রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন : যোগ্যতা সম্পন্ন ইমাম নিয়োগে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর রেলওয়ে ঈদগাঁহ ময়দানের কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম নিয়োগের জন্য ৫সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত ২য় সভায় বর্তমান মাওলানা মোঃ নূরুল আলমকে পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম নিয়োগের জন্য ৫সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এরআগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একই স্থানে অনুষ্ঠিত ১ম সভায় রাজবাড়ী শহরের রেলওয়ে ঈদগাহ ময়দানের প্রধান ঈদ জামাতের ইমাম মাওলানা মোঃ নূরুল আলমকে পরিবর্তন করে তদস্থলে পাংশার সেনগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ আওয়াবুল্লাহ্ ইব্রাহীমকে ‘ইমাম’ এবং বিনোদপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহ্তামিম হাফেজ মাওলানা মোঃ আলাউদ্দিনকে ‘বিকল্প ইমাম’ হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু তাদের ব্যাপারে ‘জামায়াত সংশিষ্টতা’সহ কিছু অভিযোগ ওঠায় গতকাল সোমবার পুনরায় ‘কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম নিয়োগের বিষয়ে’ এ সভা আহবান করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) গাজী মোঃ আসাদুজ্জামান কবির, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এম.এ খালেক, রাজবাড়ী পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ আকতার হোসেন, রাজবাড়ী পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন, জেলা জাসদের সভাপতি আহমেদ নিজাম মন্টু, রাজবাড়ী ইমাম কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র উপ-পরিচালকসহ আমন্ত্রিত সুধীবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় ইমাম মাওলানা মোঃ নূরুল আলমের কিছু ত্রুটি হলে উপস্থিত মুসল্লীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেক কষ্টে সেই পরিস্থিতি সামলানো হয়েছিল। ইমামের বিরুদ্ধে যদি আপত্তি ওঠে, তাহলে নিজ থেকে তার সরে যাওয়াটাই ভাল। শুনেছি তিনি নাকি দীর্ঘ ৪৩বছর ধরে ইমামতি করছিলেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো তাঁকে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়নি। গত রবিবারের সভায় অপসারণের প্রসঙ্গ উঠলেও তিনি নিজ থেকে সরে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পরিবর্তে মাওলানা আওয়াবুল্লাহ্ ইব্রাহীম সাহেবকে ইমাম ও হাফেজ মাওলানা আলাউদ্দিনকে বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের ইমাম নিয়োগে তিনি সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করলে অনেক নাম আসবে, সেখান থেকে উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে ইমাম নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, জেলা ইমাম কমিটির মধ্যে বিরোধ থাকায় ইমাম বিষয়টি বেশী আলোচিত হচ্ছে।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেন, একই ব্যক্তি চিরদিন নামাজ পড়াবে, এটা ঠিক না। এমন লোককে ঠিক করা উচিত, যার ব্যাপারে কোন বিতর্ক আসবে না। আগে ওনার ব্যাপারে কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু নামাজে ভুল করার কারণেই তাকে পরিবর্তনের প্রসঙ্গটি এসেছে। তিনি রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবের সাথে একমত পোষন করে সার্চ কমিটি করার আহবান জানান।

জেলা জাসদের সভাপতি আহমেদ নিজাম মন্টু বলেন, যিনি নামাজ পড়াতেন তিনি আমাদের পিতৃতূল্য, সম্মানিত ব্যক্তি। ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে একজন ভাবশিষ্যকে দায়িত্ব দিয়ে ওনারই সরে যাওয়া উচিত ছিল। তার স্থলে যার নাম এসেছে, শুনেছি তিনি কুষ্টিয়ার খোকসার লোক। গত ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের টিকেটে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি (জাসদ সভাপতি মন্টু) কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতের ইমাম ও বিকল্প ইমাম হিসেবে যথাক্রমে ভান্ডারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল এরশাদ সিরাজুম্মুনির এবং রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ আঃ খালেকের নাম প্রস্তাব করেন।

রাজবাড়ী পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞ সর্বজনগ্রাহ্য একজন ব্যক্তিরই ইমামতি করা উচিত। যিনি ইমামতি করতেন তাঁর প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধা ছিল, এখনো আছে। বয়সের কারণেই হয়তো তাঁর ভুল-ত্রুটি হচ্ছিল। তিনি রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আব্দুল মতিনের প্রস্তাবের সাথে একমত প্রকাশ করে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি করার আহবান জানান।

আলহাজ্ব মাওলানা আওয়াবুল্লাহ্ ইব্রাহীম বলেন, তাঁর জন্ম কুষ্টিয়ার খোকসায় (পূর্বে কুমারখালীর অন্তর্গত) হলেও দীর্ঘ ২৭ বছর তিনি পাংশায় বসবাস করছেন। এই ঈদগাঁহর ইমাম নিয়োগের ব্যাপারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়নি কিংবা তিনিও আবেদন করেননি। তিনি বলেন জামায়াতের কোন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কিংবা অন্য কোন কমিটিতে তার নাম থাকা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে তিনি যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন।

জেলা ইমাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোঃ ওলিউর রহমান বলেন, গত ঈদের নামাজের পর পথে ঘাটে আমাদেরকে অনেক আপত্তিকর কথাবার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তখন অনেকেই বলেছিল-জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে কিছু একটা করেন।

জেলা ইমাম কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ শিহাব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আলহাজ্ব মাওলানা নূরুল আলম ভুলই করে আসছেন। প্রশ্ন উঠেছে ওঁনার পিছনে নামাজ পড়া যায় কিনা ?

ইমাম কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, সভাপতি পদে থেকেও মাওলানা নূরুল আলম গত দু’বছর ধরে ইমাম কমিটির কার্যক্রমে ইনএ্যাক্টিভ আছেন। অনেকবার তাঁর বাসায় গিয়ে হাতেপায়ে ধরেছি। তিনি আমাদেরকে কিছু বলেন না, যা বলেন বাইরে বলেন। তাঁর মতো একজন মুরুব্বীর বিরুদ্ধে বলতে আমাদের রুচিতে বাঁধে। আমরা এখনো মনে করি হয়তো আমাদের কোন ভুল-ত্রুটির কারণে তিনি অভিমান করে আছেন।

আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানের ঈদের জামাতের ইমাম নিয়োগে ৫ সদস্য বিশিষ্ট (রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র) সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই সার্চ কমিটি কর্তৃক আগামী দুই দিনের মধ্যে ইমামের নাম প্রকাশ করবে এবং সেই ইমাম-ই আসন্ন ঈদুল আযহার রাজবাড়ীর রেলওয়ে ঈদগাঁহ ময়দানের কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ২৩০,২০১৪/ ০৯:১৮ এএম/ আশিক

 


এই নিউজটি 1121 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments