রাজবাড়ীর মাংস বাজারে অপমানজনক টানাহেঁচড়া : পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী নেই

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপের্টার : রাজবাড়ীর মাংস বাজারে বিক্রেতাদের টানা হেঁচড়ায় ক্রেতারা অপমানজনক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পাশাপাশি খারাপ মাংস, এমনকি হাড়গোড়ও কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

সরেজমিনে মাংস বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাংস বিক্রির দর সম্বলিত কোন তালিকা টাঙ্গানো নেই। একজন ক্রেতা মাংস কেনার জন্য সেখানে ঢুকলেই কসাইরা(বিক্রেতারা) ডাকাডাকির পাশাপাশি টানাহেঁচড়া করা শুরু করে। এ অবস্থায় সেই ক্রেতা যখন একটি দোকান থেকে মাংস কিনতে থাকে তখনও অন্যান্য বিক্রেতারা তাকে ডাকাডাকির পাশাপাশি টানাহেঁচড়া করতে থাকে, এমনকি কাছে এসে ‘ওই মাংস ভাল না-আমাদের মাংস খুব ভাল’ ইত্যাদি বলে ফুঁসলাতে থাকে। এ সময় অনেক ক্ষেত্রেই বিক্রেতাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, এমনকি হাতাহাতিও শুরু হয়ে যায়। এ ছাড়াও দরদাম মিটিয়ে মাংস কেনার সময় বিক্রেতা মাংসের ভাল অংশটুকু আলাদা করে রেখে ক্রেতার হাতে হাড়গোড় গছিয়ে দিলেও তার কিছুই করার থাকে না। বাধ্য হয়েই ঐ মাংস নিয়ে আসতে হয়, অথবা বিক্রেতার বাড়তি চাহিদা মিটিয়ে ফ্রেশ মাংস পেতে হয়।

কৌশলে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দূর দূরান্ত থেকে পশু জবাই করে এনে ঝুলানোর পূর্বে পৌরসভার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সীল দেওয়া হয়। এ ছাড়াও রুগ্ন ও অসুস্থ্য পশুই নয়-মরা পশুর মাংসও বাজারে বিক্রি হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আর কয়েক দিনের বাসী মাংস বিক্রি তো মামুলী ব্যাপার। যে মাংস বিক্রি হয় না, সেই মাংস ফ্রিজিং করে রেখে দিয়ে পরদিন, সেদিন বিক্রি না হলে তার পরদিন এভাবে বিক্রি করা হয়। তবে এক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে ভাল মাংসের সাথে বাসী মাংস মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ২/৩জন বিক্রেতার বিরুদ্ধে আবার রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ্য পশুর মাংস বিক্রির সুখ্যাতিও(!) হয়েছে। এক শ্রেণীর হোটেল-রেস্তোরার মালিকদের পাশাপাশি ফুটপাতের বিরানী বিক্রেতারা তাদের নিয়মিত খরিদ্দার। আর সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে যারা কেনে, তারা মূলত বিক্রেতাদের টানাহেঁচড়া/জোরজবরদস্তির শিকার হয়েই কিনতে বাধ্য হয়। এর থেকে পরিত্রান পেতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

আপডেট : শনিবার সেপ্টেম্বর ১৩,২০১৪/ ০৯:৪৯ এএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1292 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]