মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান !!

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ ,৬ এপ্রিল, ২০১৪ | আপডেট: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ ,৬ এপ্রিল, ২০১৪
পিকচার

তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহের অবদান ছিলো স্ট্যালিনগ্রাডের মত। আর দুঃসাহসী এ কাজটি করেছিলেন অকুতোভয় সেনানী মেজর জিয়া। তিনি ছিলেন পাকিস্তান আর্মির এক মেজর, ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহ-অধিনায়ক। একজন সৈনিক যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেয়, এমন কি ধর্মগ্রন্থ নিয়েও স্রষ্টার সামনে হাজির নাজির হতে হয়, সেখানে কি এমন হলো যে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তান রক্ষার শপথ ভেঙে জিয়া ঘোষণা করলেন “উই রিভোল্ট।” তার মানে, তিনি পাকিস্তান ভাঙবেন,এর পরে ইউনিটে ফেরত গিয়ে অধিনায়ককে আটক করলেন পরে হত্যা করে ট্রুপসের নেতৃত্ব নিলেন। বাহিনীর মধ্যে ঘোষণা করলেন “আমরা আর পাকিস্তানীদের সাথে নেই। আজ থেকে এ ভুখন্ড কেবল ‘বাংলাদেশ’। শুরু হলো স্বাধীনতার লড়াই। সবাইকে যুদ্ধে শামিল হতে ডাক দিলেন।” ট্রুপসের নিরাপত্তা সংহত করে পরের দিন নিজেকে অস্থায়ী সরকার প্রধান ঘোষণা করে রেডিওতে সারা বিশ্বের সাহায্য চাইলেন। দায়িত্ব নিলেন যুদ্ধের সেনাপতির। তাজউদ্দীনের কথায়, “first announced through major Zia Rahman, to set up a fullfledged operational base from which it is administering the liberated areas” (Bangladesh Document vol-I) এক এক করে যুদ্ধে শামিল হয় ইপিআর, ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইউনিট, পুলিশ, ও ছাত্র-জনতা।

