বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক সপ্তাহ ধরে রাজবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা মানুষের ব্যাপক ভিড় বেড়েছে। জনবল সংকট থাকায় কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।
আগে প্রতিদিন গড়ে যেখানে শতাধিক মানুষ সেবা নিতে আসতেন। এখন সেখানে দুই শতাধিক মানুষ সেবা নিতে আসছেন বলে পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন পাসপোর্ট কিংবা নবায়নে নতুন করে ডাটা এন্ট্রি করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের জন্য চোখের আইরিশসহ ছবি তোলা হচ্ছে নতুন করে। প্রতিটি কাজে গড়ে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগছে। এর মধ্যে সার্ভার ডাউনসহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত বিড়ম্বনাও সঙ্কট তৈরি করছে। অধিক সংখ্যক গ্রাহক আসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে রাজবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের মেইন ফটকের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন দুই শতাধিক গ্রাহক। প্রাচীরের গা ঘেঁষে রয়েছে ছেলে মেয়েদের আলাদা লাইন। গ্রাহকদের অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
পাসপোর্ট করতে আসা গোয়ালন্দের নগর রায়ের পাড়া গ্রামের গ্রাহক সুবোল বলেন, সামনে পূজা। তাই পরিবার নিয়ে ভারতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছি।
অপর গ্রাহক মিতা রানী বলেন, চাপা ভয়ে আগেভাগে পাসপোর্ট করে রাখছি। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, না আমরা এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. আবজাউল আলম বলেন, অসুস্থ, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেওয়ার জন্য অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী পাসপোর্ট অফিসের জনবলসহ অন্যান্য যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতিদিন ১০০ জন সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়া সম্ভব। আর যদি রাত পর্যন্ত কাজ করা হয় তাহলে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব।
মো. আবজাউল আলম আরও বলেন, পুরো পাসপোর্ট অফিসের সিসি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক সচল রেখেছি। বাড়িতে বসে আমার সরকারি হোয়াটস্অ্যাপ নাম্বারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকি। এ ছাড়া ই-কিউ (ইলেকট্রনিক কিউ) টোকেন স্লিপ দেয়া হয়ে থাকে। যাতে কেউ দালালের খপ্পরে না পড়ে। সেবাপ্রত্যাশী আমার রুমে এসেও সেবা নিতে পারবেন। আমি দালালমুক্ত রাজবাড়ী পাসপোর্ট অফিস উপহার দিব।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পদ রয়েছে ৮টি। যার মধ্যে ৩টি পদ শূণ্য রয়েছে। মাত্র ৫ জন জনবল দিয়ে চারটি বাই স্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গ্রাহকের পূর্বের পাসপোর্টে ভুল, গোপন নম্বর সংশোধনসহ একাধিক পাসপোর্ট করার ব্যাপারে আমরা সচেতন থেকে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে জনবলের এ চরম সঙ্কট নিয়েও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজবাড়ী পাসপোর্ট অফিস প্রায় ২১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।