বেশী বাড়াবাড়ি করলে তোকে ও তোর দুই সন্তানকে পরপারে পাঠিয়ে দেব : আমি আওয়ামীলীগ করি,পুলিশ আমাকে ধরবে না

|রাজবাড়ী নিউজ24

প্রকাশিত: ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ ,২১ অক্টোবর, ২০১৪ | আপডেট: ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ ,২১ অক্টোবর, ২০১৪
পিকচার

নিজস্ব প্রতিবেদক : থানায় মামলা করার পরও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। অথচ পুলিশ আসামীদের ধরছে না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আজকে মানববন্ধনের পূর্বে মামলার প্রধান আসামী আনোয়ার হোসেন হুমকী দিয়ে বলেছে, আমি আওয়ামীলীগ করি। পুলিশ আমাকে ধরবে না, মানববন্ধন-সমাবেশ করে কোন লাভ হবে না। বেশী বাড়াবাড়ি করলে তোর স্বামীর মত তোকে ও তোর দুই সন্তানকে পরপারে পাঠিয়ে দেব। তুই ঘরে চুপ চাপ থাক। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার চাই। গতকাল রবিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আয়োজিত আলাউদ্দিন হোসেন জিন্নাহ হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তার স্ত্রী ও মামলার বাদী আন্না বেগম এ কথা বলেন।

এ মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন জিন্না হত্যা মামলার বাদী আন্না বেগম, মাসুদ রানা রিয়াদ, খলিলুর রহমান। উপস্থিত ছিল নিহতের জমজ ৫বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার মিম।

উল্লেখ্য, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও সৌদি আরব প্রবাসী ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন হোসেন জিন্নাহ। দীর্ঘ ১৮বছর সৌদি আরবে থাকার পর বাড়ীতে এসে রামদিয়া বাজারে ব্যবসা শুরু করে। সরকারী রেজিষ্ট্রিকৃত ডাকযোগে মৃত্যু পরোয়ানার চিঠি প্রেরন করে। ইসলামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ছব্দালের ছেলে মোঃ আনোয়ার ও নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের চাঁদ মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬জন চাঁদাদাবী করে আসছিল। তাদের দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় জিন্নাহকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার পরিকল্পনা করে সুযোগ খুঁজতে থাকে। ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনোয়ার ও রাজিব মোটর সাইকেল যোগে জিন্নাহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায়। কথা আছে বলে ডাক দিলে জিন্নাহ সরল বিশ্বাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে রামদিয়া-বহরপুর সড়কের গ্রামীন ব্যাংকের সামনে এগিয়ে যায়। যাওয়া মাত্র অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আনোয়ার ও রাজিব তাদের মোটর সাইকেলে উঠতে বাধ্য করে। মোটর সাইকেলে উঠিয়ে বহরপুরের দিকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। রাত অতিবাহিত হলেও বাড়ীতে ফিরে না আসায় খোজাখুঁজি করে জানতে পারে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে একটি মৃত দেহ পড়ে আছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে জিন্নাহের মৃত দেহটি সনাক্ত করে।

তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ও কর্মচারীরা জানায়, ২জন অজ্ঞাত লোক জিন্নাহের লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহৃ ছিল। রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।

আলাউদ্দিন হোসেন জিন্নাহকে আনোয়ার ও রাজীব পরস্পর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাত আসামীদের সহযোগিতায় খুন করে লাশ গুম করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে সদর হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়। স্বামীর মৃত্যুতে শোকে বিমর্ষ ও শোকবিহব্বল থাকায় এবং বালিয়াকান্দি থানায় মামলা না নেওয়ায় নিহত আলাউদ্দিন হোসেন জিন্নাহর স্ত্রী আন্না বেগম বাদী হয়ে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ী ১নং আমলী আদালতে মিসপি-৪৯০/১৩ইং মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বালিয়াকান্দি থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। দীর্ঘসময় কাল ক্ষেপন করার পর অবশেষে বালিয়াকান্দি থানায় গত ৪ জুলাই-২০১৪ নিয়মিত মামলা রেকর্ড হয়। থানার এস.আই আতাউর রহমান মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন।

 

 

আপডেট : মঙ্গলবার অক্টোবর ২১,২০১৪/ ‌০৯:২৪ এএম/ আশিক

 

 


এই নিউজটি 1200 বার পড়া হয়েছে
[fbcomments"]