তখনও মুজিবনগর সরকার গঠন হয়নি, ওসমানীর কমান্ড তৈরী হয় আরো ১২ দিন পরে; এ ভুখন্ডের কান্ডারী কেবল চিটাগাঙের মেজর জিয়া। জিয়া নিশ্চিত করেই জানতেন, এ বিদ্রোহের পরিনাম কি হতে পারে- তা হলো মৃত্যুদন্ড। আর ক্ষমতার দাবীদার আওয়ামীলীগের কাছে জিয়ার এ উদ্যোগটি “অবৈধ সরকার!” তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক সচিব মঈদুল হাসান তরফদার পরিস্কার করে লিখেন, “২৭ শে মার্চ সন্ধ্যায় ৮-ইবির বিদ্রোহী নেতা মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষনা করেন। মেজর জিয়া তাঁর প্রথম বেতার বক্তৃতায় নিজকে ’রাষ্ট্রপ্রধান’হিসাবে ঘোষনা করলেও, পরদিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা প্রকাশ করেন।”(মূলধারা:৭১, পৃষ্ঠা ৫)। এখানে উল্লেখেযোগ্য যে, মেজর জিয়া শেখ মুজিবের নির্দেশে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা কথা বললেও নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে আগেকার ঘোষনা সংশোধন করেননি। এ রকম শ্বাপদসঙ্কুল পরিস্থিতিতে নিজের বাহিনী নিয়ে চললেন দেশ মুক্ত করার লড়াইয়ে। জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে মইদুল হাসান বলেন, “আমি অন্যের কথা কী বলব, মেজর জিয়ার বেতার বক্তৃতা শুনে নিজে আমি মনে করেছিলাম যে, না, সত্যি তাহলে একটা ফরমিডেবল নাম্বার অব আর্ম ফোর্সেসের লোক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। ইট ক্রিয়েটেড এ ট্রিমেন্ডাস ইমপ্যাক্ট অন মি।” ভারতে যাওয়ার পথে তাজউদ্দীন আহমেদ ও আমীর-উল ইসলাম রেডিওতে জিয়ার ঘোষণা শুনতে পান। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম তার ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১’পুস্তকে স্বীকার করেছেন, ভারতে যাওয়ার পথে তিনি রেডিওতে জিয়ার ঘোষণা শুনতে পান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি ও শেখ হাসিনা দু’জনে রেডিওতে জিয়ার সেই ঘোষণা শুনেছেন মালিবাগে বসে। যুদ্ধের গোটা ন’মাস ওই ঘোষণাই ছিলো একমাত্র নির্দেশ, যা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে বার বার বাজানো হয়েছে। তারপরের ন’মাস কেবল দেশ হানাদার মুক্ত করার লড়াই। এ সময়ে জিয়া দু’টি সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করলেন, জেড ফোর্স সৃষ্টি করলেন যা বর্তমানের কুমিল্লা ৩৩ পদাতিক ডিভিশন; একে একে বাহাদুরাবাদ যুদ্ধ, কামালপুরের যুদ্ধ, সিলেটের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, চিলমারীর যুদ্ধ, সালুটিকর বিমানবন্দর যুদ্ধ, জকিগঞ্জ যুদ্ধ সহ অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন (আমার দেশ, ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯). এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও শেখ মুজিবের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা বাজানোর কথা বীরোত্তম কাদের সিদ্দিকী নিজে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কিন্তু জিয়া কেনো সেনাবিদ্রোহ ও স্বাধীনতা ঘোষণা করতে গেলেন? তিনি তো কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, এমনকি কর্নেল ওসমানীর মত নির্বাচিত প্রতিনিধিও নন। তার কাছে কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ছিল না। একজন রাজনীতিক যখন যা ইচ্ছা বলতে পারেন, করতে পারেন, কিন্তু একজন সৈনিক তা পারে না। তার হাতে থাকে মারনাস্ত্র- তা হয় শত্রু মরবে, নয়তো নিজেই। সেখানে বিদ্রোহ মানে তো নির্ঘাত মৃত্যুদন্ড। জানবাজি রাখা এ বিদ্রোহ করতে জিয়ার ওপরে কোনো কতৃপক্ষের হুকুম বা নির্দেশনাও ছিল না। নির্বাচনে বিজয়ী দলের (আওয়ামীলীগের) প্রধান আটক, বড় ছোট নেতা সবাই নির্দেশমত পলাতক, এমনকি চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহের সংবাদটিও রেডিও ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের কাছে পৌছানো যায়নি। এরূপ দুঃসহ পরিস্থিতিতে, একজন সৈনিক হয়ে জিয়া “স্বাধীনতা ঘোষণা”র মত বিপদময় কঠিন রাজনৈতিক কাজটি করতে গেলেন, কেনো এবং কোন সাহসে? সে মুল্যায়ন বা প্রশ্নটি আজ পর্যন্ত কেউ মিলিয়ে দেখেন নি। এমনকি যুদ্ধ চলাকালেও আওয়ামীলীগের নেতারা আশা করত, পশ্চিমের সাথে আপোষরফা হয়ে যাবে, এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হবে (সূত্র: অলি আহাদ, জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫); চট্টগ্রাম সেনা বিদ্রোহের গুরুত্ব এবং ঝুকি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক সচিব মইদুল হাসান তরফদার মূলধারা:৭১ গ্রন্থে লিখেছেন, “মেজর জিয়ার ঘোষণা এবং বিদ্রোহী ইউনিটগুলির মধ্যে বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবার ফলে এই সব স্থানীয় ও খন্ড বিদ্রোহ দ্রুত সংহত হতে শুরু করে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত হবার বিষয়টি এদের জন্য মুখ্যত ছিল অপরিকল্পিত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উপস্থিত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক উপাদান সম্পর্কে এদের অধিকাংশের জ্ঞানও ছিল সীমিত। তবু বিদ্রোহ ঘোষণার সাথে সাথে পাকিস্তানী বাহিনী সীমান্ত পর্যন্ত এমনভাবে এদের তাড়া করে নিয়ে যায় যে এদের জন্য পাকিস্তানে ফিরে আসার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়। হয় ‘কোর্ট মার্শাল’ নতুবা স্বাধীনতা – এই দু’টি ছাড়া অপর সকল পথই তাদের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে। এমনিভাবে পাকিস্তানী আক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাধীনতার লড়াইয়ে শামিল হয় প্রায় এগারো হাজার ইবিআর এবং ইপিআর-এর অভিজ্ঞ সশস্ত্র যোদ্ধা – কখনও কোন রাজনৈতিক আপোস-মীমাংসা ঘটলেও দেশে ফেরার পথ যাদের জন্য ছিল বন্ধ, যতদিন না বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানীরা সম্পূর্নরূপে বিতাড়িত হয়।”

স্বাধীনতা যুদ্ধে চার যুগ পরে আজ সুখের দিনে অনেকের মুখে কথার খই ফুটেছে: জিয়া কে? কোথাকার জিয়া? কেউ বলেন, জিয়া ছিলো পাঠক, পাহারাদার, দপ্তরি, পাকিস্তানের চর…আরো কত কি? তাদের কথার মানে দাড়ায়, পাক সরকার জিয়াকে “স্বাধীনতা ঘোষণা”করার দায়িত্ব দিয়ে পঠিয়েছিলো! প্রশ্ন হলো, তখনকার বেঙ্গল রেজিমেন্টে অনেক অফিসার ছিলো, রাজনৈতিক দলে বহু বড় নেতাও ছিলো, সুযোগ সুবিধা ছিলো, রাজধানীতে বিদেশী সাংবাদিকও হাজির ছিলো। বিদ্রোহ করার দুঃসাহস তো কেউ দেখাতে পারেন নি। এমনকি ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত ক্ষমতার দাবীদার মুজিবও ছিলেন নিজের জীবনের ভয়ে ভীত। আটক হওয়ার আগে তিনি সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দীনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী হবেন না! “এ উইটনেস টু সারেন্ডার” গ্রন্থে সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, কেবল একাত্তরের মার্চ মাসেই অন্তত তিন তিন বার মুজিব ইয়াহিয়াকে অনুরোধ করেছেন, তাকে (মুজিবকে) আটক করতে, পাছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীনতা ঘোষনা করে ফেলে! শেষ পর্যন্ত, বিচ্ছিন্নতাবাদী জিয়াই রাষ্ট্রদ্রোহীর সে কাজটি করে ফেলেন!

তৎকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ছিল বিশ্বের সর্বাধুনিক একটি বাহিনী। এ পেশাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যুদ্ধ করার লোক ও অস্ত্র বল কোথায় জিয়ার? এমনকি অনুপস্থিত ছিলো রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের। তাহলে কিসের বলে এবং কোন্ ভরসায় স্বাধীনতা ঘোষণার উপস্থিত সিদ্ধান্ত (মঈদুল হাসানের ভাষায়) নিতে পারলেন? মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণে একটা সিগনাল ছিলো বটে, কিন্তু পরবর্তী তিন সপ্তাহ কেটেছে ক্ষমতা হস্তান্তরের নিস্ফল আলোচনায়। এ সময় হানাদাররা অস্ত্রে ও সংখ্যায় বেড়েছে, সিদ্ধান্ত হয় পূর্ববাংলায় আক্রমন হবে। অথচ মুজিব আক্রমনের আগাম খবর জেনেও ক্ষমতার দেনদরবার থেকে সরে আসেননি, জাতিকে সতর্ক করেন নি; জানান নি কোনো সঠিক নির্দেশনা। জাতিকে অন্ধকারে রেখে হানাদারদেও হাতে ধরা দিলেন। এর উদ্দেশ্য অবশ্যই স্বাধীনতা লাভ নয়, বরং ক্ষমতা প্রাপ্তি। একথা প্রমানিত যে, ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে কোনো প্রকার রক্তপা ছাড়াই দেশের স্বাধীনতা পাওয়া যেতো। কেননা তখনও পূর্ববাংলায় মাত্র ১২ হাজার পশ্চিমা সৈন্য ছিল। স্বাধীনতা ঘোষণার রাজনৈতিক নির্দেশ পেলে বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহজেই তাদের পরাভূত করতে পারতো, আর তাহলে ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ব্যতিরেকেই আমার পেতাম স্বাধীন দেশ। রাজনৈতিক নেতারা যখন জনগনের স্বাধীনতার চাওয়াটি বুঝতে ব্যর্থ হলেন, একজন সৈনিক হয়েও জিয়া ঠিকই শুনেছিলেন জনগনের আদেশ,“বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন করো।” ‘স্বাধীনতার ডাক’ যে রাজনৈতিক নেতা থেকে আসার কথা ছিলো, তিনি তা না দিয়েই আপোষ রফার হেফাজতে, তখন বাঙ্গালী জাতি “অপারেশন সার্চলাইটে” ক্ষত বিক্ষত। সেই শূন্যাবস্থায় দেশ মুক্ত করতে একটি স্বাধীন জাতি প্রতিষ্ঠা করার দুঃসাধ্য কাজটি করতে এগিয়ে আসলেন ৩৬ বছরের যুবক জিয়া। যার টানে এ কঠিন কর্তব্যটি করলেন, তার নাম দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। এটাই ছিলো একজন সৈনিকের রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৭১ সালের আগে ইতিহাসে ‘স্বাধীন বাংলা’র কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। সিরাজউদ্দৌলাকে শেষ স্বাধীন নবাব বলা হলেও সেটা ছিলো বিজাতীয় শাসন। মোগল শাসন, সুবা বাংলা, বখতিয়ার খিলজির পত্তন, মৌয্য শাসন, পাল বংশ, গুপ্ত সাম্রাজ্য, পুন্ড্রূ শাসন; মোট কথা চার হাজার বছরের বঙ্গ সভ্যতায় এ ভুখন্ড সর্বদা ভিনদেশী দ্বারা শাসিত হয়েছে। ইতিহাসে অনেক বীর যোদ্ধা ও শাসকের কথাই আমরা জানি। প্রশ্ন উঠছে, একাত্তর সালের ২৬ মার্চের চট্টগ্রামে “সেনা বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা ঘোষণা” করার মত বিপজ্জনক সাহসী এবং চরম রাজনৈতিক ঘটনা অতীতে কোনো সৈনিক বা রাজনীতিক ঘটাতে পেরেছিলেন কি? এ বিদ্রোহের দু’টি উপাদান ছিলো: ১) রাজনৈতিক- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দেশের তথা একটি ভূখন্ডকে স্বাধীন ঘোষণা করা; এবং ২) সামরিক- দেশ মুক্ত করার জন্য যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া। মহামতি আলেকজান্ডার, সালাদিন, তারেক বিন জিয়াদ, নেপোলিয়ান বোনাপার্ট, দ্য গলে, আইজেন হওয়ার সহ অনেক বীরের কথাই আমরা জানি, যারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন, ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু বিশ্বের একটি শ্রেষ্ঠ সুবিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বীয় বিবেচনায় বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন এবং ময়দানে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, এমন ঘটনার ইতিহাস দ্বিতীয়টি আমাদের জানা নেই। রাজনৈতিক, সামরিক, নৈতিক, জনবান্ধব যে কোনো বিচারে চট্টগ্রামের মেজর জিয়ার সেনা বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিলো কালোত্তীর্ন ঘটনা। সার্বিক বিচেনায় “মেজর জিয়া” বাঙলার সকল যুগের শ্রেষ্ট সেরা বাঙালি, বীর ও রাজনীতিকের আসন অলঙ্কৃত করে আছেন। বাংলাদেশ যতদিন এই পৃথিবীর বুকে থাকবে, জিয়াও বেঁচে থাকবেন ততদিন। অশেষ শ্রদ্ধা।

 


এই নিউজটি 1596 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments