রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনা : গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা !

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | আপডেট: ৬:২৯ অপরাহ্ণ ,৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানাবিধ অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনার মধ্যদিয়ে পরিচালিত হচ্ছে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিদিনের কার্যক্রম । ফলে সমিতির সদস্যদের মাঝে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ বাড়ছে ।

কালুখালীর মদাপুর এলাকার প্রভাবশালী মহল পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নেয় না । ফলে মদাপুরে অবৈধ সংযোগ গ্রহিতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় মদাপুরের গোপালপুর গ্রামের আঃ মান্নান পার্শ্ববর্তী আয়ুব আলীর বাড়ী থেকে সংযোগ নিয়েছে । সুন্দরকান্দির আলুর দোকান এলাকায় বাহাদুর ফকিরের ছেলে ফারুক একই কায়দায় তার মুরগীর ফার্মে অবৈধ সংযোগ গ্রহন করেছে । এব্যাপারে এলাকাবাসী সমিতিকে অবগত করলেও রহস্যজনক কারনে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি । এদিকে মদাপুর বাজারে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন থেকে রাতের আঁধারে অবৈধ সংযোগ গ্রহন করে দীর্ঘদিন ধরে অটোগাড়ী চার্জ প্রদানের ব্যবসা করছিল মদাপুর বাজারে স্বর্ণকার সেলিম ফকির । গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই অবৈধ্য সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ডের সুচনা হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায় । এঘটনা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় । এছাড়া এলাকাবাসীও রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অবগত করে । কিন্তু সমিতির পক্ষ থেকে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি । বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মেহের আলী ও সাধারন সম্পাদক শাহিন আহমেদ জানান, এ ঘটনার পর আমরা ব্যবসায়ী সেলিমকে বিচারের জন্য বসেছিলাম । সে ক্ষমা প্রার্থনা করায় আমরা তাকে মাফ করে দিয়েছি ।

রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ প্রদানের নামে অবৈধ অর্থ গ্রহনেরও অভিযোগ আছে । মৃগী বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান,রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন তার নিকট থেকে বিদ্যুৎলাইন নির্মানের জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেছে । তিনি এব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । লিখিত অভিযোগে শহিদুল ইসলাম দাবী করেছেন তার নিজ গ্রাম ঘিকমলা এলাকা ও তার নিজ বাড়ীতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মানের জন্য রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন তার নিকট ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন । তিনি কালুখালী উপজেলার মৃগী বাজারে বসে এলাকাবাসীর সামনে গত ২০১৩ সালের ৩০ মে উক্ত টাকা প্রদান করেন । এঘটনার একবছর পার হলেও ওই প্রকৌশলী উক্ত লাইনের নির্মান কাজ করে না ।

এমতবস্থায় শহিদুল ইসলাম উক্ত প্রকৌশলীর নিকট প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে তিনি জানান,পাংশা অফিসের এ.জি.এম টাকাটি নিয়েছে । তার কাছ থেকে টাকা আনা সম্ভব নয় বলে শহিদুল ইসলামকে জানান। এলাকাবাসী সিরাজুল ইসলাম ও আঃ ছালাম জানান, এব্যাপারে ইতি পূর্বে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় । তিনি এজিএম (ফাইনান্স) বনিয়ার রহমান,সহকারী প্রকৌশলী দিলিপ কুমার বিশ্বাস ও আর.ই আনোয়ার হোসেনের নের্তৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম গঠন করে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেন । এলাকাবাসী ওই তদন্তকারীদের নিকট শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন কর্তৃক ৩০ হাজার টাকা গ্রহনের স্বাক্ষী প্রদান করে । কিন্তু তদন্তকারীরা অদ্যবধি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেননি । ফলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না । শহিদুল ইসলামসহ এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন ।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ৩০,২০১৪/ ‌১১:০৫ পিএম/ আশিক

 

 


এই নিউজটি 1197 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments