,

রাজবাড়ী শিল্পকলা একাডেমীতে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

News

স্টাফ রিপোর্টার : শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল ২৯শে সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় রাজবাড়ী শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর আয়োজনে শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “শিশু অধিকার মূল কথা, চাই শিশুর নিরাপত্তা”।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমী রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আলীমূর রেজা। এছাড়া বক্তব্য রাখে শিশুদের জন্য সংগঠন ন্যাশনাল চিল্ডেন ট্রার্কফোর্স রাজবাড়ীর সভাপতি শাহরিয়ার সৈকত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী বলেন, শিশুদেরকে যদি দেশপ্রেম, দেশত্ববোধ শেখানো যায় তাহলে সে একজন দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। শুধু পুথিগত বিদ্যাই নয় শিশুদেরকে অন্যান্য শিক্ষাও শেখাতে হবে। শিশুদেরকে সমাজে সৎভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে। এটা শিশুর অধিকার। যদি আমরা সুন্দরভাবে শিশুদের বেড়ে উঠার সুযোগ করে না দিতে পারি তাহলে আগামীতে দেশ বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, একজন শিশুর বেড়ে উঠার পেছনে সমাজ ও তার পরিবারের চেয়ে সবচেয়ে সহায়ক হচ্ছে শিক্ষক। এই শিক্ষকই পারে একজন শিশুর বেড়ে উঠার সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখতে। তিনি বলেন, আমরা যখন স্কুলে পড়েছি তখন পরিস্কার-পরিছন্নতা, আদব কায়দা, মুরুব্বী দেখলে সালাম দেয়া, শিক্ষকদের সম্মান করা এগুলো আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিখে ছিলাম। শিক্ষকরাই পারে একজন শিশুকে সেভাবে তৈরী করতে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরীন বলেন, শিশুর অধিকার এই মর্মে আন্দোলন প্রথম শুরু হয়েছিল আমেরিকাতে। আমেরিকায় সেই সময় সংসারের প্রয়োজনে মা-বাবা দুইজনকেই চাকুরী করতো হতো। ছেলে মেয়েরা বাসায় থাকতো। সেই সব শিশুরা ঠিকমতো স্কুলে যাচ্ছে কিনা বা তাদের মা-বাবা তাদেরকে সংসারের কাজ করাতে বাধ্য করছে কিনা এটা নিশ্চিত করার জন্যই জাতিসংঘ শিশুর অধিকার আইন প্রণয়ন করে। আমরা অনেক ভাগ্যবান। আমাদের সন্তানদের দেখার জন্য মা-বাবা, নানা-নানীসহ সকল আত্মীয় স্বজনকে কাছে পাই। যদি তাও না হয় অন্তত একজন কাজের মানুষ পাই। তিনি বলেন শিশুর নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার দিবে রাষ্ট্র, পরিবার ও সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আজকে যারা শিশু তারাই একদিন এদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। ডিসি হবে। এসপি হবে। ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। আজকে যারা শিশু তারা ওই সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিবে। তারাই এদেশের হাল ধরবে। তাই শিশুদের দক্ষ ও শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু অধিকার আইন প্রণয়ন করেছিলেন। জাতিসংঘ যে সময় শিশুর অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল তার আগেই আমাদের দেশে আইন পাশ হয়। শিশুদের অধিকার ও তাদের বিকশিত করার জন্য সরকার নানা কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। আজকে যারা শিশু তাদের অধিকার গুলো জানতে হবে এবং জানাতে হবে। শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। দায়িত্ব শুধু সরকারের না। দায়িত্ব রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের। তিনি শিশুদের ভালভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হওয়ার আহবান জানান।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ন্যাশনাল চিল্ডেন ট্রার্কফোর্স এর শিশু সাংবাদিক সানজিদা জামান প্রভা।

পরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ৩০,২০১৪/ ০১:০৯ পিএম/ আশিক

 

 

Comments

comments

     এ জাতীয় আরো খবর