পাংশায় কলেজ ছাত্রকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় একজন গ্রেফতার

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ ,৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ ,৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাটবনগ্রামে সুব্রত কুমার দাস ওরফে সুম্মিতা (২২) নামের এক কলেজ ছাত্রের মুখে এসিড নিক্ষেপ করার ঘটনায় গ্রেফতার নীতিশ কুমার বিশ্বাস (২৯)কে গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ৩রা সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার মালিথিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাংশা থানার পুলিশ। গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে বাড়ীর পাশ থেকে নীতিশসহ অপর একজন সুব্রতকে এসিড নিক্ষেপ করে। আহত সুব্রত হাটবনগ্রামের শম্ভূ চাঁদ দাসের ছেলে। এ ঘটনায় সুব্রতের পিতা বাদী হয়ে গত ৭ আগস্ট এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এর ৫ (ক) (খ)/৭ ধারায় অজ্ঞাত আসামী করে পাংশা থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলায় সুব্রতের পিতা শম্ভু চাঁদ উল্লেখ করেন, তার বড় ছেলে সুব্রত লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করে। একই সাথে সে রাজবাড়ীতে একটি এনজিওতে চাকুরী করে। সে মেয়েলি বেশে নাচ গান বলে তার নাম সুম্মিতা। গত ২ আগস্ট অজ্ঞাত দুই দুস্কৃতিকারী তার মোবাইলে ফোন করে ওই ব্যক্তির বাড়ীতে অনুষ্ঠানে নাচতে হবে কত টাকা লাগবে। এ সময় সুব্রত জানায় আমরা ৩জন নাচব প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে। পরবর্তীতে একই দিন রাত ৮টার দিকে ওই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটর সাইকেলযোগে আমার বাড়ীর পাশে ১০০ গজ দুরে এসে মোবাইলে সুব্রতকে সেখানে বায়নার টাকা নেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সুব্রত সেখানে যাওয়ার সাথে সাথেই টচ লাইট মুখে ধরে তারা সুব্রতকে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এরপর তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন বের হয়ে আসলে ওই দুইজনকে পালিয়ে যেতে দেখে। পরে আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

পাংশা থানার এসআই আবু সায়েম জানান, হাটবনগ্রামে সুব্রত কুমার দাস ওরফে সুম্মিতা রাজবাড়ী শহরের আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনার্সের ২য় বর্ষে পড়াশুনা করতো। এছাড়াও সে রাজবাড়ী বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটিতে চাকুরী করতো। তার চলাফেরা মেয়েলি স্বভাবে হওয়ায় চাকুরী ও লেখাপড়ার পাশাপাশি সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করতো। বিগত ৫/৬ বছর আগে মোবাইলে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার মালিথিয়াগ্রামের নিরঞ্জন কুমার বিশ্বাসের ছেলে নীতিশ কুমার বিশ্বাসের সাথে তার পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। প্রায় ৪ বছর আগে তারা মন্দিরে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তারপর থেকে তারা রাজবাড়ীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস ও সমকামীতা করে আসছিল। ঘটনার ৩দিন আগে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে সুব্রত নীতিশের মা-বোন তুলে গালাগালি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় নীতিশ। এ ঘটনার জের ধরেই সে গত ২ আগস্ট ছদ্মনাম ধারণ করে সুব্রতের কাছে মোবাইল করে তার বাড়ীর অনুষ্ঠানে নাচার জন্য কন্ট্রাক করে। শর্ত অনুযায়ী ওই দিন রাত ৮টার দিকে নীতিশ ও তার সহযোগী মোটর সাইকেলযোগে হাটবনগ্রামে এসে সুব্রতকে টাকা নেয়ার জন্য ফোন করে। ফোন পেয়ে সুব্রত বাড়ী থেকে ১০০ গজ দুরে থাকা তাদের কাছে গেলে নীতিশ মোটর সাইকেলে হেড লাইট তার মুখের উপর ধরে এসিড নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুব্রতের পিতার পাংশা থানায় মামলা করলে মামলাটির তদন্তভার তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে সুব্রতের মোবাইলের কললিষ্টের মাধ্যমে নীতিশকে সনাক্ত করা হয়। শৈলকুপা পুলিশের সহযোগিতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তার নিজ বাড়ীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারকৃত নীতিশকে আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম জবানবন্দী রেকর্ড শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি রাজবাড়ী সদর ডিআইসি কার্যালয়ের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, সুব্রত তার অফিসের পিআর এডুকেটর। তাদের বিয়ের ব্যাপারটি তার জানা নেই। তবে তিনি এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি জেনেছেন এবং জানার সাথে সাথেই তাকে রাজবাড়ী ব্র্যাকের সহযোগীতায় ঢাকার বনানীতে এসিড সার্ভাইবাল ফাউন্ডেশনের অধীনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

 

আপডেট : শনিবার সেপ্টেম্বর ৬,২০১৪/ ০১:৪৪ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1342 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments