গোয়ালন্দে ১৩ বছরের শিশুকে যৌন পেশায় নামাতে উঠেপড়ে লেগেছেন আ. লীগ নেতা!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ ,৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৮:০৭ অপরাহ্ণ ,৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৩ বছরের এক শিশুকে যৌন পেশায় নামাতে এক আওয়ামী লীগ নেতা উঠে পড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম নুরু শিকদার। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, আইনগত বাধা থাকলেও তা উপেক্ষা করে যৌনকর্মীর তালিকায় শিশুটির নাম ওঠাতে চাপ সৃষ্টি করছেন তিনি। তবে স্থানীয় যৌনকর্মীদের সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতি শিশুটির নাম লিখতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নুরু শিকদারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর বাড়িওয়ালা শহিদের ভাড়াটিয়া যৌনকর্মী লাবনী বেগম। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তাঁর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েশিশুকে যৌনকর্মীর তালিকায় নাম ওঠানোর জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি লাবনী তাঁর ১৩ বছরের শিশুকন্যাকে বিশ বছরের উল্লেখ করে রাজবাড়ী জেলা নোটারি পাবলিক কর্তৃক এফিডেভিট করান। এরপর হলফনামার জোরে তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে তালিকায় নাম লেখাতে স্থানীয় যৌনকর্মীদের সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির কার্যালয়ে যান। বিষয়টি টের পেয়ে ওই শিশুকন্যাকে যৌন পেশা গ্রহণে বাধা দেয় মুক্তি মহিলা সমিতি।

এ পরিস্থিতিতে যৌনকর্মী লাবনীর পাশে এসে দাঁড়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও গোয়ালন্দ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নুরু শিকদার। তিনি ওই শিশুকন্যাকে যৌনকর্মীর তালিকায় নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। মুক্তি মহিলা সমিতি অপারগতা প্রকাশ করলে কর্মকর্তাদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন নুরু শিকদার। গত রবিবার তিনি সমিতির প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান মঞ্জুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে গত বৃহস্পতিবার নুরু শিকদারের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মুক্তি মহিলা সমিতি।

উল্লেখ্য, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশু সুরক্ষা ও নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘১৩ বছরের ওই শিশুর বয়স বাড়িয়ে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার জন্য নুরু শিকদার আমাকেও চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। আইন বহির্ভূত এ কাজ না করায় আমার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তিনি।’

এ বিষয়ে মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ওই শিশুকে যৌন পেশায় লিপ্ত করানোর চেষ্টায় আমরা বাধা দিয়েছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রভাবশালী নুরু শিকদার আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাশাপাশি যৌন পেশার হাত থেকে ওই শিশুকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি।’

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল খালেক বলেন, ‘মুক্তি মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নুরু শিকদারের বিরুদ্ধে অনেকের কাছ থেকে বিভিন্ন মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির আগামী সভায় বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে নুরু শিকদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

 

 

আপডেট : শনিবার সেপ্টেম্বর ৬,২০১৪/ ০২:০৫ এএম/ আশিক

 

 


এই নিউজটি 1565 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]