‘গলাবাজি করে ইতিহাস দমিয়ে রাখা যায় না’- আওয়ামীলীগকে ”তারেক রহমান”

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:০২ পূর্বাহ্ণ ,২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ ,২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

রাজবাড়ি নিউজ – লন্ডন ডেস্ক :  বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “যারা বিএনপি কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেকেরই গৌরবজনক কোন অংশগ্রহণ ছিল না। এদের অনেকেরই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানীদের হাতে স্বেচ্ছায় ধরা দেয়ার আগে শেখ মুজিবের দেয়া তেল নাকে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিল। এসব তৈলবাজরা এখন নিজদের ব্যর্থতা আড়াল করতে আবারো তেল ব্যবহার করছে। নিজেরা নিজদের মতো তৈলাক্ত ইতিহাস তৈরী করছেন। তাদের গলাবাজিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অসহায় । তবে গলাবাজি করে প্রকৃত ইতিহাস দমিয়ে রাখা যায় না।

এদিকে, ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট মুক্তাঙ্গন থেকে পূর্ব নির্ধারিত আ.লীগের সমাবেশ কেন সরিয়ে নেয়া হলো তার রহস্য উদঘাটনে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারেক রহমান।

যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত লন্ডনে অনুষ্ঠিত উক্তসভায় তিনি বলেন, “আমি এখানে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের নেতার দেশ এবং দেশের জনগনের জন্য যে অবদান তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছি। এটা নয় যে আমি এখানে ইতিহাস নির্মান করতে এসেছি। ইতিহাস অবশ্যই লিখবেন ইতিহাসবিদরা । 

এ সময় তিনি আরো বলেন , বাংলাদেশের জনগণের কাছে জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারাই জিয়াউর রহমানকে অপপ্রচারের টার্গেট করেছেন। ইতিহাস বিকৃতি করছেন। তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ১৫ আগস্ট। আর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে দু’জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন হলেন মুশতাক আহমদ। অপরজন বিচারপতি সায়েম। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিতে চাইলে এতদিন অপেক্ষা করার দরকার ছিল না। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গৌরবজনক ও সাহসী ভুমিকার কারণে জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের জনগণের কাছে ছিলেন জনপ্রিয়। 


অনুষ্ঠানে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি’র সার্বিক দিক তুলে ধরে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্মিত “লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি এন্ড ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হয়।

প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বক্তৃতায় তারেক রহমান, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, বিএনপি’র দর্শন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের ভুমিকা এবং শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর কিছু বিষয় তথ্য প্রমাণসহ তুলে ধরেন।

সভায় তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান হঠাৎ করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। বাংলা ও বাংলাদেশী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চেতনা তিনি লালন করেছেন ছাত্রাবস্থা থেকেই। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত একটি জাতির জন্ম শিরোনামে শহীদ জিয়ার একটি লেখার উদ্বৃতি দেন তারেক রহমান। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, “স্কুল জীবন থেকেই পাকিন্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গির অস্বচ্ছতা আমার মনকে পীড়া দিতো। আমি জানতাম, অন্তর দিয়ে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটা ঘৃণার বীজ উপ্ত করে দেওয়া হতো স্কুল ছাত্রদের শিশু মনেই। সেই স্কুল জীবন থেকেই মনে মনে আমার একটা আকাঙ্খাই লালিত হতো, যদি কখনো দিন আসে, তাহলে এই পাকিস্তানবাদের অস্তিত্বেই আমি আঘাত হানবো। পাকিস্তানী পশুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার, দুর্বারতম আকাঙ্খা দুর্বার হয়ে উঠতো মাঝে মাঝেই। উদগ্র কামনা জাগতো পাকিস্তানের ভিত্তি ভূমিটাকে তছনছ করে দিতে। কিন্তু উপযুক্ত সময় আর উপযুক্ত স্থানের অপেক্ষায় দমন করতাম সেই আকাঙ্খাকে”।

তারেক রহমান বলেন, এ কারণেই দেখা যায়, ২৫ মার্চের কালরাতে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খা দমনে যখন পাকিস্তানীরা সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে, সেদিনের নেতা শেখ মুজিব এরিনমোর পাইপ হাতে স্বেচ্ছা আত্মসমর্পন করেন আর জিয়া হাতে তুলে নেন অস্ত্র।

ViberPC 02092014 040323

যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত লন্ডনে অনুষ্ঠিত উক্তসভায় তিনি অারো বলেন, “আমি এখানে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের নেতার দেশ এবং দেশের জনগনের জন্য যে অবদান তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছি। এটা নয় যে আমি এখানে ইতিহাস নির্মান করতে এসেছি। ইতিহাস অবশ্যই লিখবেন ইতিহাসবিদরা। যারা ইতিহাসের সাক্ষী তারা অবশ্যই লিখবেন। কিস্তু অবৈধ এ আওয়ামী লীগের সময়ে একটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য করবেন, বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন মরহুম হুমায়ুন  আহমেদ। তার একটি বইতে আমাদের গৌরবগাথা মুক্তিযুদ্ধের সত্যঘটনা উল্লেখ করেছেন। আমার দেখলাম কোর্টের মাধ্যমে এই অবৈধ হাসিনার অবৈধ সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সেন্সর করা হল।

ViberPC 02092014 035518
পূর্ব লন্ডনের চেশিয়ার স্ট্রিটে এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় বিএনপির প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি শাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদের পরিচালনায় সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মানবাধিকার সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম এ মালিক, সাবেক সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, তৈমুস আলী, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমীর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহকারী সেক্রেটারী ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।

রাজবাড়ি নিউজ ২৪.কম / ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪


এই নিউজটি 1460 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments

More News from বিশ্বজুড়ে