের সঠিকভাবে ক্লাসে পাঠদান না করার কারণে প্রত্যন্ত এ গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের লোকজানের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, ওই শিক্ষিকা সময়মতো স্কুলে আসেন না এবং সরকারি বিধিমোতাবেক সময়ের আগেই স্কুল ত্যাগ করেন। নিয়মিত স্কুলে না আসার কারণে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রধান শিক্ষিকার বদলির জন্য প্রায় দেড় শতাধিক এলাকাবাসীসহ অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সহ-সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার বাড়ৈ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে এই প্রতিনিধিকে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য আমি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামালউদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা মো. জামালউদ্দিন জানান, এপ্রিলের ২ তারিখে আমি ও আমার সহকর্মী শ্যামলী রায় ঘটনাস্থল তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করব। প্রধান শিক্ষিকা আক্তার জাহান রিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি অস্বীকার করেন। উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে ইউনিলিভারের ‘লাইফবয় স্কুল অব ফাইভ’ প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দুর্নীতি ও খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এ ব্যাপারে লাইফবয় স্কুল অব ফাইভ প্রোগ্রামের বালিয়াকান্দি উপজেলা সুপারভাইজার সাজ্জাদ হোসেন খান পিয়াসের সঙ্গে কথা বললে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে এই প্রতিনিধিকে জানান, একজন প্রধান শিক্ষিকা ছোট ছোট বাচ্চাদের জীবনের শুরুতেই তাদের প্রতারণা করতে শেখাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে তিনি বাচ্চাদের নিয়ে প্রতারণা করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আক্তার জাহান রিনা বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিভাবকরা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত করে বিষয়টি মিথ্যা পেয়েছে। বুধবার শারিরিক পরীক্ষা শেষে স্কুল পরিস্কারসহ সামাজিক কাজের জন্য বললে তারা কাজ করতে অসীকৃতি জানায়। এতে আমি প্রত্যেককে বেত দিয়ে একটি করে বারি দেই। বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে এরকম অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।Baliakandi Picturs-7

স্কুলের সভাপতি মর্জিনা পারভীন জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের মারপিটের ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। তবে প্রধান শিক্ষকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের এহেন কাজ করা ঠিক হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শুশান্ত বাড়ৈ জানান, আমি খবর শুনে এখন হাসপাতালে অবস্থান করছি। বিষয়টি তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহসান হাবীব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষক রিনাকে স্কুল থেকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দিতে আনে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা করা হয়েছে।

 

 

আপডেট : বুধবার ২০ আগষ্ট,২০১৪/ ০৬:৫৭ পিএম/ রাজবাড়ী নিউজ২৪.কম

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর