বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুরে এক দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ ,২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ ,২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

বালিয়াকান্দি অফিস : তিনি প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ী। অর্থের দাপটে গড়ে তুলেছেন নানা ঢঙে দ্বিতল ভবন। তাই তার বাড়ীর পাশে কোন দরিদ্র পরিবার শোভা পায় না। তাই তিনি এলাকার প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজসে প্রকাশ্যে ঐ দ্বিতল ভবনের উত্তর পাশ সরকারী সম্পত্তিতে ঠেলে দিয়েছেন, বাড়ীর বর্জ্য ও র্দূগন্ধ কৌশলে ফেলে দিচ্ছেন সংখ্যালঘু পরিবারের বসবাসরত ঘরের দিকে।

সরকারী জমিতে থাকা গাছ কর্তন করে গায়ের শক্তি, গলার জোরে হুমকী দিয়েছেন এক দরিদ্র ভূমিহীন সংখ্যালঘু পরিবারকে, তোদের আর এখানে থাকা চলবে না। কথা না শুনলে উচ্ছেদ করা হবে। -এ ঘটনাটি শোনা গেছে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। এ গ্রামের প্রভাবশালী হচ্ছেন আরোজ বিশ্বাস ও তার ছেলে ফেরদৌস বিশ্বাস। নির্যাতিতা দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারটি হচ্ছে অনন্ত কর্মকার, তার স্ত্রী পুষ্প রানী কর্মকার ও তাদের কণ্যা স্মৃতিকা রানী সিকদার।

গত শুক্রবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযোগ করে জানান, প্রভাবশালী আরোজ বিশ্বাস ও তার ছেলে ফেরদৌস বিশ্বাসের ভয়ে এলাকার কোন লোক কথা বলতে পারে না। ওরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদের মধ্যস্থতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে। এর প্রতিকার হওয়া উচিত।

পরে নির্যার্তিত অনন্ত কর্মকারে বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, ওই সংখ্যালঘু ভুমিহীন পরিবারটির মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকজন গেলে তারা ভয় পাচ্ছে। ওই পরিবারটির বাড়ীর পাশে বিভিন্ন পচা ও দুগন্ধ জিনিস ছিটিয়ে বসবাস যাতে করতে না পারে সহ অত্যাচার চালাচ্ছে। সরকারী হালট দখল করে দ্বিতল ভবনের কাজ করছে। কয়েকটি ফলদ গাছ কেটে সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্ধা প্রদীপ ঘোষ ও অন্যান্যেরা জানান, ১৫/২০ বছর পূর্বে সরকারী হালট মেপে দিয়ে যায়, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। গত বুধবার সকালে লোকজন নিয়ে এসে সরকারী জমির গাছ কেটে নিয়ে যায়। হালট দখল করে দ্বিতল ভবন তুললেও কেউ বাধা দেয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এখন এ পরিবারটিকে ভিটে থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।

ভূমিহীন সংখ্যালঘু সোনাপুর গ্রামের অনন্ত কর্মকারের স্ত্রী পুষ্প রানী কর্মকার জানান, মাথা গোজার একমাত্র ঠাই টুকু ছাড়া তাদের কোন জমি নেই। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ওই জমিতে বসবাস করছে। বাড়ীর প্রবেশের জন্য সরকারী রাস্তা রয়েছে। যা ২০বছর পুর্বে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ মাপঝোপ করে খাস জমি বের করে দিয়ে যায়। কিছুদিন ভালো ভাবে বসবাস করে আসলেও সোনাপুর গ্রামের হামিদ আলী বিশ্বাসের ছেলে প্রভাবশালী আরোজ বিশ্বাস বাড়ীতে সরকারী জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে আসছে। বাড়ীর পাশে হওয়ায় আমরা কোন প্রতিবাদ করি না। সরকারী খাস জমি বাড়ীর সামনে হওয়ায় ওই জমির সীমানায় আম, কাঁঠাল, সুপারী গাছ লাগিয়ে ফল খেতে থাকি। গত বুধবার ভোরে ৬/৭জন লোক এসে বলে ওই গাছ গুলো কেটে ফেল। ওই কথা শুনে আরোজ বিশ্বাস ও তার লোকজন মুহুর্তের মধ্যে ৪টি সুপারী গাছ, ৪টি কাঠাল গাছ, ১০টি আমগাছ কেটে নিয়ে যায়। পরে আমাকে ১হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দিতে চায়। আমি না নেওয়ায় জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকী দিয়েছে। আমার কন্যা স্মৃতিকা রানী সিকদার প্রতিবাদ জানালে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর কাছে নালিশ করলে চেয়ারম্যান বাচ্চু সরেজমিনে দেখে গেছেন।

স্মৃতিকা রানী সিকদার জানান, আমি গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার চেষ্টা চালায়। ভিটে থেকে উচ্ছেদের জন্য হুমকী দিচ্ছে। ভয়ে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরোজ বিশ্বাস ও তার ছেলে ফেরদৌস বিশ্বাস জানান, সোনাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আজিজ ইকবালসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের ডেকে তাদের উপস্থিতিতে গাছ কাটা হয়েছে। সরকারী জমিতে নয় আমার সীমানায় বিল্ডিং তোলা হয়েছে। আজে বাজে কথা বলায় চুপচাপ থাকতে বলেছি।

সোনাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আজিজ ইকবাল জানান, আমার উপস্থিতিতে সরকারী জমি থেকে গাছ কাটা হয়েছে। ক্ষতি পুরন বাবদ ১হাজার টাকা দিয়ে মিমাংসা করা হয়েছে।

নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে জানতে পারি সরকারী জমিতে থাকা গাছ কেটেছে। ওটা সরকারী জমি আমার জানা ছিল না ওখানে গিয়ে জানতে পারি। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান দেখবেন বলে আমি কিছু বলিনি।

 

 

 

আপডেট : শনিবার সেপ্টেম্বর ২০,২০১৪/ ১০:৪৫ এএম/ আশিক

 

 

 

 


এই নিউজটি 1209 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments