,

জাবিতে পতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী আহত, রামদা ও লোহার পাইপ উদ্ধার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে পতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে হামলীকারীরা ঐ হলের প্রধান ফটক বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘন্টা তালাবদ্ধ রাখে। এতে হলের ভেতর প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ হয়ে পরে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তালা ভেঙে হলে তল্লাশী চালানো হয়। এসময় হল থেকে ৩টি রামদা ও ২২টি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, মওলানা ভাসানী হলে ৩য় তলায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ ছাত্রলীগের ঘুমন্ত নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় পতিপক্ষ। ঐ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুন্নবীর নেতৃত্বে প্রায় ১০-১৫ নেতাকর্মী এসময় লোহার পাইপ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুত্বর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-সম্পাদক সবুজ, ঐ হল শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ, সদস্য রকনুজ্জামান ও কর্মী, আকিব, সাকিল, ফারুক এবং রোমান। পরে আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নেওয়া হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করে। এছাড়া এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী চয়ন, জহির, সাইফুল, রাজন, নীল ও আরিফ আহত হন। এদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে সকাল থেকেই হলের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে হলের অভ্যন্তরে হামলাকারী সম্পাদক গ্রপের নেতাকর্মীরা এবং বাইরে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এতে হলের ভেতরে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রায় ১২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন। এঘটনায় কোনঠাসা হয়ে পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তালা ভেঙে হলের ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এসময় তল্লাশী চালিয়ে হল থেকে ৩টি রামদা ও ২২টি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে সড়জমিনে গিয়ে দেখা যায় ঐ হলের ৩য় তলায় ২৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। এসকল কক্ষ থেকে থেকে ৫ টি ল্যাপটপ, মোবাইল ও নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির গ্রুপের নেতাকর্মীরা। তবে হামলাকারী গ্রুপ লুটপাটের কথা অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে গুরুত্বর আহত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে অনিন্দ ও নুরনবীরর নেতৃত্বে ৪১ তম ব্যাচের কিশোর, সঞ্চয়, সুজন, শান্ত, সাদ্দাম, রাজন, নাইম এবং ৪২ তম ব্যাচের নোমান ও সজীব আমার কক্ষ ভাঙচুর করে এবং আমাকে লোহার পাইপ ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ব্যাপারে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল বলেন, ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে এটি তারই বহিপ্রকাশ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি এবং এ ব্যাপারে আজকের মধ্যেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে এঘটনার পর থেকে মওলানা ভাসানী হলে থমথমে পরিস্তিতি বিরাজ করছে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর