রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সুইপার দিয়ে রোগীর সেলাই ব্যান্ডেজ করার বিষয়টি স্বীকার করলেন সি.এস

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত রাজবাড়ী সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর উদ্যোগে গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সনাকের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সনাকের সভাপতি প্রফেসর মোঃ কেরামত আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী’র সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহবুবুল হক, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রহিম বক্স; সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুল্লাহ আল সাইফ, সনাক সদস্য জেমস হালদার, ফার্মাসিষ্ট মোঃ জাকির হোসেন ও ওয়ার্ড মাষ্টার মোঃ আবুল হোসেন বাবলু প্রমুখ। সভায় ডাক্তার, অফিস স্টাফ, নার্স, সনাক, স্বজন ও ইয়েস সদস্যসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হাসপাতালের বহিঃবিভাগ, আন্তঃবিভাগের সেবার মান, ডাক্তারদের সময়মত উপস্থিতি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, দালালদের নিয়ন্ত্রণ, ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ভিজিটের সময় নিয়ন্ত্রণ, নার্সদের আচরণ, খাবারের মান ও সরবরাহের সময়, সুইপার দ্বারা সেলাই-ব্যান্ডেজ করানো ও অর্থ আদায়, প্রসুতি বিভাগে বকশিস আদায়সহ হাসপাতালের জনবল এবং অবকাঠামো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপরোল্লিখিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যে সকল সীমাবদ্ধতা রয়েছে এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহবুবুল হক বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সে কারণে যথেষ্ট পরিমান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয় না। ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে ছিল বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। এটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে ৫০ শর্য্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। নার্সের সংখ্যা কম থাকায় সেবা প্রদানে সমস্যা হয়। তথাপিও আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। দালালদের আগের তুলনায় নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সুইপার দ্বারা সেলাই-ব্যান্ডেস করানোর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন এটি নিয়মানুগ না হলেও জনবলের অভাবে একটু ভাল সেবা দেয়ার জন্য এ ছাড়া তাদের কোন উপায় নেই। তবে সুইপারদের দায়িত্ব পালন করে এটা করছে। তবুও এটা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বহিঃবিভাগে অপেক্ষমান সেবা গ্রহীতা ও তাদের সঙ্গীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে প্রতিদিন ধারনা প্রদান করা হয়। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জনবলের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণের সহযোগীতা কামনা করেন। সনাকের পক্ষ থেকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কর্তৃপক্ষ আগামীতে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাতের সময় বেধে দেয়া, হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করাসহ সার্বিকভাবে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ২৩০,২০১৪/ ০৯:১৩ এএম/ আশিক

 

 


এই নিউজটি 1251 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]