আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে এসপি’র মতবিনিময় সভা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ ,১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ ,১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন। গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ, সহকারী পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) কাজী আহসান হাবীব, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার বাগচী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত কুমার চক্রবর্তী কান্ত, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গনেশ মিত্র, পাংশা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুব্রত কুমার দাস, বালিয়াকান্দি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার চক্রবর্তী, গোয়ালন্দ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল, তনয় চক্রবর্তী শান্ত, পরিমল কুমার কুন্ডু, সনজিত কুমার দাস, সঞ্জীব কুমার সাহা, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মোঃ জহুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন প্রমুখ।

বক্তাগণ রাজবাড়ীকে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং সম্প্রীতির এই ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে সম্প্রীতির কথা বারবার পুনরাবৃত্তি করার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য যে স্থানগুলোতে ঝামেলা হতে পারে তার বর্র্ননা দেন।
মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন বলেন, কোরবানী ঈদের সময় দূর্গাপূজা হওয়ায় মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবাই প্রচেষ্টা নিলে এটিকে জিরোতে নামিয়ে আনতে পারব। তবে ছোট ছোট ইনসিডেন্স ঘটতেই পারে। ঘটে গেলে চেষ্টা থাকবে মিনিমাইজ করার।

পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন আরো বলেন, জেলাটা প্রথম থেকেই আমার ভাল লাগছে এ জন্য যে, জেলার মানুষগুলো খুব কালচারড। বালিয়াকান্দির পূজা উদযাপন পরিষদের অপ্রীতিকর ঘটনায় ইন্টারনাল ইন্টারেস্টটাই বেশী কাজ করেছে। স্বার্থের বাইরের ঘটনাগুলো সেখানে গৌন ছিল। আমাদের এক্সটারনাল-ইন্টারনাল দু’দিকেই নজর থাকবে। হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি থাকবে ঘটনাগুলোর ব্যাপারে। রিলিজিয়াস প্রোগ্রামগুলোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ঢাকাগামী পশু ও পণ্যবাহী গাড়ীগুলো এবং ঘরে ফেরা মানুষদের চাপও সামলাতে হবে। একজন পুলিশ সদস্যর একটানা ডিউটি করতে হবে ১২/১৪ ঘন্টা করে। এ সব মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।

ফেসবুকের ছোট্ট একটি ঘটনার জেরে রামুর সহিংস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশী মানুষ সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেব। সহনশীলতাও বড় একটা বিষয়। ছোট-খাট ঘটনাগুলো ঘটেই যেতে পারে। মন্দির কমিটিগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশ পরস্পরের কো-অপারেশন করতে পারেন। বুড্ডিস্টরা অহিংসার বাণীই ছড়াচ্ছেন। দূর্গাপূজার উদ্দেশ্য যেমন অসুরকে দমন, কোরবানীরও উদ্দেশ্য তেমনি পশুবৃত্তি দমন। মনে রাখবেন কমোনাল সমস্যাগুলো কিন্তু স্বার্থগত কারনেই হয়। পুলিশী ভাষার ‘ব্যাড ইলিমেন্ট’ সম্পর্কিত তথ্য জানাবেন। সবাইকে আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। চেষ্টা থাকবে পূজা মন্ডপগুলোতে যাওয়ার। কেবলমাত্র পারস্পরিক কো-অপারেশন আর স্ট্র্যাটেজীই পারবে আমাদেরকে এগিয়ে নিতে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, জেলায় মোট পুলিশ সদস্য ৬৫৪জন। এই জনবল দিয়েই ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার গোয়ালন্দ ঘাটকে হ্যান্ডেলিং করতে হবে। শতশত পশুবাহী গাড়ীসহ ঘরে ফেরা হাজার হাজার মানুষের চাপ সামলাতে হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী আহসান হাবীব বলেন, শেষ ভাল যার-সব ভাল তার। বিসর্জনটা সন্ধ্যার পূর্বে হলে ভাল হবে। কারণ গভীর রাতে বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।

সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

আপডেট : শুক্রবার সেপ্টেম্বর ১২,২০১৪/ ০৮:১৫ এএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1318 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments