রাজবাড়ীতে গৃহশিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী গর্ভবতী ঃ মামলা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ ,২৪ আগস্ট, ২০১৪ | আপডেট: ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ ,২৪ আগস্ট, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোলে গৃহশিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীর গর্ভবর্তী হওয়া, স্থানীয় শালিসে দু’জনের বিয়ে দেয়া এবং পরবর্তীতে বড়পুলের আরোগ্য ক্লিনিকে নিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর ঘটনায় গত ২০ আগস্ট রাজবাড়ী ১নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, দাদশী ইউনিয়নের লক্ষীকোল গ্রামের সুমি আক্তার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাবস্থায় পার্শ্ববর্তী মাধব লক্ষীকোল গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে নুরুজ্জামান শেখ তাকে প্রাইভেট পড়াতো। প্রাইভেট পড়াতে থাকা অবস্থায় সুমির সাথে নুরুজ্জামানের প্রথমে প্রেমের এবং পরে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সুমি গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে নুরুজ্জামানের সাথে সুমির বিয়ে দেয়া হয়। সে সময় সুমি ২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল। চাপের মুখে বিয়ে করে বাড়ীতে তুলতে বাধ্য হলেও ‘বৈধভাবে সুমি গর্ভবর্তী না হওয়ায় জারজ বাচ্চা হবে বলে’ নুরুজ্জামান ও পরিবারের লোকজন বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। অপরদিকে সন্তানটি নষ্ট করে ফেলতে বললেও সুমি তাতে রাজী হয়নি। এ কারনে ক্ষুদ্ধ হয়ে ১লা সেপ্টেম্বর রাতে নুরুজ্জামান এবং তার পিতা কাশেম শেখ, মা নূরজাহান বেগম ও বোন কামরুন্নাহার মিলে হাত-পা বেঁধে সুমিকে প্রচন্ড মারধর করে। মারপিটের কারনে তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে রাজবাড়ী শহরের বড়পুলে অবস্থিত আরোগ্য ক্লিনিকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সুমির জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সুমিকে বাড়ীতে নিয়ে বেশ কিছুদিন তার সাথে ঘরসংসার করার পর স্বামীর বাড়ী ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

এ ঘটনায় সুমি আক্তারের পিতা আফছার সরদার বাদী হয়ে গত ২০ আগস্ট রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করলে বিচারক জুডিসিয়াল স্বাক্ষীর আদেশ দেন। মামলায় আরোগ্য ক্লিনিকের আয়া জাহিনুর বেগমকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। আদালত মামলার বিষয়ে বিচার বিভাগীয়(জুডিসিয়াল) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

 

 

আপডেট : রবিবার ২৪ আগষ্ট,২০১৪/ ১১:২৩ এএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1924 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments