পাংশায় নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়ায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা : প্ররোচনাকারীরা গ্রেফতার হয়নি

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ ,২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ১:০৫ অপরাহ্ণ ,২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়ায় লজ্জা ও ঘৃনায় পাংশার হাবাসপুর ড.কাজী মোতাহার হোসেন কলেজের এইচএসসি’র প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী নিপা আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। গত ৩ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে নিজ শোবার ঘরে আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে নিপা। এ ঘটনায় নিপার পিতা আদালতে মামলা করলে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর মামলাটি পাংশা থানায় রেকর্ড হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গোপিনগর গ্রামের হবিবর রহমান সরদারের মেয়ে নিপা আক্তারকে কলেজে যাতায়াতের পথে বাহাদুরপুর গ্রামের হামিদ মাষ্টারের ছেলে আলহাজ্ব (২১) প্রেম নিবেদন ও উত্যক্ত করাসহ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কু-প্রস্তাব দিতো। বিষয়টি নিপার পরিবার আলহাজ্বের অভিভাবকদের জানালে তারা তাকে ধমক শাসন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আলহাজ্ব। ঘটনার দিন গত ৩ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে আলহাজ্বের সহযোগি গোপিনগর গ্রামের আরশেদ মন্ডলের মেয়ে মিতা আক্তার নিপাদের বাড়ীতে এসে তাকে ভুল বুঝিয়ে তার বাড়ীতে (মিতা আক্তারের) নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই আলহাজ্ব ও তার অপর সহযোগি বাহাদুরপুর গ্রামের আফতাব মল্লিকের ছেলে টুটুল (২১) অবস্থান করছিল। এরপর মিতা আক্তার নিপাকে তার শোবার ঘরে নিয়ে গেলে তারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। ঘরের মধ্যে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক মিতা ও টুটুল আলহাজ্বের সাথে নিপার বিভিন্ন প্রকার আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি মোবাইল ধারণ করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। নিপা প্রতিবাদ করে বিষয়টি লোকজনকে জানিয়ে দেবে বললে তারা নিপাকে এই বলে হুমকি দেয় বেশী বাড়াবাড়ী করলে আপত্তিকর ও নগ্ন ছবিগুলো ইন্টার নেটে ছেড়ে দেব। তখন কোন কুল কিনারা থাকবে না। তোকে আত্মহত্যা করে মরতে হবে। এ ঘটনার পর এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়া মেধাবী ছাত্রী নিপা বাড়ীতে এসে লজ্জায় ও ঘৃনায় কোন কিছু প্রকাশ করতে না পেরে ওই দিনই দুপুর ২টার দিকে তার শোবার ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনার পর নিপার পিতা পাংশা থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে গত ১২ আগস্ট নিপার পিতা বাদী হয়ে আলহাজ্ব, টুটুল ও মিতাকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য পাংশা থানার অফিসার ইনচার্জকে আদেশ দেয়। এ আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর মামলাটি পাংশা থানায় রেকর্ড হয়। পাংশা থানার মামলা নং-১২, তাং-২৫/৯/২০১৪, ধারাঃ ৩০৬/৫০৯/৩৫৪/১০৯ দঃবিঃ।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামীরা গ্রেফতার হয়নি।

 

 

আপডেট : সোমবার সেপ্টেম্বর ২৯,২০১৪/ ০৬:৫৭ পিএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 2231 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments