অপারেশন আহলাদীপুর ব্রীজ : মোর্তজা আহম্মদ শিমুল

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ ,১৩ অক্টোবর, ২০১৪ | আপডেট: ৬:১৬ অপরাহ্ণ ,১৩ অক্টোবর, ২০১৪
পিকচার

কয়েকদিন ধরেই রেকি করছে মুক্তিযোদ্ধা খুশী এবং তার দলবল। রাজবাড়ী শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোর কোথায়, কখন, কিভাবে শত্রুর ডেরায় আঘাত হেনে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়া যাবে, সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকেই শত্রুর অবস্থানগুলোর চারপাশে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।

রিক্সাওয়ালা সেজে খানকা পাক বড় মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনাক্কা ভাইয়ের বাড়ীর সামনে একটু দাঁড়িয়ে পড়ল সে। বাংলাদেশে ঢোকার আগে মনাক্কা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন দেশে গিয়ে খুশী যেন তার বাড়ী ও পরিবার-পরিজনদের খোঁজ নেয়। বেশীক্ষণ অবস্থান করলে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, সে কারণে পরিত্যক্ত বাড়ীটির সামনে বেশী সময় দাঁড়াল না। ইতিমধ্যেই সে জানতে পেরেছে মনাক্কা ভাইয়ের পরিবার-পরিজন জৌকুড়ায় গ্রামের বাড়ীতে আত্মগোপনে নিরাপদেই আছেন। খুশী তার রিক্সাটি দ্রুত রাজবাড়ী শহরের প্রধান সড়কের উপরে নিয়ে গেল। পৌরসভা অফিসের সামনে থেকে একজন প্যাসেঞ্জারকে রিক্সায় উঠিয়ে রওনা হলো শ্রীপুরের দিকে। এমনিভাবে প্যাসেঞ্জার উঠা-নামার ভিতর দিয়ে তার রিক্সা পৌঁছাল আহলাদীপুর জামাই পাগলের রাস্তার মোড়ে। সেখানে যাত্রীকে নামানোর পরপরই রাইফেল কাঁধে দুইজন বিহারী যুবক গতিরোধ করে দাঁড়াল খুশীর রিক্সাকে। খুশী একটু ভীত হয়ে পড়ল, ভাবল ওরা কি বুঝতে পেরেছে যে-সে মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু না। ওরা যখন বলল চল্ গোয়ালন্দ মোড়ে যাব। খুশী খুব খুশীই হলো। বিহারী প্যাসেঞ্জার নিয়ে গোয়ালন্দ মোড়ে গেলে পথের মধ্যে অন্য বিহারী বা রাজাকাররা তাকে সন্দেহ করবে না। ফলে রাজবাড়ী থেকে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত ব্রীজ-সেতুগুলোর পাহারা ব্যবস্থা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে সে। ১৯৭১ সনে রাজবাড়ী সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়া করত খুশী। কলেজে সে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বাবা হারিজ উদ্দিন মোল্লা রাজবাড়ী রেলওয়ের আইডব্লিউ অফিসের পেইন্টার ছিল। নয় ভাইবোনের মধ্যে খুশী ছিল পঞ্চম সন্তান। রাজবাড়ী সরকারী কলেজে যাওয়ার রাস্তার পাশের রেলওয়ে কলোনীতে ওরা বসবাস করত। সারাদেশেই ভারত থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ইত্যবসরে ঢুকে পড়েছে যার যার অঞ্চলে। কাজও শুরু করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আচমকা গেরিলা আক্রমনে পাক হানাদাররা বুঝতে শুরু করেছে-অসহায় বাঙালীদের পাখির মতো নিধন করা আর শরাবের বোতল হাতে বাঙালী হিন্দু-মুসলিম নারী ধর্ষণের আরাম-আয়েশের দিন শেষ হয়ে আসছে। অচিরেই প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হবে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমন শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু রাজবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধারা তখনও কোন অপারেশন শুরু করতে পারেনি। সে কারণে খুশী এবং তার দলবল খুবই ছটফট করছিল। খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতেই হবে, দ্রুত হানাদারদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে না পারলে সরাসরি যুদ্ধে ওদের পরাস্ত করা খুবই কঠিন হবে। যোদ্ধা হিসেবে পাকিস্তানীদের বিশ্বব্যাপী খুবই নামডাক আছে। ভারতের চুরুলিয়া ট্রেনিং ক্যাম্প থেকেই সে কথা জানতে পেরেছিল আব্দুল আজিজ খুশী। সে কারণে পাঁচুরিয়ার একটি অবস্থানে আত্মগোপনকারী খুশী এবং তার দলের লোকজন বারবার বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে শত্রুর অবস্থানগুলোতে সরেজমিন ঘুরে ঘুরে দেখছিল।

বিহারী দু’জনকে নিয়ে রিক্সা চালাতে চালাতে খুশী রওনা দিল গোয়ালন্দ মোড়ের দিকে। জামাই পাগলের রাস্তার মোড় থেকে রওনা হওয়ার পর প্রথম ব্রীজটির কাছে যেতেই দেখতে পেল, বাংকার করে ৩/৪ জন বিহারী রাজাকার রাইফেল হাতে ব্রীজটাকে পাহারা দিচ্ছে। ব্রীজের আশপাশে বিহারীদের বসতিগুলোও দেখল সে। দু’জন বিহারী রিক্সায় থাকায় ব্রীজের পাহারারত রাজাকাররা কোন গুরুত্বই দিল না খুশীর রিক্সাটাকে। অনায়াসে ব্রীজটি পার হয়ে গেল তার রিক্সাটি। এমনিভাবে ধীরে ধীরে চলতে চলতে রিক্সাটি পৌঁছাল গোয়ালন্দ মোড়ে। রিক্সা থেকে নেমে কোন রকম ভাড়া না দিয়ে বিহারী দু’জন হনহনিয়ে হেঁটে চলে গেল বাজারের দিকে। ভাড়া দেয়া-তো দূরে থাক, বাঙালী খুশীকে যে ওরা গুলি করে মেরে ফেলে নাই-এইতো বেশী ! খুশী তার রিক্সাটি গোয়ালন্দ মোড়ের একজন পরিচিতিজনের বাড়ীতে রেখে রাস্তা ছেড়ে গ্রামের মাঠঘাট, জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে পৌঁছাল পাঁচুরিয়ার ঘাঁটিতে। সে সময় বাকাউল, সিরাজ, মতিন, আজাদ, জিল্লু এমনি অনেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও তাদের দলবল রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিল। খুশীর সঙ্গে সকল দলের যোগাযোগও ছিল। সে তাদেরকে আহলাদীপুরের ঐ ব্রীজটি উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানাল এবং তাদের সহযোগিতা চাইল।

রাজবাড়ী শহরে পাক সেনাদের কোন ক্যাম্প ছিল না। বিহারী সৈয়দ খামারকে প্রধান করে বিহারী রাজাকার-জামাতীদের মাধ্যমে রাজবাড়ীকে নিয়ন্ত্রণ করত পাক বাহিনী। ঐ সমস্ত রাজাকার-বিহারীরা রাজবাড়ী শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে হত্যা, লুটতরাজ, অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন চালাত। ফরিদপুরে ছিল পাক বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প। প্রতিদিন জীপ ট্রাকে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীতে এসে টহল দিত পাক বাহিনী। মূল আক্রমনের পূর্বে আহলাদীপুরের ঐ ব্রীজটি উড়িয়ে দিতে পারলে পাক বাহিনীর দ্রুত রাজবাড়ীতে ঢোকার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি রাজবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি জানান দেয়া যাবে। যার ফলে বিহারী-রাজাকাররা যখন-তখন আশপাশের গ্রামে ঢুকে লুটতরাজ-হত্যা করতে সাহস পাবে না। অবিরত গ্রামে ঢুকে অত্যাচার, নির্যাতন, লুটতরাজ, হত্যার সংখ্যা কমে যাবে। এমনি হিসাব-নিকাশের চিন্তাধারায় খুশী এবং তার দলের লোকজন সত্বর ব্রীজটিকে উড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্ত হলো ব্রীজ উড়িয়ে দেয়ার সময় বাকাউল, আবুলদের লোকজনও খুশীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে অপারেশন চালাবে। বাকাউল, আবুলরা খুশীকে অপারেশন করতে আরো কয়েকদিন দেরী করতে বলল। অপারেশনটি আরো নিখুঁতভাবে করার জন্য ব্রীজের পাহার ব্যবস্থা ও ছবি সংগ্রহের পরামর্শ দিল। পরামর্শ অনুযায়ী খুশী একটা ক্যামেরা সংগ্রহ করে পুনরায় আবার ব্রীজটি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করল। সন্ধ্যা নেমে আসার সময় ছবিগুলো তোলার কারণে কাল অবয়ব ছাড়া কোনকিছুই আর ছবিতে দেখা গেল না। ফলে ছবির এই পর্যবেক্ষণটি ব্যর্থ হলো। এমনিভাবে সময় ক্ষেপন হওয়ায় খুশী খুব অস্থির হয়ে উঠল। যে কারণে অন্য কমান্ডারদেরকে না জানিয়েই নিজের লোকজন নিয়ে ঐ ব্রীজটি উড়িয়ে দেয়ার অপারেশন চালাতে পাঁচুরিয়া থেকে মহিষাখোলার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বাইশে নভেম্বর সারাদিন মহিষাখোলায় আত্মগোপনে থেকে সন্ধ্যায় ব্রীজ উড়ানো বোমা মাজায় বেঁধে উত্তর দিক দিয়ে ব্রীজের উদ্দেশ্যে রাইফেল হাতে খুশী এবং তার দলবল রওনা দিল। পর্যবেক্ষণের সময় অল্প কয়েকজন রাজাকারকে ব্রীজটিকে পাহারা দিতে দেখেছিল খুশী। সে কারণে পরিকল্পনা ছিল ব্রীজের কাছাকাছি হওয়ামাত্র ওরা গুলি চালাতে চালাতে এগিয়ে যাবে। অল্প কয়েকজন রাজাকার আচমকা আক্রমনের ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে অথবা মারা পড়বে। তখন বোমা বেঁধে ব্রীজটি উড়িয়ে দিয়ে তারা নিরাপদে ফিরে আসবে। কিন্তু রাতের বেলা ওদের চেয়েও দ্বিগুণ সংখ্যক রাজাকার-বিহারী ব্রীজটি পাহারায় নিয়োজিত ছিল। মাঠের মধ্য দিয়ে জলকাঁদা জঙ্গল মাড়িয়ে ক্রল করতে করতে ব্রীজটির কাছাকাছি আসা মাত্রই ওরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। তৎক্ষণাৎ বৃষ্টির মতো ব্রীজ ও বাংকার থেকে গুলি ছুঁড়তে শুরু করল রাজাকার বাহিনী। প্রতি আক্রমনের তীব্রতা দেখে অনেকটা হকচকিয়ে গেল খুশী বাহিনী। দলের অন্য সদস্যরা খুশীকে অপারেশন বন্ধ করে দিয়ে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিল। অদম্য সাহসী খুশী দলের সঙ্গে একমত হতে পারল না। দলের লোকজনকে পিছনে ফেলে ঝোঁপ-জঙ্গলের ভিতর দিয়ে রাইফেল থেকে গুলি ছুঁড়তে ছঁড়তে ক্রলিং করে ব্রীজের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল খুশী। প্রায় ব্রীজের সন্নিকটে পেঁছানো মাত্র একটি কাঁটা ঝোঁপ গাছের সঙ্গে আঘাত লেগে ওর মাথাটা সামান্য একটু উঁচু হতেই একটি বুলেট ওর কণ্ঠনালী ভেদ করে বেরিয়ে গেল। ঝাঁকে ঝাঁকে রাজাকারদের ছোঁড়া বুলেটের কারণে গুলিবিদ্ধ খুশীকে সঙ্গীদের তুলে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। ইতিমধ্যে আরো কিছু রাজাকার এসে পজিশন নিল ব্রীজের উপর। শতশত রাউন্ড গুলি বর্ষিত হতে থাকল খুশী বাহিনীর অবস্থানের উপর। অবস্থা অত্যন্ত বেগতিক দেখে খুশীর দলবল বাধ্য হলো তাদের অতিপ্রিয় কমান্ডারের লাশ ফেলে রেখেই অবস্থান ত্যাগ করতে। মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরও বেশ কিছুক্ষণ সময় পর্যন্ত রাজাকাররা অবিরত গুলি ছুঁড়েছে তাদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে। যখন রাজাকাররা নিশ্চিত হলো যে মুক্তিযোদ্ধারা স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছে তখন তারা ব্রীজ-বাংকার থেকে বেরিয়ে খুঁজে দেখতে থাকল কোথাও কোন মুক্তিযোদ্ধার লাশ বা অস্ত্রসস্ত্র পাওয়া যায় কিনা। কিছুটা এগিয়ে আসতেই ওরা দেখতে পেল ঝোঁপের পাশেই হাফপ্যান্ট ফতুয়া পড়া মাজায় বোমা বাঁধা রাইফেল হাতে খুশীর মৃতদেহটি। পশুরা মৃত খুশীর পবিত্র দেহটির উপর উপর্যুপরী বেয়নেট চার্জ করল।

পরের দিন রাজবাড়ীর প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশীর পবিত্র মৃতদেহটি ট্রাকে টাঙ্গিয়ে সারাদিন রাজবাড়ী শহরময় অত্যন্ত নোংরাভাবে প্রদর্শন করল রাজাকার-বিহারীরা। ইতিমধ্যে একদল বিহারী শহীদ খুশীর পরিবার-পরিজনকে হত্যা করার জন্য গেল খুশীর রেলওয়ে কলোনীর বাড়ীতে। সৌভাগ্যক্রমে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচাল দেশমাতার এই প্রিয় সূর্য সন্তানের পরিবার-পরিজনেরা। অবশেষে ঠিক সন্ধ্যার সময় রাজবাড়ী রেলস্টেশন রোডে রাজাকার-বিহারীরা ট্রাক থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিল সিগারেটের আগুন দিয়ে পোড়ানো এবং বেয়নেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত খুশীর মৃহদেহটি। রাজবাড়ী থানা থেকে কর্তব্যরত পুলিশ এসে লাশটি নিয়ে গেল থানায়। বিহারী নেতা সৈয়দ খামার ও জামাতী রাজাকাররা খুশীর মৃতদেহটি শিয়াল-কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর জন্য রাজবাড়ী থানাকে নির্দেশ দিল। কিন্তু কলেজ পাড়ার জনৈক নজরুল গার্ডের সহায়তায় খুশীর বাবা অত্যন্ত কৌশলে খুশীর মৃতদেহটি রাজবাড়ী থানা থেকে বের করে এনে রেলওয়ে কলোনীর কিছুটা দূরে জোড়া তালগাছের নীচে অতি তড়িঘড়ি করে মাটিচাপা দিয়ে পশুদের আক্রোশ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহটি রক্ষা করল। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশীর অসীম সাহসিকতাপূর্ণ এই ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আবেগতাড়িত করল। তারা হয়ে উঠল আরো উদ্যমী, আরো সাহসী, যেন বিদ্যুতের ঝলক উঠল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শুরু করলো ছোট ছোট অপারেশন। অপারেশনগুলোতে দ্রুত সফলতা আসতে শুরু করল। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মার খেতে খেতে বিহারীরা আবদ্ধ হয়ে পড়ল আটাশ কলোনী, নিউ কলোনী, রেলস্টেশন, লোকসেড, রাজবাড়ী বাজার এই সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে। অবশেষে ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে রাজবাড়ী মুক্ত এলাকা বলে ঘোষিত হলো। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশীর রাজবাড়ীতে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অধিক সময় পর রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আলী চৌধুরী দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের দেহাবশেষ পুনরায় উত্তোলন করে সম্পূর্ণ ধর্মীয় মতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুরনো কবরটির কিছু দূরে রাজবাড়ীর মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশীকে সমাধিস্থ করে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে সম্মান প্রদর্শন করলেন।

 

লেখক পরিচিতি :-  বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মরহুম মনাক্কা চেয়ারম্যানের মেজপুত্র।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :-  এই লেখাটি লেখায় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়ায় বড় ভাই বিশিষ্ট লেখক ডাঃ মোসাদ্দেক আহম্মদ ও ভগ্নিপতি আজিজুল ইসলাম খান লাবলুর প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা।

 

 

 

আপডেট : সোমবার অক্টোবর ১৩,২০১৪/ ০৪:৫০ পিএম/ আশিক

 

 

 


এই নিউজটি 1174 বার পড়া হয়েছে

Comments

comments